সকাল ১১:৫০ ; বুধবার ;  ১৩ নভেম্বর, ২০১৯  

এখনও বই পায়নি মোহনগঞ্জের আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থীরা!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হানিফ উল্লাহ আকাশ ধ্রুব ,নেত্রকোনা॥ নেত্রকোনা জেলার হাওর বেষ্টিত উপজেলা মোহনগঞ্জে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে বছরের ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও বই পায়নি আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতায় গৃহীত 'রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রক্স) ফেইজ-২' প্রকল্পের অধীনে মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে চলতি শিক্ষা বর্ষে ৫১ টি আনন্দ স্কুল চালু করা হয়। এসব স্কুলের জন্য স্থান নির্ধারণ, ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকা তৈরি ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতেই বছরের প্রথম ৪ মাস চলে যায়। আনন্দ স্কুলের অফিস সহকারী মো. শরীফ জানান, ৫১টি আনন্দ স্কুলে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৫শ ৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭টি স্কুলে ২শ ৯৬ জনকে পুরনো বই দেয়া হয়েছে। বাকিরা এখনও বই পায়নি। অভিভাবকদের অভিযোগ, আনন্দ স্কুলের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর মুশফিকুর রহমানের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে এখন পর্যন্ত ১৪টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বা পুরনো কোনও বই দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মুশফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'বইয়ের জন্য প্রকল্প কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।' কিন্তু মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনার কলি নাজনীন জানান, আনন্দ স্কুলের পক্ষ থেকে বইয়ের জন্য আমার কাছে কোনও আবেদন করা হয়নি। ৫১টি আনন্দ স্কুলে ভর্তি হয় ১ হাজার ৫শ ৪৮ জন ছাত্র-ছাত্রী। গত ১মে থেকে ওই ৫১টি স্কুলে ক্লাস শুরু হয়। তবে সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের হাতে নতুন কোনও বই তুলে দিতে পারেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। অল্পকিছু পুরোনো বই দিয়ে কোনওরকমে চলছে অধিকাংশ আনন্দ স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের মাইজপাড়া আনন্দ স্কুলে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলে নেই কোনও সাইনবোর্ড, তোলা হয়নি জাতীয় পতাকাও। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুজন, মনি, আনার কলি, সোমা ও মুক্তা জানায় ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকে বই পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের নতুন বই দেওয়া হয়নি। যেসব পুরোনো বই দেওয়া হয়েছে তার বেশির ভাগই কাটাছেঁড়া। পাশের মাদ্রাসা থেকে ব্ল্যাক বোর্ড এনে কোনওরকমে ক্লাস চালাচ্ছেন শিক্ষক আল-মামুন। তিনি বলেন, 'নতুন বই না থাকায় ৩০ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে ৮ জনকে পুরনো বই দেওয়া হয়েছে।' সুয়াইর ইউনিয়নের ভরাম আনন্দ স্কুলের শিক্ষিকা শাম্মী আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, 'আমার স্কুলে ৩২ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে মাত্র ৮ জনকে পুরোনো বই দেওয়া হয়েছে, বইয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে।' আনন্দ স্কুলের অফিস সহকারী মো. শরীফ জানান, ৫১টি আনন্দ স্কুলে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৫শত ৪৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭টি স্কুলের ২শত ৯৬ জনকে পুরনো বই দেয়া হয়েছে। /এমআর/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।