রাত ০৯:০৮ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

সিলেট বিভাগে ৩ মাসে ৯২ ধর্ষণ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট॥ সম্প্রতি সিলেট বিভাগে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) হিসাবে, গত তিন মাসে সিলেট বিভাগে ৯৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় কেবল সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালেই গত তিন মাসে মামলা হয়েছে ৩৩টি। অশিক্ষা, দারিদ্র্য ও প্রেমজনিত পরিস্থিতির শিকার হয়ে বেশিরভাগ ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ওসিসি'র তথ্যে জানা গেছে, গত জুন মাসে ৩৬ জন, জুলাই মাসে ২১ জন ও আগস্ট মাসে ৩৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে ওসিসিতে ভর্তি হন। ২০১৩ সালের একই সময়ে (জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে) ধর্ষণের শিকার ৮০ জন ভিকটিম ওসিসি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। এই হিসাবে দেখা যায়, সিলেটে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলতি বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ৩৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে জুন মাসে ধর্ষণের অভিযোগে ৮টি ও গণধর্ষণের অভিযোগে ১টি মামলা, জুলাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ১১টি ও গণধর্ষণের অভিযোগে ২টি এবং আগস্টে ধর্ষণের অভিযোগে ১০টি এবং গণধর্ষণের অভিযোগে ১টি মামলা হয়েছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জেও বেশ কিছু নারী নির্যাতন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে ওই সব জেলায় মামলার প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। গবেষণার তথ্য দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সিলেট বিভাগে নারী নির্যাতনের হার ঊর্ধ্বমুখী। দারিদ্র্য, যৌতুক, বহুবিবাহ ও অশিক্ষা এর মূল কারণ। তাহমিনা বলেন, 'শাবিপ্রবি'র সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ওয়ার্কে এ তথ্য উঠে এসেছে। ধর্ষণ নিয়ে সমাজকর্ম বিভাগের পক্ষ থেকে স্পেসিফিক কোনও কাজ হয়নি। তবে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।' তাহমিনা জানান, সিলেট নগরীতে অনেক বস্তি গড়ে উঠেছে। এসব বস্তির বাবা-মায়েরা যখন কর্মস্থলে চলে যায়, তখন তাদের কিশোরী মেয়েরা অনেকটাই অরক্ষিত থাকে। এটাও পাশবিকতা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ। এছাড়া, সিলেটে বিভিন্ন অঞ্চলে থেকে লোকজন এসে বসবাস করতে শুরু করাও এক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা। তবে, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওসিসি’র কার্যক্রম ‘রেসট্রিকটেট’ থাকায় তারা সেখান থেকে তেমন কোনও তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন না। সিলেটের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, 'সিলেটে অধিকাংশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে প্রেমঘটিত কারণে। আর এর শিকার হচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরীরা। অনেক কিশোরীর বাবা-ভাইয়েরা প্রবাসে থাকে, যে কারণে বয়োসন্ধিকালে তারা প্রেমিক কিংবা সহপাঠীদের সঙ্গে বাসা-বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সাহস পায়। অনেক ক্ষেত্রে তারা লিপ্ত হয়ে যায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে।' প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, 'অনেক প্রবাসী নববধূকে রেখে প্রবাসে চলে যায়, এটা সিলেট অঞ্চলের ধর্ষণের ফিগার বাড়ার পেছনে মূল কারণ।' তবে সিলেটে পাশবিকতার হার আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে কম বলে দাবি করেন তিনি। সিলেট উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন জানান, নির্যাতিত নারী কিংবা শিশুদের ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াও তারা সাপোর্ট সেন্টারে ৬ মাস থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। ওসিসি’র জনৈক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কেবল চিকিৎসা এবং আইনি সহায়তাই নয়, সংশ্লিষ্ট ভিকটিমকে কাউন্সেলিং করাও তাদের দায়িত্বের আওতায় পড়ে। ওই কর্মকর্তা জানান, 'ওসিসিতে যারা আসে-তারা মেহমান হয়ে আসে। তাদের মেহমানদারি করা আমাদের দায়িত্ব।' /এফএস/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।