দুপুর ০১:১৪ ; রবিবার ;  ২৬ মে, ২০১৯  

ফেসবুকে রমরমা ব্যবসা !

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

রুশো রহমান ॥ দেশে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক এখন ব্যবসায়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। গড়ে উঠেছে রমরমা সব ব্যবসা। অনেকেই করছেন বিকল্প উপায়ের এই ই-কমার্স।

এতে কর্মসংস্থান হচ্ছে বহু মানুষের। স্বল্প পুঁজিতেই অনেকে এই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেকারত্বকে দূর করেছেন।

ফেসবুকের কারণে বা ফেসবুকে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। শাড়ি, সালোয়ার, কামিজ, পাঞ্জাবি, জুয়েলারি, ম্যাট, কার্পেটসহ সৌখিন সব অাইটেম কেনা যাচ্ছে ফেসবুক থেকে।

ফেসবুকভিত্তিক বেশ কিছু অনলাইন শপ তৈরি হয়েছে দেশে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ফেসবুকে এমন হাজারও শপ তৈরি হয়েছে। ঘরে বসেই এই শপের উদ্যোক্তারা ব্যবসা করেন। ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে তাই অনেকে ফেসবুক শপের আশ্রয় নিচ্ছেন।

ফেসবুক শপের ব্যবসার শুরুটা হয় ভিন্ন আঙ্গিকে, ছোট পরিসরে। মূলত উদ্যোক্তার ফেসবুকের বন্ধুরাই তার পণ্যের ক্রেতা। প্রথমে উদ্যোক্তা তার ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে পণ্যের প্রচার করেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়। তাই অগ্রিম মূল্য পরিশোধে অপেক্ষাকৃত ঝুঁকি কম থাকে।

ফেসবুকে গিয়ে দেখা গেছে বাংলাদেশি গিফট শপ, বাংলাদেশি গহনা, সুহানি’স কালেকশন, জেএস ক্রিয়েশন, রেজোয়ান অনলাইন শপিং, এওয়াইএস, মুনসন অনলাইন শপিং -এমন অসংখ্য অনলাইন ফেসবুক শপ রয়েছে। ফেসবুক শপে পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, জুয়েলারিসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায়। এসব ফেসবুক শপের উদ্যোক্তাদের কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে এ সংক্রান্ত কোনও খরচও উদ্যোক্তাদের করতে হয় না। এ কারণে উদ্যোক্তারা দ্রুত ব্যবসা বড় করতে পারেন।

বাংলাদেশি গিফট শপের প্রধানি নির্বাহী ফজলে রাব্বি বললেন, ফেসবুক নবীন উদ্যোক্তা তৈরিতে বিরাট ভূমিকা পালন করছে। নারীর পোশাক নিয়ে বিশাল এক মার্কেট গড়ে উঠেছে ফেসবুকে। ফেসবুক নির্ভর অনেক বুটিক শপ তৈরি হয়েছে। এসবই অামাদের মতো উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, স্বল্প খরচে, স্বল্প অায়োজনে এবং কম পরিশ্রমে ফেসবুকে ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, কোন ধরনের ব্যবসা করতে চান সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করে ফেসবুকে একটি ফ্যানপেজ খুলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা অর্থাৎ পণ্যের ছবি, দরদাম, মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি, ডেলিভারির দিনক্ষণ ইত্যাদি উল্লেখ করে দিতে হবে।

তবে তিনি জানান, দাম পরিশোধের বিষয়টিই যা একটু জটিল হয়ে থাকে। অনেকে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা হাতে হাতে মূল্য পরিশোধ, বিকাশ, ব্যাংকে জমা, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করে থাকেন। দেশের বাইরে যারা পণ্য বিক্রি করেন তা অনলাইন পেমেন্ট প্রসসের পে-পল, মানিবুকার্স ও অ্যালার্টপের মাধ্যমে পেমেন্ট নিয়ে থাকেন। মোটামুটিভাবে এসব এবং ইন্টারনেটটা ভালো জানলে ফেসবুকেই এই অন্যরকম ই-কমার্স করে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করা সম্ভব।

বাংলাদেশি গহনার প্রধান সাবরিনা অাক্তার টিনা জানান, তার ফেসবুক শপে পাওয়া যায় জুয়েলারি অাইটেম। দিন দিন তার ব্যবসা বাড়ছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, কর্মচারী না থাকা এবং অানুষাঙ্গিক খরচ না থাকায় মুনাফা করা খুব সহজ বলে তিনি জানান।

ফেসবুকের নবীন ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন বলেন, অামি দেশে কোনও পণ্য বিক্রি করি না। অামার ক্রেতারা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক। ক্রেতারা ফেসবুকে গিয়ে অামার পণ্যর (ওয়াল ম্যাট, ছোট কার্পেট ও শতরঞ্জি) ছবি দেখে ক্রয়ের অাদেশ দিলে অামি কুরিয়ারে পণ্য পাঠিয়ে দিই। তিনি বলেন, ফেসবুকের ফ্যানপেজ ম্যানেজ করা এবং ঠিক মতো পণ্য পাঠাতে পারলে এ ব্যবসায়ে বিফল হওয়ার অামি কোনও কারণ দেখি না। তবে সবাই পরামর্শ দেন, এ ধরনের ব্যবসা শুরু করার অাগে ফেসবুকে বন্ধুর সংখ্যা বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, যত বন্ধ তত ব্যবসা!

অনেকেই সতর্ক করলেন, ফেসবুকে ভুয়া অনলাইন শপের উপস্থিতি সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ব্যাপক হারে। এরাই প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ইমেজ নষ্ট করছে। এদের থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।