দুপুর ০৩:২৮ ; রবিবার ;  ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮  

সাগরতলে হারিয়ে যাওয়া মিশরীয় নগর!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বিদেশ ডেস্ক॥ চীনের এক প্রচীন নগরীর পর এর ভূমধ্যসাগরে আরেক নগরীর সন্ধান মিলল। ভূমধ্যসাগরের তলদেশে ঐতিহাসিক গ্রিক হেরোডোটাস কথিত মিশরের বন্দর নগরী হেরাক্লিয়নের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। সাগর তলে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন এ শহরের সন্ধান পেয়েছেন ফরাসি পুরাতত্ত্ববিদ ফ্র্যাঙ্ক গড্ডিও। এতদিন পর্যন্ত অসংখ্য প্রাচীন মিথ-পুঁথি ও শিলালিপিতে হেরাক্লিয়ন শহরের উল্লেখ ছিল। কিন্তু ইতিহাসের গোলক ধাঁধায় হারিয়ে যাওয়া হেরাক্লিয়ন নগরীর অস্তিত্ব নিয়ে ঐতিহাসিক মহলে নানা সংশয় ছিল। th ইতিহাস অনুযায়ী, ৩৩১ খ্রিস্টপূর্বে আলেক্সান্দ্রিয়া বন্দর প্রতিষ্ঠার বহু আগে গ্রিস থেকে মিশরে ঢোকার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দর হিসেবে বিখ্যাত হয়ে ওঠে এই শহর। শুধু তাই নয়, প্রাচীন মিশরীয় দেবতা আমুন-এর মন্দিরের জন্যও বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ছিল হেরাক্লিয়নের। ঐতিহাসিকদের মতে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকের কাছাকাছি ভূমধ্যসাগরের তীরে এই বন্দর নগরী গড়ে ওঠে। মিশরীয়রা এই শহরকে 'থনিস' নামে চিনতেন। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে তার উল্লেখ পাওয়া যায় গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের লেখায়। তার মতে, এখানেই প্রথম মিশর রাজ্যে পা রাখেন গ্রিক পৌরাণিক বীর হেরাক্লেস। সাগরপারে আমুন-এর সুবিশাল মন্দিরের বর্ণনাও মেলে হেরোডোটাসের লেখায়। lost-city-of-heracleion-egypt-franck-goddio-6 ট্রয়ের যুদ্ধের আগে প্রেমিক প্যারিসের সঙ্গে এই শহরে এসেছিলেন স্বয়ং ট্রোজান সাম্রাজ্ঞী হেলেন। ফ্র্যাঙ্ক গড্ডিওর হাত ধরে অবশেষে নিজ অস্তিত্ব প্রমাণ করল এক সময়ের সমৃদ্ধির শীর্ষে থাকা বাণিজ্য নগরী থনিস-হেরাক্লিয়ন। ২০০০ সালে ভূমধ্যসাগরের গভীরে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রাচীন সভ্যতার কিছু নিদর্শন প্রথম নজরে আসে ড. গড্ডিওর নেতৃত্বে ফ্রান্সের এক পুরাতাত্ত্বিক দলের। আলেক্সান্দ্রিয়ার অদূরে আবুকির উপসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের ৩০ ফুট গভীরে পাওয়া যায় বেশ কিছু অতীত সভ্যতার চিহ্ন। এরপর ওই এলাকায় বিস্তারিত ভূপ্রাকৃতিক অনুসন্ধান চালানোর পর বিশেষজ্ঞরা গ্রিক ও মিশরীয় পুরাণ বর্ণিত হেরাক্লিয়ন শহরের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হয়েছেন। lost-city-of-heracleion-egypt-franck-goddio-7 সাড়া জাগানো এই আবিষ্কারের ফলে সাগর তলা থেকে উঠে এসেছে বহু প্রাচীন দেবদেবির মূর্তি, মুদ্রা ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত নানা সামগ্রীর নমুনা। জানা গেছে, প্রাক মিশরীয় ও গ্রিক সভ্যতার সময়কার না জানা অনেক তথ্য। lost-city-of-heracleion-egypt-franck-goddio-5 সমুদ্রের তলদেশ থেকে পাওয়া নিদর্শন পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে দ্বিতীয় শতকে হেরাক্লিয়নের প্রাচুর্য তুঙ্গে ছিল। ওই সময়কার বেশ কিছু মুদ্রা ও চিনামাটির জিনিসপত্র বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে টেনেছেন  গবেষকরা। জানা গিয়েছে, মিশরে প্রবেশের পথে হেরাক্লিয়ন বন্দরে অসংখ্য জাহাজ ভিড়ত। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৭০০ বেশি প্রাচীন নোঙর এবং অন্তত ৬০টি বিধ্বস্ত জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া। /এএ/এসটি

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।