সকাল ১০:১৭ ; শুক্রবার ;  ১৯ জুলাই, ২০১৯  

মাইক্রোচিপে ১০ লাখ 'নিউরন'!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ফয়সল আবদুল্লাহ॥

মহাবিশ্বের নাড়িনক্ষত্র কিংবা নক্ষত্রের নাড়ি; সব কিছু জানা হয়ে গেলেও শরীরের এই একটুখানি মগজের ভেতর কী ঘটে চলেছে তা এখনও মস্ত এক রহস্য। নিউরনগুলো কোন প্রক্রিয়ায় নির্দেশ নেয় আর কোন প্রক্রিয়ায় ঘাড়তেড়া আচরণ করে তা জানতে চলছে বিলিয়ন ডলারের গবেষণা। সম্প্রতি সেই গবেষণায় এক ছটা আলোর সন্ধান পেলেন আইবিএম-এর গবেষকরা। তারা ডাকটিকিট সাইজের এমন এক চিপ বানালেন, যাতে আছে দশ লাখ 'ডিজিটাল নিউরন'

যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তা এসেই গেল, এমনটা ভাবার কারণ নেই। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় ক্ষুদ্র এ চিপ (যার ছদ্মনাম ট্রুনর্থ) যে একটা অতিকায় মাইলফলক, তাতে সন্দেহ নেই। চিপটির ভেতর প্রতিটি 'নিউরন'-এর সঙ্গে সংযোগ আছে আরও ২৫৬টি ‌‌ডিজিটাল নিউরনের। প্রচলিত সিলিকন স্তরের সারি সারি ট্রানজিস্টরের সঙ্গে মিল নেই এর। আর তাই নতুন চিপটিকে দিয়ে কাজ করাতে হলে লিখতে হবে আনকোরা প্রোগ্রাম। এমনটা শুনে বলা যায় যে, এই ট্রুনর্থ-এর ভেতরই লুকিয়ে আছে আগামীর যন্ত্রপাতির ভবিষ্যৎ।

আমাদের এই চিপটি গণনা, যোগাযোগ ও স্মৃতি ব্যবস্থাপনাকে খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।” জানালেন গবেষণা দলের প্রধান ড. ধর্মেন্দ্র মোধা। চিপটির পেছনে দুই শতাধিক বিজ্ঞানীর বছর কেটে গেছে বলেও জানান তিনি।

প্রচলিত ১ ও ০ এর বাইনারি নিয়ম মেনে কাজ করবে না এই চিপ। এটা কাজ করবে স্পাইক পদ্ধতিতে। যা একেবারেই নতুন একটি ধারণা। এর যে ক্ষুদ্র একক অংশটিকে নিউরন বলা হচ্ছে, তা থেকে একটি 'স্পাইক' তৈরি হবে, আর ওই স্পাইকটি ভ্রমণ করবে পাশের অন্য ডিজিটাল নিউরনে। মানুষের মগজে এই স্পাইকটি হলো একটি বিশেষ রাসায়নিক সঙ্কেত। যে সঙ্কেত একটি নিউরন থেকে আরেকটি নিউরন ছুটে বেড়ায় ও বিশেষ বিশেষ স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে, কিংবা নতুন স্মৃতি তৈরি করে। আবার এই সঙ্কেতই নতুন 'কাজ' এর নির্দেশনা দেয়।

. মোধা ও তার দল চিপটির ভেতর ৬৪ বাই ৬৪ আকারে গ্রিড সাজিয়েছেন। প্রতিটি সেক্টরের সঙ্গে ২৫৬টি সংযোগ থাকায় এর ভেতর সবমিলিয়ে পারষ্পরিক 'সেতু' আছে ২৫ কোটি ৬০ লাখ। মানুষের মস্তিষ্কে প্রতিটি নিউরনের সঙ্গে আরও ১০ হাজার নিউরনের সংযোগ থাকে। অর্থাৎ চিপটির সংযোগ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিলেই সেটা মগজের মতোই প্রসেসিং ক্ষমতা পেয়ে যাবে।

পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রুনর্থ দিয়ে বানানো রোবট। ব্যবহৃত হতে পারে দুর্গম অঞ্চল কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রেও। তবে একেবারে 'খেয়াল-খুশি' মতো কিছু করবে, এমন স্বপ্ন আপাতত এই বিজ্ঞানীরাও দেখছেন না।

[caption id="attachment_38492" align="aligncenter" width="300"]neuron like network এই নকশায় ৬৪টি নিউরনের যোগাযোগ দেখানো হলেও ট্রুনর্থে আছে ২৫৬টি[/caption]

সূত্র: বিবিসি

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।