সকাল ০৮:৫২ ; রবিবার ;  ১৭ নভেম্বর, ২০১৯  

"দেশের ৯৭ ভাগ মানুষের অাগ্রহ এম-কমার্সে"

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

টেক ডেস্ক॥ এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার ৫৪ শতাংশ জনসংখ্যা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ ও পাঠানো সেবা ব্যবহার করছে যা ভিয়েতনামে ৪৫ এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ শতাংশ। এই গবেষণার সবচেয়ে অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশ হলো ইন্দোনেশিয়া।

যখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতার বিষয়গুলো আসে তখন দেখা গেছে বাজারজুড়ে একটা বিশাল তারতম্য রয়েছে। বাংলাদেশের ৯৭ ভাগ মানুষ এই সেবাগুলোর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে এবং ১০০ ভাগ মানুষ এগুলো সম্পর্কে সচেতন আছে।

ঠিক কত ভাগ মানুষ নিজের মোবাইলফোন ব্যবহার করে অার্থিক লেনদেন করছে এ বিষয়টা দেখতে গিয়ে দেখা গেছে, খুবই কম সংখ্যক মানুষ সেটা করছে। বাংলাদেশে ৪ এবং ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে মাত্র ১ শতাংশ।

গবেষণায় এর একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, নগরায়ণ, যেখানে অসংখ্য মানুষকে চাকরির সন্ধানে শহরমুখী হতে হচ্ছে। এদের মধ্যে দ্রুত এবং সহজে টাকা পাঠানোর প্রতি আগ্রহ রয়েছে।

এরিকসন কনজিউমার ল্যাব-এর এ গবেষণায় দেখা গেছে নগরায়ণ উঠতি বা উন্নয়নশীল এশিয়ায় এম-কমার্স (মোবাইল কমার্স) সেবাগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে। যেমন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পাঠানো ও গ্রহণ।

Ericsson PR PIC

যখন আর্থিক বিষয়গুলো আসে তখন পরিবার পরিজন বন্ধুরা, পরিচিত বিশ্বাসযোগ্য গণ্ডিগুলো আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং একজন কীভাবে মোবাইলফোনভিত্তিক আর্থিক সেবাগুলোর সঙ্গে কতটুকু মানিয়ে নেবে তার উপর তাদের একটা প্রভাব থাকে।

নিরাপত্তা ইস্যু এবং সুবিধাগুলোই টাকাবিহীন লেনদেন এবং এম কমার্স সেবাগুলোকে দ্রুত গ্রহণ করতে উৎসাহিত করছে। এরিকসন কনজিউমার ল্যাবের গবেষণা প্রতিবেদনে উঠতি বা উন্নয়নশীল এশিয়ার দেশগুলোতে এম-কমার্স সেবা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত রয়েছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্য ছিল বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম।

এরিকসন কনজিউমার ল্যাব-এর জ্যেষ্ঠ পরামর্শক প্যাট্রিক হেডলান্ড বলেন, এর কারণ হচ্ছে যখন পরিবারের কিছু সদস্য শহরে চলে যায় এবং পরিবারের অনেকেই গ্রামে কিংবা আশেপাশে থাকে তারা শহরে যাওয়া লোকগুলোর উপর নির্ভরশীল থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে আয় অনেক কম, সেখানে দ্রুত টাকা পাঠানো এবং পাওয়া একটা প্রয়োজনীয় বিষয়।

গবেষণায় অারও দেখা গেছে, এখনও একটা বড় অংশ ক্যাশ ইকোনোমি বা দৈনিক লেনদেনের জন্য নগদ অর্থ ব্যবহার করে। এরিকসন ল্যাব দেখেছে, এই ইকোনমির লোকজন যেমন পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা পড়শী সবাই মিলে টাকা জমায় এবং কারও প্রয়োজনে সেখান থেকে ধার দেওয়া হয়।

নগদ অর্থভিত্তিক সমাজে নিরাপত্তা বিষয়ে বেশকিছু উদ্বেগ কাজ করে। উদাহরণ স্বরূপ, তাদেরকে প্রায়ই উল্টাপাল্টা ভাংতি গ্রহণ করতে হয়, এছাড়া জাল টাকারও একটা ভয় থাকে। সহজলভ্যতার অভাবও একটা বড় অসুবিধা, টাকা পাঠানো থেকে পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা, নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে টাকা না পাওয়া ইত্যাদি কিংবা অন্যান্য মানি ট্রান্সফার পদ্ধতির ক্ষেত্রেও একটা নির্দিষ্ট সময়ে অফিস খোলা থাকা সাপেক্ষে টাকা পাওয়া।

ফলে বাংলাদেশের ৭৮ এবং ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ বিভিন্ন সেবা বিল প্রদানের ক্ষেত্রে মোবাইল পেমেন্ট ব্যবহার করে। ভিয়েতনামে এই সংখ্যা ৩৭ শতাংশ।

/এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।