রাত ০৮:৫৬ ; রবিবার ;  ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯  

আট মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৪১৫টি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

খুলনা প্রতিনিধি॥

খুলনায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমে বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের আট মাসেই নির্যাতন, ধর্ষণ ও পাচারের শিকার হয়েছে ৪১৫ নারী ও শিশু। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় পুলিশের উপস্থাপিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত আট মাসে ৫৪ জন সরাসরি ধর্ষণের শিকার, ২০ জন পাচার ও ৮ জন অপহরণের শিকার হয় বলে জানানো হয়েছে। খুলনা মহানগরীর ১৭টি থানায় এসব মামলা রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া সম্মানহানি, পুলিশকে জানালে নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার ভয়, বিচার না পাওয়ার শঙ্কাসহ নানা কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে থানায় অভিযোগ হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের প্রতিবেদনে জানা গেছে, খুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৪৩টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮টি, মার্চ মাসে ৫০টি, এপ্রিল মাসে ৫৮টি, মে মাসে ৩৮টি, জুন মাসে ৬৯টি, জুলাই মাসে ৭২টি ও আগষ্ট মাসে ৫৫টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

২০১৩ সালে ৭৫ জন ধর্ষণসহ ৪৭৬ জন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০১২ সালে ৮০টি ধর্ষণসহ ৫৪৩ টি নির্যাতন, ২০১১ সালে ৫৫ ধর্ষণসহ ৩৭৮টি নির্যাতন, ২০১০ সালে ৬৫টি ধর্ষণসহ ৩২১টি নির্যাতন, ২০০৯ সালে ৪৫টি ধর্ষণসহ ২৮৮টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৫০০০ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অলোকানন্দা দাস বলেন, ''সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদকাসক্তিসহ নানা কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। প্রায়ই পুলিশ আদালতে ধর্ষণ মামলায় ফাইনাল প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়।''

এদিকে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত খুলনায় বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া ১৯৫ জন নারীকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে শিশু ১৪১টি ছিল। একই সময়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে ৮৬৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়। বর্তমানে ৮৩টি অভিযোগ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে ১৮টি নারী নির্যাতন ঘটনার মধ্যে ১৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে ৪টি মামলা আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপরদিকে নারী নির্যাতিন প্রতিরোধে মহিলা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় খুলনার রেলগেটে ৬৬ শতক জমিতে অফিস কাম শেল্টার হোমের জন্য একাডেমি ও ডরমেটরি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ''প্রভাবশালী মহলের চাপ, মামলার দীর্ঘসূত্রতা, অপরাধীর শাস্তি না হওয়া আর জনসচেতনতা সৃষ্টির অভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।''

/এমডিপি/এফএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।