দুপুর ০১:৩৭ ; রবিবার ;  ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮  

দেশের ৯৯ ভাগ কম্পিউটারে বিজয় ব্যবহার হয়: মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥ দেশের ৯৯ ভাগ কম্পিউটারে বাংলা লিখতে বিজয় সফটওয়্যার ব্যবহার হয় বলে দাবি করে এর উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, বছরে শুধু সফটওয়্যারই বিক্রি হয় ২৫ হাজার কপি (বিজয় বায়ান্ন) আর উইন্ডোজ ও ম্যাকের জন্য বিক্রি হয় ৫শ' কপি। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে দেশে প্রতিমাসে  কিবোর্ড আমদানি করা হয় ৪০ হাজার । এই কিবোর্ডে ইনস্টল করা থাকে বিজয় সফটওয়্যার। সে হিসাবে বছরে দেশে ৫ লাখের বেশি কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্য বিজয় ঢুকছে। তিনি জানান, উদ্ভাবনের পর (১৯৮৮) থেকে এখন পর্যন্ত বিজয়ের অসংখ্য সংস্করণ অবমুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ গেল বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় একাত্তর প্রকাশ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের হার্ডরওয়্যার পণ্যের বাজার আকার বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি হলেও বর্তমানে হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রি ৫০ শতাংশ কমে গেছে। গত বছর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বিক্রি ১০ শতাংশে নেমে আসে। পরবর্তীতে এ অবস্থা ভালো হলেও কম্পিউটার বিক্রি আর প্রত্যাশিত মানে উন্নীত হয়নি। প্রতিবছর যে পরিমাণ কম্পিউটার বিক্রি হয় তার মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ বিক্রি হয় দেশের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার বাজার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটি থেকে। মাঝে মাঝে বিশেষ উৎসব এবং মেলার সময়ে এ বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায়। বছরে যে পরিমাণ টাকার কম্পিউটার বিক্রি হয় তার বেশির ভাগ আসে ল্যাপটপ বিক্রি থেকে। এর পরিমাণ হতে পারে মোট বিক্রির ৭০ ভাগের বেশি। ল্যাপটপের চাহিদা দিন দিন বাড়ায় এর বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। ১৯৯৯ সালে দেশের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ কম্পিউটার বাজার কম্পিউটার সিটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কম্পিউটার বিক্রি বেড়ে গেছে। এক লাখ ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বাজার থেকেই প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি কম্পিউটার এবং এর যন্ত্রাংশ বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের কম্পিউটার বাজার, শান্তিনগরের ল্যাপটপ বাজার, মতিঝিলের কম্পিউটার মার্কেট থেকে প্রতিদিন অসংখ্য কম্পিউটার বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার বাইরের বাজারের মধ্যে এগিয়ে আছে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার কম্পিউটার বাজার। বিভাগীয় শহরগুলোর পাশাপাশি এখন জেলা শহরেও ছোট পরিসরে গড়ে উঠেছে কম্পিউটার বাজার। ডিজিটাল বাংলাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, গত ৫ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যথেষ্ঠ কাজ হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে ধারণাটি গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এটাকে একটা ইতিবাচক দিক বলে তিনি মনে করেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এর শুরুটা হয়েছিল যথেষ্ঠ নেতিবাচকভাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথে দুটি বাধা আছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, এর মাঝে আমলাতন্ত্র একটি বড় সমস্যা। মন্ত্রণালয়গুলো নিজেরা কাজ শুরু না করলে ডিজিটাল বাংলাদেশ কখনোই গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করা না গেলে এটা স্বপ্নই থেকে যাবে। তিনি বলেন, সরকার ও মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছা থাকলে ২০২১ সালের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। যদিও মন্ত্রণালয়গুলোর এ ধরনের কোনো উদ্যোগ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। শুনেছি মন্ত্রণালয়গুলোই এখন পর্যন্ত ই-ফাইলিং শুরু করেনি। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগেও শুরু হয়নি ই-ফাইলিং। তিনি বলেন, এভাবে আসলে হবে না। এর জন্য দরকার সমন্বিত উদোগ।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।