সকাল ১১:২৪ ; মঙ্গলবার ;  ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯  

আমার দায়িত্ব বেড়ে গেল- সায়মা ওয়াজেদ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক॥ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস ও অটিজমের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও এর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের 'অ্যাওয়ার্ড ফর অ্যাকসিলেন্স অন পাবলিক হেলথ' পুরস্কার অর্জন করেছেন। অটিজম মোকাবেলায় অসামান্য অবদানের জন্য তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। পুরস্কার গ্রহণের পর সায়মা ওয়াজেদ মুখোমুখি হয়েছিলেন চ্যানেল আইয়ের স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে। বলেছেন অটিজম নিয়ে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, যিনি পুতুল নামে বেশ পরিচিত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা। তাঁর সাক্ষাতকারটি বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। প্রশ্ন: এই বিশাল সম্মাননা পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি কী? উত্তর: আসলে অনুভূতি বলার চেয়ে আমি বলতে চাই আমার দায়িত্ব বেড়ে গেল। আর একটি সুযোগ পেলাম। আমি যাদের নিয়ে কথা বলি, যে পরিবারে অটিজম বা যেকোনও ধরনের ডিজ্যাবিলিটি রয়েছে তাদের কথা তুলে ধরার সুযোগ পেলাম। এই স্বীকৃতি আসলে আমার নয়। আমার শুরু থেকেই দায়িত্ব ছিল তাদের কথাটা যেন আমি প্রকাশ করি। তাদের দুঃখ বেদনা ও অন্যান্য বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। চেয়েছি বিশেষ মানুষগুলোর প্রতি মানুষের আচরণভঙ্গি যেন বদলাতে পারি। আমাদের হেলথ সেক্টরসহ ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ও অন্যান্য সংগঠনগুলোর মধ্যে বরাবরই এই বিষয় থেকে দূরে সরে থাকার একটা প্রবণতারয়েছে। এই বিষয়টা একটু অবহেলিত। মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগটি অবহেলিত। তবে সম্প্রতি মানসিক প্রতিবন্ধী বা অটিজম নিয়ে বেশ কাজ শুরু করেছে। প্রশ্ন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পুনম ক্ষেত্রপাল বলেছেন, আপনি এই অঞ্চলে অটিজম প্রতিরোধে মূল চালিকা শক্তির ভূমিকা পালন করছেন। এই প্রশংসা কতটা অনুপ্রাণিত করছে আপনাকে? উত্তর: বলা যায় এটা একটা সেকেন্ড ওয়েভ। এতদিন ব্যক্তি উদ্যোগে কাজটি করে এসেছি। এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাকে সুযোগ দিচ্ছে অটিজম নিয়ে কাজ করার। তাদের এবং প্রত্যেকটা দেশের অটিজম ডিজ্যাবিলিটি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে যেন কাজ করতে পারি। একইসঙ্গে অটিস্টিক মানুষদের প্রয়োজনগুলোও যেন আমরা মেটাতে পারি সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন তাদের লেখাপড়া ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রশ্ন: আমরা জানি আপনি মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এরপর শিশু মনোবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেছেন। স্কুলেও কাজ করেছেন। এর মধ্যে অটিজম নিয়ে কাজ করার শুরুটা কী করে হলো? উত্তর: আমি মূলত একজন মনোবিজ্ঞানী। ক্লিনিকাল সাইকোলজিতে পড়াশোনা করেছি। সেখানে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা কাজ করেছি। আমি তখন আমেরিকায় ছিলাম। সেখানে মাস্টার্সে ক্লিনিকাল সাইকোলজি পড়লে বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করতে দেয় না। চাইল্ড সাইকোলজি পড়তে গেলে আরও ছয়-সাত বছর পড়াশোনা ও পিএইচডি করতে হয়। মাস্টার্সের পর স্কুল সাইকোলজি বলে একটা বিষয় ছিল। ওখানে তিন চার বছর পড়ে বাচ্চাদের স্কুলে কাজ করা যেত। আর বিশেষ করে সাইকোলজির অসংখ্য বিভাগ রয়েছে। কিছুদিন কাজ করার পর অ্যাসেসমেন্ট করা যায় কোন শাখায় কাজ করা যেতে পারে। আমার বিষয়টা একটু ইন্টারেস্টিং ছিল। আমি যখন মাস্টার্সে পড়ি তখন আমার মেয়েটা অনেক ছোট ছিল। আমার খুব কাছের একজন বন্ধুর ছেলের অটিজম ডায়াগনসিস হলো। আমার মেয়ে যখন কথা বলতে শুরু করে ছেলেটা তখনও কথা বলত না। এই বিষয়টা আমার সেই বান্ধবীই টের পায়। আমার ও বান্ধবীর হাসব্যান্ড বিষয়টা উড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমার বান্ধবী ঠিকই বুঝতে পারে ছেলেটির কোনও সমস্যা রয়েছে। একটা বিষয় কি, সন্তানের যাই হোক মায়েরা আগে বুঝতে পারে। ও সবসময় আমার সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করত। পরে দেখা গেলো ছেলেটার অটিজম। সেখানকার চিকিৎসকরা ছেলেটিকে একটি বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। ও ভীষণরকম হতাশ হয়ে পড়ে। সে বলে 'আমার এত ফুটফুটে ছেলে, তার জীবনে কিছু হবে না? এই ছেলেকে নিয়ে আমি হার মেনে যাব। ' আমার সেই বন্ধু নিজেও ডক্টরেট, প্রফেসর। সে এই বিষয় নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করল। পড়াশোনা করে আরও হতাশ হয়ে পড়ল। কারণ কোথাও লেখা ছিল না যে বিশেষ প্রতিষ্ঠানে না পড়ালেও তার কিছু হবে। আমাকে খুব দুঃখবোধ থেকে বলল, তোমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনা কি আমাকে একটু আশা দিতে পারল না? কোথাও কি কিছু লেখা নেই যে কী হতে পারে? ওর কি পড়ালেখা হবে না? এদিকে গত ১০ বছর অটিজম নিয়ে প্রচুর কাজ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। ব্রেনের ওপর এখন প্রচুর গবেষণা হয়েছে। কথা বলতে পারে না বলে যে পড়তে পারবে না এমন না। অবাক বিষয় হচ্ছে, ছেলেটা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে। কোন সাবজেক্ট পড়ছে, সেটা আমি জানি না। তবে ফুলব্রাইট স্কলারশিপ তো এমনি এমনি পায় না। ও স্কুলের বেসবল টিমেও খেলত। ওর বাবা মা কোনও দিন ওকে বুঝতে দেয়নি যে ওর অটিজম সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। ও জানে ওর কিছু সমস্যা রয়েছে। ওকে নিয়ে ওর মা প্রচুর লড়াই করেছেন। যাতে ও ঠিক সার্ভিস পায় সেজন্য ওর মা প্রচুর কষ্ট করেছেন।কখন কী থেরাপি ওর দরকার সেটি নিয়েও কাজ করেছে। ল্যাংগুয়েজ থেরাপি, ওকিউপেশনাল থেরাপি থেকে শুরু করে সব ধরনের থেরাপি তাকে দেওয়া হয়েছে। ও নিউট্রিশন নিয়েও পড়েছে। অনেক খাবার আছে যেগুলোতে অটিজম হতে পারে। ও কেমেস্ট্রির শিক্ষক। ও এগুলো ভালো বলতে পারবে।ওর কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বৈজ্ঞানিকভাবে অনেক গবেষণা ও করেছে। ও কোনও দিন আশা ছাড়েনি। আর অটিজম নিয়ে আমরা পুরোমাত্রায় আশাবাদী হতে পারিনি এখনও। বিষয়টা এত জটিল। অটিজম বিষয়টা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজাব্যালিটিতে প্রতিটা ব্যক্তির আলাদা আলাদা সিন্ড্রোম দেখা দেয়। কারও কারও ভাষাগত, আচরণগত অনেক পার্থক্য থাকে। সব অটিস্টিক শিশু একই আচরণ করে না। বিষয়টা খুবই বিচিত্র। এই কারণে অটিজমের যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। যখন ইন্টার্নশিপের কাজ শুরু করি, তখন অনেক গরীব এলাকায় কাজ করি। প্রাইভেট সাইকোলজিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করি। সেখানে অনেক রোগী পেয়েছি। যারা স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যেত কিন্তু চিকিৎসার টাকা থাকতো না। তাদের সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। প্রশ্ন: আপনাকে এখন আমরা আমাদের হেলথ অ্যাডভোকেট বলেই দাবি করতে পারি। এই অবস্থান থেকে অটিজম নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী? উত্তর: আমাদের দেশে অনেক অটিজম সেন্টার আছে। দুটো গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশে ডিজাব্যালিটি নিয়ে অনেক সংস্থাই আলাদা আলাদা করে কাজ করেন। কিন্তু আলাদা করে খুব বেশি আগাতে পারব না। তবে আমরা যদি সবাইকে এক করতে পারি, একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারি তবে হয়তো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। ওই ফিলোসফি নিয়েই আমি এগিয়েছি। চেষ্টা করেছি সবাইকে এক করতে। একটু লিডারশিপ নিয়েছি। এভাবে করে যাওয়া কাজের মডেলটাই আমি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেছি। আর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে আলাদা আলাদা গবেষণা করাতে পারি। আরেকটা বিষয়যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। কেউ, এভিডেন্স বেসড কাজ করে, কেউ আর্লি ডিটেকশন নিয়ে নানান টেকনিক তৈরি করেছে। কোনও দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ, কারও স্যোশাল সেক্টর ভালো কাজ করছে। তারা কোন কাজ করে কস্টইফেক্টিভ বা সাস্টেনেবল কাজ করছে। এই সব কিছু নিয়ে ইনকর্পোরেট করে কাজ করতে পারলে হয়তো ভালো একটা মডেল দাঁড়াবে। আমাদেরও ভালো একটা কিছু ওদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি। আমরা যদি কোলাবরেশন করে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারি তবে সেটা খুব ভালো আগাবে। আরেকটা বিষয় কি, অনেকেই মনে করে অটিজম হয়তো শুধু রিসার্চের জন্য দরকার হয়। কিন্তু যে কোনও প্রতিবন্ধকতার জন্য একটা অ্যাকসেস দরকার। ফিজিকাল ডিজ্যাবিলিটি নিয়ে প্রচুর কাজ হয়েছে। শারীরিকভাবে পঙ্গুদের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে অনেক কিছুই করা হয়েছে। কিন্তু অটিজম বিষয়টা একটু ভিন্ন। এই বিষয়গুলোকে ইনকর্পোরেট করে আনাই ছিল আমার চেষ্টা। আরেকটা বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্য বিষয়ে উদ্যোগ। শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার সময়ই অটিজমের লক্ষণ বিষয়ে কাজ করা যায়। ডেকেয়ার সেন্টার বা শিশুদের স্কুলে অনেক মায়েরা জড়িত। এক্ষেত্রে কাজ করা যেতে পারে। অটিজম খুঁজে বের করা, সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। ওখানে মায়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। মা হিসেবে বুঝতে হবে কোন জিনিসটা দেখে সে বুঝবে যে তার সন্তানের সমস্যা আছে। আপনি ডাক্তারের কাছে যদি যান, প্রশ্ন যদি ঠিক মতো না করতে পারেন, তবে ডাক্তার সাহায্য করতে পারবে না। বিষয়টা সহজ কিছু না। আমাদের সব সময় বিশেষ শিশুদের বিষয়ে একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমাজ খুব দ্রুত এগোচ্ছে। একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরেক দেশে অনুকরণ করা হচ্ছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, আগে এতো প্রতিযোগিতা ছিল না। আগে যারা একটু ভিন্নরকম ছিল তাদের সুযোগ ছিল সফল হওয়ার। এখন পরিস্থিতি পুরোটাই ভিন্ন। চারপাতা রচনা লিখতে বলছে তাই লিখতে হবে। নামতা না জানলে অংকে পাশ করতে পারবে না। কিন্তু যে স্বাভাবিকভাবে নামতা শিখতে পারবে না তার জন্য ভিন্ন একটি পরিকল্পনাও তো আমাদের রাখতে হবে। প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে সহজসাধ্য বিষয় আমরা বেছে নেই। তবে আমেরিকা অনেক বছর গবেষণা করে ভুল করতে করতে একটি শিক্ষা ব্যবস্থা দাঁড় করাতে পেরেছে। আমরা যদি ওদের ভুলগুলো এড়িয়ে কাজ শুরু করতে পারি, তবে বের করতে পারবো, কোনটা আমাদের জন্য সবচেয়ে সেরা হবে। প্রথমেই প্রয়োজন প্রয়োগ। সবার সমানাধিকারও দরকার। স্বাভাবিকদের মতো বিশেষদেরও সব জায়গায় প্রবেশাধিকার দরকার। এটা বলা সহজ কিন্তু করা কঠিন। আমরা যদি প্রতিবন্ধীদের আলাদা করে কাজ শুরু করি, তবে আলাদা করে আগাব কী করে সেটি নিয়েও ভাবতে হবে। তাদের আলাদা করে সুযোগ দিতে গেলে আমাদের তো পরিবার ও দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে। প্রশ্ন: আপনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কখনও গণমাধ্যমকে ব্যবহারের কথা ভেবেছেন কি? উত্তর: আমি কিন্তু প্রথমদিন থেকে মিডিয়াকে ব্যবহার করছি। যদিও আমি মিডিয়ার সামনে আসতে চাই না। ২০১১ সালে অটিজম বিষয়ে সম্মেলন করার পর মিডিয়াতে এত সাক্ষাৎকার দিয়েছি। এর একটাই কারণ যে, সবার বিষয়টা নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। আমি খুব আশাবাদী ছিলাম বিষয়টা নিয়ে সাড়া পড়বে। আমার প্রতিটি সাক্ষাৎকারের পর একটা অনুরোধ থাকে যে, যেহেতু আমার পরিবারে কোনও অটিস্টিক কেউ নেই, আমার অভিজ্ঞতা আর সেইসব পরিবারের অভিজ্ঞতা এক নয়। তাই আপনারা তাদের সাক্ষাৎকার নেন যারা বিষয়টা ফেস করছে। তাদের কাহিনী তুলে ধরেন। গণমাধ্যমের আরও একটু বেশি ভূমিকা রয়েছে। আপনারা যদি কষ্ট পাওয়া লোকদের বিষয়গুলো তুলে ধরেন তবে সেটা অনেক ভালো হবে। কারণ ঘোড়াকে যেমন ঠুলি পরিয়ে দেওয়া হয় তেমন করে থাকা সোজা। কিন্তু সামনে থেকে সত্য দেখা কঠিন। সেটাই আমাদের করতে হবে। প্রশ্ন: এবার একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাছে রাজনীতিক। আপনার কাছে তিনি মা। আমরা জানতে চাই তিনি মা হিসেবে কেমন? উত্তর: আমার কিন্তু আসলে দুইটা মা। আমার খালাও আমার মা। যেহেতু মা রাজনীতিতে ছিলেন। আমাদের পাঁচ ভাইবোনের দায়িত্ব ছিল আমার খালার। একজন দেশের দায়িত্ব নিলে আরেকজনকে বাচ্চাদের দায়িত্ব নিতে হয়। ছোট থেকেই আমরা খালার কাছেই মানুষ। আমার মাও আমাদের বিষয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে গেলে খালাকে জিজ্ঞাসা করেন। তবে আমি মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে ভরসা করেছেন। এত বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। শুরুতে হয়তো তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি আমি আসলে কী করতে চাইছি। কিন্তু তাও আমাকে বিশ্বাস করে এই সুযোগ দিয়েছেন, সমর্থন করেছেন বলেই আমি এগিয়েছি। আমি আমার মায়ের সঙ্গে তর্ক করি। কিন্তু খালার সঙ্গে করতে পারি না। হরদমই বকা খাই মায়ের। আসলে মা কেমন এই প্রশ্নটা আমার কাছে একটু কেমন যেন লাগে। মা তো মা। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হোন আর যাই হোন, তিনি একজন মায়ের মতোই। আর সব মায়েদের মতো তিনিও চাইতেন আমি লেখাপড়া করি, নিজের পায়ে দাঁড়াই, আমার সংসার হোক। উনাদের জীবনে অনেক বড় ধাক্কা ছিল, তাই উনারা শিখিয়েছেন কোনও কিছুর ওপর নির্ভর না করতে। তারা যে সারাজীবন থাকবেন এমনটাও নয়। আমাদের সবসময় মা আর খালা বলতেন যেকোনও মুহূর্তে তারা চলে যেতে পারেন। বলতেন 'হঠাৎ একদিন দেখবে আমরা নেই।' উনারাও তো একদিন দেখেছিলেন তাদের কেউ নেই। তাই সবসময় শিখিয়েছেন, নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি আর দেশের জন্য কিছু করতে পারি, এমন শিক্ষাই পেয়েছি আমরা পাঁচ ভাইবোন। প্রশ্ন: আপনি একটি রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছেন। পরিবারের মোটামুটি সবাইকেই সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে দেখেছেন। আপনি নিজেও দেশের জনগণের জন্য কাজ করছেন একটু ভিন্নভাবে। আপনার এই কার্যক্রমকে পরিবারের সবাই কিভাবে দেখছে? আর অন্যদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে আপনি কী করে দেখছেন? উত্তর: আমার জন্য তো খুবই সুবিধা হয়েছে যে, আমি মনোবিজ্ঞান বেছে নিয়েছি । আমার ওপর রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার কোনও চাপ নেই। আর ইচ্ছাও নেই রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার। তবে ২০১০ সালেও আমাকে টিভি সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে আমি না করতাম। মা প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন তখন সবাই আমার অনুভূতি জানতে চাইছিল। আমি ওটুকুও বলার সাহস পেতাম না। আমি খুব লাজুক একজন মানুষ। ছোটবেলা থেকেই এমন। এই বিষয়টা অর্থাৎ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যে কথা বলতে হবে সেটা বলেই বলছি। ২০১১ সালে যখন প্রথম সম্মেলন করার কথা বললাম, খালা বলেছিলেন সত্যিই করতে চাও? তখন তিনি বললেন, 'যদি সত্যিই করতে চাও তবে পুরোপুরি করতে হবে, অর্ধেক করে ফেলা যাবে না।' আমি অবশ্য নিজেও চিন্তা করিনি যে এতটা করতে হবে। তবে খালা সেটা ভেবেছিলেন। এখন নিজেই অবাক হই যে আমি করছি। আমার ভাইবোনরাও খুব অবাক হয়। প্রশ্ন: আপনার স্বপ্নের কথাটি যদি বলতেন। উত্তর: আমি মনে করি যে এই দুনিয়া ও দেশটি আমাদের সবার। যার যতটুকু সামর্থ আছে সবার জন্য জায়গা করে দিতে হবে, যে যেমনই হোক তাকে গ্রহণ করতে হবে। সমাজে আরও গ্রহণ করার ক্ষমতা, সহনশীলতা, সহানুভূতি বাড়াতে হবে। এমন করে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি জায়গা করে নেবে।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।