সকাল ১০:০০ ; রবিবার ;  ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯  

নাজনীনের কাগজের আসবাবপত্র

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নওগাঁ প্রতিনিধি॥ খালার কাছ থেকে নাজনীন গল্প শুনেছিলেন কাগজ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করা যায়। তারপর থেকে শুরু করেন চেষ্টা। টানা দুই বছর চেষ্টার পর পুরানো কাগজ, সংবাদপত্র ও ব্যবহৃত কার্টন দিয়ে তৈরি করতে শুরু করেন বিভিন্ন আসবাবপত্র। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণও নেই তার। কাগজ দিয়ে সোফা থেকে শুরু করে টি টেবিল, টুল, চেয়ার, ফুলদানি, মোড়া, আলনা, পিঁড়ি এমনকি রুটি তৈরির পিড়িও তৈরি করেছেন তিনি। কাগজ দিয়ে বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করে এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছেন নওগাঁর মহাদেবপুরে গৃহবধূ নাজনীন নাহার। নাজনীনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাড়িতে কাঠের বা স্টিলের কোনও আসবাবপত্র নেই। সব কাগজের তৈরি। এগুলো খুবই দৃষ্টিনন্দন। মহাদেবপুর উপজেলার নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে খোর্দ্দ নারায়ণপুর গ্রামের আবদুল লতিফের মেয়ে নাজনীন। স্বামী-সন্তানসহ বাবার বাড়িতেই থাকেন তিনি। নাজনীন জানান, রাতের বেলা কাগজ পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে ভেজাকাগজ দিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়। এই মণ্ডকে বিভিন্ন আকৃতিতে রূপান্তর করে আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। পরে এগুলোতে বিভিন্ন রং করা হয়। তিনি জানান, এগুলো তৈরির পর রোদে শুকাতে হয়। ভালো করে না শুকালে তেমন শক্ত হয় না। একবার তৈরি করে রোদে শুকালে কাঠের আসবাবপত্রের মতই শক্ত ও মজবুত হয়। তাই বর্ষার সময় বা বৃষ্টি হলে এসব তৈরি করা যায় না। তিনি দাবি করেন, স্টিল, লোহা বা কাঠের আসবাবপত্রে মরিচা বা ঘুণে ধরলেও ভালো করে শুকানো কাগজের তৈরি আসবাবপত্রে কোনও ঘুণপোকা বা মরিচা পড়বে না। এখনও পারিবারিকভাবে ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তার আসবাবপত্র। তবে বাজারজাত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে এসব আসবাবপত্রের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ারা বেগম বলেন, নাজনীনের তৈরি এসব সামগ্রীর কদর রয়েছে। তবে বাজার সৃৃষ্টিতে প্রশাসনের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। /এএ/এসটি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।