রাত ১০:২২ ; শুক্রবার ;  ২২ মার্চ, ২০১৯  

দিন বদলের স্বপ্ন দেখছে ২৫০০ অ্যাপ নির্মাতা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

রুশো রহমান ॥

'অ্যাপ্লিকেশনই আমরা ধ্যান-জ্ঞান। এমন অ্যাপ্লিকেশন করতে চাই যা থাকবে দেশের কোটি মানুষের হাতে।' এভাবে নিজের পরিকল্পনার কথা জানালেন উদীয়মান অ্যাপ ডেভেলপার নুর হোসেন ভুইয়া। ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের এই শিক্ষার্থীর তৈরি অ্যাপ ‘বিডি হসপিটাল ইনফো’ এখন পাওয়া যাচ্ছে গুগল প্লে স্টোরে।

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেকে অ্যাপ ডেভেলপার হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে নুর হোসেনের মতো অসংখ্য তরুণ। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে তুলে ধরতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আখলাসুর রহমান ভুইয়া বানিয়েছেন ‘মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প’, ধানমন্ডি টিউটোরিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র ইসফার হাসান বানিয়েছেন ‘তাসবি’, ইউল্যাবের তানভির ইসলাম বানিয়েছেন ‘অল বাংলা নিউজপেপার’ অ্যাপ।

থ্রিজির আবির্ভাবে দেশে কনটেন্টের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে উচ্চগতির ইন্টারনেট কাজে আসবে না যদি স্থানীয় কনটেন্ট মার্কেট তৈরি না হয়। তাই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ক্রমবর্ধমান বাজারে দেশের তরুণ ডেভেলপারদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় কনটেন্ট মার্কেট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্মার্টফোন, ট্যাবলেটে ব্যবহার উপযোগী দেশীয় বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরির মহাযজ্ঞ চলছে। আর এই উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের অসংখ্য তরুণ নির্মাতা আগামী দিনের অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী চলছে জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় সনদপত্রপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। ৬৩টি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং এই প্রশিক্ষণগুলোতে ৫৪টি জেলার ২৪৪০ জনকে ছাত্রছাত্রীকে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

Training Participants at Dhaka University

৭টি বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যাপস সেনসেটাইজেশন-দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শিল্প নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সারাদেশে কমপক্ষে এক হাজার সফটওয়্যার ডেভেলপারকে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের বাজারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং এ শিল্পের সাথে জড়িত সকলের আগ্রহ বাড়িয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের লক্ষ্য।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব ও কর্মসূচি পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের ডাউনলোড থেকে আয় হবে ২১.৭ বিলিয়ন ডলার। এই বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

এই প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ১৩টি কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে যেখানে সরকারের ৪৫টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫২০ জন কর্মকর্তা, প্রোগ্রামার, আইসিটি ফোকাল পয়েন্ট অংশগ্রহণ করেন। এসব কর্মশালায় নিজস্ব ডোমেইনের ওপর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নির্মাণের জন্য ১৯৪টি স্বতন্ত্র ধারণা প্রদান করেন।

এরই মধ্যে ২৬টি অ্যাপ্লিকেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বাকি অ্যাপ্লিকেশনগুলোও নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখযোগ্য অ্যাপসের মধ্যে রয়েছে- পাবলিক লাইব্রেরি, ট্যাক্স ক্যালকুলেটর, প্রাইজ বন্ড, -জয়ীতা, এফডিসি, জাতীয় জাদুঘর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় বাজেট, হাসপাতাল, ট্যুরিজম ইনফরমেশন, জন্মনিবন্ধন ভেরিফিকেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিদ্যুৎ বিল, প্রাইজবন্ডের ফলাফল, আর্কিওলজিক্যাল সাইট, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, হাসপাতালের তথ্য ইত্যাদি।

এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।