সকাল ১১:৫৭ ; মঙ্গলবার ;  ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বাড়িতে যৌন নির্যাতন: নীরবতা ভাঙতে হবে মেয়েদেরই

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

উদিসা ইসলাম ॥ বাংলাদেশের বেশিরভাগ নারীরই যৌন নির্যাতিত হওয়ার অভিজ্ঞতা হয় ঘর থেকেই। পরিবার সদস্যদের দ্বারাই প্রথম যৌন হয়রানির শিকার হলেও এ ঘটনা প্রকাশ করতে না পারায় বিষয়টি ভয়াবহ হলেও তেমনভাবে আলোচনায় আসছে না। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মেয়েই ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে নিকটাত্মীয়দের দ্বারাই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। কিন্তু এসব ঘটনা প্রকাশিত হয় না বলে দোষী ব্যক্তি শাস্তি পায় না। এমনই একজন রেহানা (ছদ্মনাম)। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে শৈশবে ঘটা যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। রেহানা বলেন, তার নিজের চেয়ে ৪ বছরের বড় আপন মামা ১৩ বছর বয়স থেকে তাকে নিপীড়ন করেন। বিষয়টি মানতে না পারলেও ঘটনাটি তিনি পরিবারের কাউকে জানাতে পারেননি। কারণ তিনি ভেবেছিলেন এতে সবাই তাকেই উল্টো ভুল বুঝবে। মামা বাসায় এলে তাকে এড়িয়ে চলতে না পেরে দুই বছরের মাথায় ঘটনাটি তার মাকে জানান। তবে তাকে অবাক করে দিয়ে মা এ বিষয়ে চুপ থাকার পরামর্শ দেন। দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কোনও না কোনও মেয়ে এমনই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে শতকরা কতভাগ মেয়ে নিজের বাড়িতে যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের শিকার হন সে সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায় না। কেননা এ ধরনের ঘটনার শিকার নারীরা যেমন ট্রমা কাউন্সিল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে যান না তেমনি মনোবিশেষজ্ঞেরও শরণাপন্ন হন না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কলঙ্কের ভয়ে নিশ্চুপ থাকেন। ফলে, ঘরে বাইরে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকে যা মেয়েদের মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন, 'আমাদের এ বিষয়ে নীরবতা ভাঙতে হবে। এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে বা ঘটনার প্রতিকার চাইতে পারবেন- এমন কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। মামলা করলেই কেবল ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সিল সেন্টারে সাহায্য পাওয়া যায়। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মামলা হয় না, তাই নিপীড়িত নারীকে একাই এই যন্ত্রণার ভার বহন করতে হয়।' নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের যৌথ উদ্যোগে নিপীড়িত নারী ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় গঠিত হয়েছে ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সিল সেন্টার। এখানে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর মানসিক সমস্যা সনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে এই সেন্টার। একই প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালে জাতীয়ভাবে একটি হেল্পলাইন নম্বর প্রবর্তন করা হয়েছে। '১০৯২১' নম্বরে ফোন করে যৌন নির্যাতনের ঘটনার অভিযোগ করা যায় সবসময়। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রেসিডেন্ট সালমা আলী বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে যৌন নির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'গণমাধ্যমে খবর বেরুলে আমরা এইসব ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি। খবর না আসার মানে এই নয় যে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হয়ে গেছে, বরং এতে বোঝা যায় এ ধরনের অপরাধের শিকার হলেও অভিযোগ জানাতে পারছেন না নারীরা।' তিনি বলেন এমন অনেক ঘটনাই প্রতিদিন ঘটে যাচ্ছে কিন্তু এর বেশিরভাগই প্রকাশিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে মেয়েদেরই এগিয়ে আসতে হবে এবংসরকারি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে জানাতে হবে। ইউআর/টিএন

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।