রাত ০৩:৩৯ ; মঙ্গলবার ;  ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯  

কিসিঞ্জার মানুষ ছিলেন না: কেরি কেনেডি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির জোরালো উপস্থিতির ফলে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত খুন ও নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপকভাবে বাড়ছে, বলেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী কেরি কেনেডি। 'বিচারবহির্ভূত খুন ও নির্যাতনের পাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে যেন,' যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক রবার্ট এফ কেনেডি সেন্টার ফর জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস্’র প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি রবিবার বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে একথা বলেন। হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে এ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর ও ঢাকা ট্রিবিউনের স্পেশাল এফেয়ার্স এডিটর সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী। কেরি কেনেডি বলেন বিচারবহির্ভূত খুন ও নির্যাতনের মতো প্রাক-বিচার বন্দিত্বও চলতে পারে না। 'এগুলো অমানবিক ও নির্মম।' অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি তখনই জোরালো হয় যখন কোনও একক [ব্যাক্তি বা বাহিনী] হাতে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়। এজন্য আমি শুধু বাংলাদেশকে দোষ দেব না। আমার নিজের দেশে এবং অন্য বহু দেশে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। Kerry-Kennedy-_-Photo-by-_Sadia-Marium__MG_085633 কেরি আমেরিকার খ্যাতনামা কেনেডি পরিবারের সদস্য। চার দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে পঞ্চম সামাজিক ব্যবসা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। সাক্ষাৎকারের সময় কেরি তাঁর প্রয়াত চাচা এডওয়ার্ড এম কেনেডিকেও স্মরণ করেন। এডওয়ার্ড এম কেনেডি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোর সমর্থক ছিলেন। যদিও তৎকালীন মার্কিন সরকার পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির পক্ষ নিয়েছিল। এডওয়ার্ড বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে সমর্থন দেয়া। ১৯৫৯ সালের সেপ্টেম্বরে জন্মেছিলেন কেরি। তিনি ভাই জো কেনেডির কাছে ১৯৭১ সালে শুনেছিলেন বাংলাদেশ নামে নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্মের সম্ভাবনার কথা, যেখানে মানুষ নিবর্তন হতে মুক্তি, গণতন্ত্র ও উন্নত বিচারব্যবস্থার জন্য লড়ছে। জো কেরির চেয়ে সাত বছরের বড় ছিলেন। কেরি একজন আইনজীবী ও লেখক। ঢাকা সফরকালে তিনি রবিবার সাভারে রানা প্লাজা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গেছেন কিছু গার্মেন্ট শ্রমিকের ঘরে। তিনি বলেন, গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি ও সুবিধাদি এবং কাজের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিল্পমালিকসহ এখাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার। আমরা দেখতে চাই যে শ্রমিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আংশিক দায়িত্ব শুধু দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তাদের প্রতি নয়, হাজার হাজার শ্রমিক যারা বেঁচে আছে এবং কাজ করছে, তাদের প্রতিও। [যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক] আমদানিকারকদের শুধু সস্তায় পোশাকের সরবরাহ পেয়েই খুশি হওয়া উচিত নয়। তাদের দেখা উচিত যেসব শ্রমিক এসব পোশাক তৈরি করেছে, তারা কেমন আছে। অসহনীয় ও অমানবিক পরিবেশে কাজ করছে কি না। আসলে শ্রমিকের স্বার্থ দেখার বিষয়টি ব্যাংক থেকেই শুরু হওয়া উচিত। দেখা উচিত ব্যাংক ঋণ যাদের দেয়া হচ্ছে, তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, আইএলও এবং নিজ নিজ দেশের আইন ও বিধিবিধানগুলো মানছে কি না। খুচরা ক্রেতাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। যেসব ব্র্যান্ডের সামগ্রী তারা কিনছেন, সেগুলো যে কারখানায় তৈরি হচ্ছে, তা কমপ্লায়েন্ট কি না, সব নিয়মকানুন মানছে কি না, তাও তাদের দেখা দরকার। কেরি ঢাকা সফরকালে কয়েকটি এনজিও’র প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর মনে হয়েছে এনজিওগুলোর কাজের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে। এনজিও নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইনের কথা শুনেছি। আসলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউই নিরাপদ থাকতে পারে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, যেমন ইরাকে, যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে তার নিজের দেশ যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে ভূমিকা রাখছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির নেতৃত্বাধীন সাবেক মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করেন। ইরাকে ব্যাপক মারণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা বলা হয়েছিল যুদ্ধ শুরুর আগে। শেষ পর্যন্ত সেকথা অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও সময় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করায় কেরি আরেক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তার সেক্রেটারি অব স্টেট হেনরি কিসিঞ্জারেরও সমালোচনা করেন। '১৯৭১ সালে তারা একটি নিবর্তক সরকারের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন।' কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে কেরি বলেন, 'কিসিঞ্জার মানুষ ছিলেন না।'

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।