রাত ১০:১৬ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

স্বামী-সংসার-সন্তান ত্যাগ করবো, তবু মদ ছাড়বো না!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক॥ অভাবের সংসারে অর্থের জোগান দিতে গ্রাম ছেড়ে দিল্লি গিয়েছিলেন রামচরিত। সেখানে তিনি মজদুরির কাজ শুরু করেন। ওদিকে দুই সন্তানসহ বাড়িতে রেখে যাওয়া তার স্ত্রীও বসে রইলেন না। তিনি চোলাই মদ বানিয়ে বেচা শুরু করলেন। খাদ্য-পানীয় ধরনের সামগ্রী তৈরির সময় এর স্বাদ বা ঝাঁঝের তীব্রতা যাচাই করতে হয়। তো রামচরিতের ঘরের সেই মদ ফ্যাক্টরির শ্রমিক-মালিক ছিলেন একজনই-- তার স্ত্রী। আর তাই চোলাই বানাতে গিয়ে এর 'কোয়ালিটি কন্ট্রোল' করতে তাকেই চেখে দেখতে হতো। ধীরে ধীরে এই চেখে দেখার মাত্রা বাড়তে থাকলো। একপর্যায়ে তিনি হয়ে পড়লেন আসক্ত। রবিবার প্রকাশিত খবরে নবভারত টাইমস জানায়, অবস্থা এমন পর্যায়ে গেল যে তার নেশাসক্তির প্রভাব পড়তে থাকলো বাচ্চাদের ওপর। দুনিয়া জুড়ে প্রায় সিনেমা-নাটক-নভেলে মদের নেশায় এভাবে পুরুষের বখে যাওয়ার ভুড়ি ভুড়ি বয়ান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ঘরের বউয়ের এমন আসক্তি ঠেকাতে গিয়ে রামচরিতের নিজের অবস্থাই বেসামাল হয়ে যায়। ঘরসংসার উচ্ছন্নে যাওয়ার পর্যায়ে। এই নিয়ে বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া। কাইজ্যার সূত্রে প্রায়ই বউ ছুট দেয় বাপের বাড়ি। নিজের সব চেষ্টা ব্যর্থ। এবার পঞ্চায়েতে বিচার দিলেন তিনি। পঞ্চায়েতের নেতারা নানান কায়দায় তার বউকে বোঝাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু না, তিনি মদ কোনও মতেই ছাড়বেন না। পঞ্চায়েতের সব ধরনের কায়দা-কৌশলের জবাবে তিনি ঘোষণা দিলেন-- প্রয়োজনে স্বামী আর সন্তানদের ছাড়তে পারি, কিন্তু মদ! কক্ষনো নয়। পুরো গ্রামের লোক আর পঞ্চায়েতের অনুরোধ পায়ে ঠেলে তিনি সেই সিদ্ধান্তেই অটল আছেন এখনও। ভারতের উত্তর প্রদেশের ফয়জাবাদ জেলার মনোরমা নদী পাড়ের বসা উভাই গ্রামের সাম্প্রতিক এ ঘটনা বেশ হইচই ফেলে দিয়েছে এলাকায়। জানা গেছে, দেশি মদের জন্য ওই গ্রামটার খ্যাতি-কুখ্যাতি রয়েছে বেশ। গ্রামের অধিকাংশ ঘরেই তৈরি হয় চোলাই। গ্রামের নারী পুরুষের বিরাট অংশ রামচরিতের বউয়ের মত না হলেও কম বেশি চোলাই আসক্ত। রামচরিতের স্ত্রীর নাম প্রকাশ করেনি মিডিয়া। /একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।