সকাল ০৮:১৫ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

যৌনপল্লী গিলতে 'হা' করে আছেন প্রভাবশালীরা, উচ্ছেদকৃতরা যাবে কোথায়?

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মাদারীপুর প্রতিনিধি॥

গত বছর ২৭শে আগস্ট মাদারীপুর যৌনপল্লীতে হামলা চালিয়ে পল্লীর বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে স্থানীয়রা। এ ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তুহারা যৌনকর্মীদের সহায়-সম্বল, আসবাবপত্রসহ বেঁচে থাকার কোনও কিছুই নিশ্চিত করেনি সরকার। ফলে ঠিকানাহীন যৌনকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। এতে তৈরি হয়েছে অধিকতর সামাজিক অবক্ষয়ের পরিস্থিতি।

মাদারীপুরের পুরানবাজার এলাকায় শত বছরের পুরনো ওই যৌনপল্লীতে ৫ শতাধিক যৌনকর্মী, তাদের ২ শতাধিক শিশু সন্তান ও পরিবার-পরিজনসহ প্রায় এক হাজার মানুষ বসবাস করছিলো। সেদিনের সেই হামলায় ৩৫ জনেরও বেশি যৌনকর্মী আহত হন। ভাংচুর করা হয় ২ শতাধিক বসতঘর। লুটপাট হয় যৌনকর্মীদের সহায়-সম্বল, আসবাবপত্রসহ বেঁচে থাকার অবলম্বন। ৫ শতাধিক যৌনকর্মীর অর্ধেকেরও বেশি মাদারীপুর ছেড়ে অন্য জেলায় চলে যান। এক থেকে দেড়শ যৌনকর্মী আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন মাদারীপুরের বিভিন্ন স্থানে। এদের মধ্যে অনেকেই ভাসমান যৌনকর্মী হিসেবে, আবার অনেকে গোপনে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বাসা-বাড়িতে যৌন ব্যবসা করছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে এমন ভাসমান যৌনকর্মীদের বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া যৌনকর্মীরা শহর ছেড়ে বিভিন্ন সময় গ্রামে গিয়েও স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হয়েছে। গ্রামের যুবক এমনকি কিশোররাও এসব ভাসমান যৌনকর্মীদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে অসামাজিক কাজে জড়িত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, কোনও যৌনকর্মী সহায়তার জন্য সেখানে না আসায় কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।'

যৌনকর্মীদের সংগঠন 'বান্ধবী নারী সংঘ'র সভানেত্রী মমতা রাণী কর্মকার এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমরা যারা বাড়ির মালিক, তারা এখন জীবনের হুমকিতে আছি। আমরা ১৫ থেকে ২০ জন মাটি আঁকড়ে পড়ে রয়েছি। কষ্ট করে যে জমি কিনেছি তার মূল্য এখন কয়েক কোটি টাকা। শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে আমাদের জমি হওয়ায় এখান থেকে উচ্ছেদ করতে পারলে কোটি কোটি টাকার সম্পদ পাবে। তাই একটি প্রভাবশালীমহল এই কাজ করেছে। এখন এখানে একটি মার্কেট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে তারা। এছাড়া আমাদের দায়ের করা মামলারও কোনও অগ্রগতি নেই। একটি মামলার বাদীকে হুমকি-ধামকি দিয়ে তা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। আরেকটি মামলার বিচার ঝুলে রয়েছে।'

মাদারীপুরের মানবাধিকার কর্মী সুবল বিশ্বাস বলেন, ‘স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্যুত হওয়া এই মানুষগুলো বেঁচে থাকতে চায়। বাঁচিয়ে রাখতে চান তাদের সন্তানদের। কিন্তু তাদের এখন নির্দিষ্ট কোথাও ঠাঁই হচ্ছে না, ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের সবখানে। নির্যাতিত যৌন কর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক অবক্ষয়ের আশংকা রয়েছে শতভাগ।’

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সমাজকর্মী বললেন, 'মাদারীপুর যৌনপল্লীর জমি গিলতে হাঁ করে আছেন প্রভাবশালীরা, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-- উচ্ছেদ হওয়া অসহায় মানুষগুলো যাবে কোথায়?'

/এমআর/একে/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।