বিকাল ০৫:২৬ ; বৃহস্পতিবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৯  

শিশুদের ওপর মানসিক নির্যাতন শনাক্ত করা প্রয়োজন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

উদিসা ইসলাম ॥ নবম শ্রেণির ছাত্র রেহান (ছদ্মনাম) শৈশব থেকেই নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। নিজের অন্তর্মুখী স্বভাবের কারণ হিসেবে পরিবারের কাছ থেকে যথেষ্ট মনোযোগ না পাওয়াকেই দায়ী করে সে। অনেক চেষ্টা করেও সে তার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলার বা তাদের কিছু বোঝানোর মতো সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। পনের বছরের রেহান সবসময়ই এক ধরনের ভীতির মধ্যে থাকে, কারণ তার মা-বাবা বাসায় ঘটা যে কোন ভুলের জন্য প্রথমে তাকেই দায়ী করেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগই তারা তাকে দেন না। ক্রমাগত অপমানের মধ্যে থাকতে থাকতে রেহানের মাঝেমধ্যেই মনে হয় তার বাবা মা তাকে নিজের সন্তান বলেই মনে করেন না। জন্মগতভাবে তোতলা হওয়ার কারণে তার বড়ভাই ছোটবেলা থেকেই তাকে ব্যঙ্গ করে আসছে। তার মা সেটা জেনেও কোনও রকম প্রতিকার করেননি। ক্রমে দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের প্রভাব পড়ে রেহানের ওপর। এক পর্যায়ে সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, শুরু করে মাদক সেবন। পুরো বিষয়ের সঙ্গে না পেরে একসময় সে আত্মহত্যারও চেষ্টা করে। সময়মতো চিকিৎসা পেয়ে বাসায় ফিরে এলেও সে নিজের ঘরে একা সময় কাটায়, পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলতে চায় না। রেহানের গল্প এই সমাজে মোটেও দুর্লভ কিছু নয়। কেননা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পিতামাতার মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। এ দেশে অনেক সময়ই শিশুরা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, দোষারোপ, একা থাকতে বাধ্য করাসহ নানা রকম মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বাবা-মা এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক মনে করলেও, শিশুদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। তারা দাবি করেন, মানসিক নির্যাতনকে “ব্যক্তিগত বিষয়” মনে করে অনেক সময়ই শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের চেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। গবেষকরা বলেন, এ ধরনের সমস্যার সবচেয়ে ফলপ্রসূ সমাধান হতে পারে বিভিন্ন সামাজিক সেবা সমিতির নিয়মিত হারে এই পরিবারগুলোতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মির্জা ফারজানা ইকবাল চৌধুরীর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, সরকারসহ এনজিওগুলোও শিশুদের ওপর মানসিক নির্যাতনকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সমানভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পারিবারিক মানসিক নির্যাতনের স্বরূপ উন্মোচনের মাধ্যমে শিশুর সুরক্ষা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে করা এই গবেষণায় ফারজানা এ সব ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও সুপারিশ করেন। পারিবারিক নির্যাতন (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ অনুযায়ী, অপমান, হেনস্তা, হুমকিসহ মানসিক নির্যাতনকে মৌখিক নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। /ইউআর/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।