রাত ০৪:৩১ ; শনিবার ;  ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯  

বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সময় এখনই: ইউনিসেফ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ॥ নারীর প্রজনন অঙ্গহানী (এফজিএম) ও বাল্যবিবাহ রোধ করতে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আজ থেকে লন্ডনে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে 'গার্ল সামিট ২০১৪'। যুক্তরাজ্য সরকার ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত ইউনিসেফ-এর তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, গত তিন দশকে এফজিএম-এর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এ বিষয়ে অগ্রগতির ধারা ধরে রাখা প্রয়োজন। যেসব দেশে এ বিষয় দুটো বেশি প্রচলিত সেসব দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতেই এটা করা উচিত। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক বলেন, “এফজিএম ও বাল্যবিবাহের মতো বিষয় স্থায়ীভাবে মেয়েদের ক্ষতি করে। তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে এবং বিকশিত হতে দেয় না। এটা মেয়েদের নিজের, পরিবারের এবং সমাজের জন্যে ক্ষতিকর।” তিনি আরও বলেন, ‘‘মেয়েরা কারও সামগ্রী নয়, তাদের অধিকার রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের। আর যখন তারা তা করতে পারে তখন সবাই উপকৃত হয়।” সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ২৯টি দেশের ১৩ কোটিরও বেশি মেয়ে বা নারী কোনও না কোনওভাবে এফজিএম-এর অজ্ঞিতায় শিকার হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ছাড়াও এফজিএম করানোয় মেয়েদের বিভিন্ন শারিরীক সমস্যা ছাড়াও প্রজনন ক্ষমতাহীনতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। বাল্যবিবাহের প্রভাব ভুক্তভোগীদের সারাজীবন বহন করতে হয়ে। বিশ্বে ৭০ কোটিরও বেশি সংখ্যক মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার। এর মধ্যে ২৫ কোটি বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর বয়সে। ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্ম জটিলতায় ভোগার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। তবে এফজিএম সম্পর্কে বর্তমানে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টাচ্ছে। বিশ্বের যেসব দেশে এফজিএম প্রচলিত রয়েছে সেসব দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করে ক্ষতিকর এ রীতি বন্ধ হওয়া উচিত। তবে সামাজিক চাপে তা হচ্ছে না। বাল্যবিবাহের কমে যাওয়ার বর্তমান হার দ্বিগুণ করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্য বিবাহ ৫৭ কোটি এবং ২০৫০ সালে ৪৫ কোটিতে কমিয়ে আনা যাবে। আর এফজিএম-এর বর্তমান হারই থাকবে। জেএ/এসটি

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।