সকাল ০৯:৫২ ; শুক্রবার ;  ১৯ জুলাই, ২০১৯  

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে কলকাতার বিশেষজ্ঞ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক ॥ দেশকে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে বর্তমান অাওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শেখ হাসিনার স্বপ্নের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্প। দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের দ্বারাই ইতোমধ্যে সরকার এ ক্ষেত্রে দারুণ অগ্রগতি করলেও এবার ডিজিটাল বাংলাদেশের গড়ার কাজে ডাক পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বিক্রম দাশগুপ্ত। রবিবার পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক অানন্দবাজার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নতিকে স্বীকৃতি জানিয়ে ৭ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অার তারাই এই কাজে উপদেষ্টা হিসেবে বেছে নিয়েছে কলকাতার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে গ্লোবসিন গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা বিক্রম দাশগুপ্তকে। তিনি শুধু কলকাতার একজন শিল্প উদ্যোক্তাই নন সেইসঙ্গে রাজ্যের সেক্টর ফাইভের তথ্যপ্রযুক্তির অন্যতম কেন্দ্র ‘ইনফিনিটি’রও প্রতিষ্ঠাতা। অানন্দবাজারের প্রতিবেদনে বর্তমান অাওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলা হয়, গত ছয় বছরে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে লক্ষণীয় উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। ইন্টারনেট ব্যবহার এখন দেশটির ঘরে ঘরে। খরচও আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। শহরে তো বটেই, গ্রামের স্কুলগুলিতেও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো গড়া হয়েছে। একের পর এক শহরকে আনা হচ্ছে ওয়াইফাইয়ের ছত্রছায়ায়। অার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের এই উন্নতিকেই স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একটি রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই ক্ষেত্রে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশটির। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক বিশ্বের সব উন্নত দেশে পরিচিত। তৈরি পোশাক রপ্তানি করেই সব চেয়ে বেশি ডলার আয় করে বাংলাদেশ। এরই পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভাল বাজার পেতে পারে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যও। তার জন্য সবার আগে প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পাওয়া এক ঝাঁক কর্মীর। যারা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সফ্টওয়্যার ও অন্য পণ্য উৎপাদন করতে পারবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের একটি ব্র্যান্ডিংও প্রয়োজন। এরজন্য ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের রূপরেখাও তৈরি করে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আর সেই প্রকল্প রূপায়ণের ভারই তুলে দেওয়া হয়েছে বিক্রম দাশগুপ্তের হাতে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, 'বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্প এ দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বুনিয়াদ গড়ে দিতে পারে। বিদেশি মুদ্রা আয় তো একটা দিক, সব চেয়ে বড় কথা বাংলাদেশে এই শিল্পের বিকাশ হলে হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণ-তরুণী হাতে কাজ পাবে।' বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা যেমন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসবে, তেমন বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীরাও অন্য দেশে কদর পাবে। এই প্রকল্প রূপায়ণে সরকার তাই খুবই আন্তরিক বলেও জানান তিনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের আওতায় আগামী আড়াই বছরে বাংলাদেশের প্রায় ৩৮ হাজার ছেলে-মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে সেই প্রশিক্ষক সংস্থা বাছাই করবেন বিক্রম দাশগুপ্ত। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার-বিপণনের নীতি নির্ধারণেও পরামর্শ দেবেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিক্রম দাশগুপ্ত বলেন, 'ঢাকা চায় মাইক্রোসফট, গুগল এর মতো নামী বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলো বাংলাদেশে অফিস খুলুক। এই প্রকল্পে সেই কাজের দায়িত্বও আমাকেই দেওয়া হয়েছে।' এসএম/টিএন

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।