ভোর ০৭:৪৯ ; রবিবার ;  ১৭ নভেম্বর, ২০১৯  

প্রতিবাদের নাম হ্যাশট্যাগ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মিজানুর রহমান॥

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে অনলাইনে চলছে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ। প্রতিবাদের নাম 'হ্যাশট্যাগ'

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এই গণ-প্রতিবাদ শুরু হয়েছে সপ্তাহখানেক আগ থেকে। ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারকারীরা নিজেদের স্ট্যাটাস ও মন্তব্য যুক্ত করছেন এই হ্যাশট্যাগের অধীনে। গাজায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে হ্যাশট্যাগগুলো হল, #‎FreePalestine‬, ‪#‎SupportGaza,‬ #‎StopGenocideGAZA‬, #‎IstandWithGaza‬

বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত #‎SupportGaza এই হ্যাশট্যাগটি। আর এ দাবির পক্ষে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও যুক্ত করছেন নিজেদের।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমি মুশফিকুর রহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। এরপর তিনি 'সাপোর্ট গাজা' হ্যাশট্যাগটি লিখে দাবির পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। একই প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও সাড়া মি‌‌‌লেছে ব্যাপক হারে। সবাই নিজের নাম, জাতীয়তা লিখে সংযুক্ত হচ্ছেন এই হ্যাশট্যাগগুলোতে।

Screenshot- Nasir ফেসবুকের পাশাপাশি ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে টুইটারেও। টুইটারে গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবি তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ ইমরান খান। তিনি লিখেন, আমি ইমরান খান। আমি একজন পাকিস্তানি। আই ‪#‎SupportGaza

এই ধরনের হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আদৌ কোনও কাজ হবে কী না এটা জানতে চাইলে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'ফেসবুকে কাজটি শুরু হয়েছে দুদিন হল। এটার মূল উদ্দেশ্য সচেতনতা তৈরি করা।'

Screenshot-arif jebtik

টুইটারে হ্যাশট্যাগের গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'ফেসবুকে শুধু সচেতনতা তৈরির কাজ করলেও টুইটারের হ্যাশট্যাগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টুইটারের ইস্যুভিত্তিক ট্রেন্ড দেখানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনও ইস্যুতে বেশিরভাগ মানুষ কথা বললে সেটা উচ্চতর মহলের নজরে যায় এবং তারা এই বিষয়ে যথেষ্ঠ সচেতন।'

এ বিষয়ে আরেক সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট অনন্ত আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'হ্যাশট্যাগ দিয়ে আসলে দাবিগুলোকে এক জায়গায় রাখা হয়। এ ছাড়া কোনও কাজ নেই। আসলে আমাদের আর কিছু করারও নেই।'

একজন ফেসবুকার তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “জানি না এতে আসলেও কাজ হবে কী না। তবুও দিলাম কারণ গাজায় আর গণহত্যা দেখতে চাই না।”

টুইটার হ্যশট্যাগ থেকে বিশ্বব্যাপী বড় গণআন্দোলনের ইতিহাস বেশিদিন আগের নয়। নিউইয়র্কে 'অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট' নামের আন্দোলনটি ২০১১ সালে টুইটারে হ্যাশট্যাগের মধ্যেমেই ছড়িয়ে পড়ে।

যেকোনও বিষয়ের ওপর সব স্ট্যাটাস বা ছবি একসাথে খুঁজে পাওয়ার জন্য এই পদ্ধতি চালু করা হয় টুইটার, ফেসবুকসহ আরও অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফেসবুক পেইজের মতো এই হ্যাশট্যাগের কোনও বাণিজ্যিক ব্যবহার বা উদ্দেশ্য নেই।

এটা ব্যবহার করতে কোনও শব্দের আগে হ্যাশ (#) প্রতীক ব্যবহার করে লিখতে হয়। যেমন কেউ যদি তার ছবি বা স্ট্যাটাসে #Picture শব্দটি লিখে দেয় তবে অন্য কেউ #Picture খুঁজলে তার ওই ছবি বা স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। আবার অন্য কেউ যদি তার মন্তব্য বা ছবিতে একই হ্যাশট্যাগ (#Picture) লিখে দেয়, তবে তার স্ট্যাটাসটিও ওই পেইজে দেখাবে। এর জন্য তাকে প্রথম ব্যক্তির ফ্রেন্ড লিস্টে থাকতে হবে না।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।