সকাল ০৯:১৮ ; সোমবার ;  ২২ অক্টোবর, ২০১৮  

ভিজ্যয় শেষাদ্রীর কবিতা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

[ভিজ্যয় শেষাদ্রী এ বছর পুলিৎজার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কবি পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও শিক্ষক হিসেবেও সফল। ভিজ্যয় ১৯৫৪ সালে ভারতের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচ বছর বয়সে আমেরিকায় চলে যান। বেড়ে ওঠা ওহাইও-এর কলম্বাসে, তাঁর বাবা ছিলেন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির রসায়নের শিক্ষক। ওবারলিন কলেজ থেকে শেষাদ্রী স্নাতক ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উয়াইল্ড কিংডম’ প্রকাশিত হয়। গ্রেউলফ প্রেস থেকে ২০০৪ সালে প্রকাশিত হওয়া তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দ্যা লং মেডোউ’ লাভ করে জেমস ল্যাঙলিন পুরস্কার। একই প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হওয়া ‘থ্রি সেকশনস’ (২০১৩) কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন । শেষাদ্রী দ্যা নিউ ইয়র্কার সম্পাদনা ও ব্যাঞ্জামিন কলেজে পড়ান। বর্তমানে তিনি সারাহ লওরেন্স কলেজে কবিতা ও ননফিকশন পড়ান। তাঁর তিনটি কবিতা অনুবাদ করেছেন ঋভ রশীদ] কাল্পনকি সংখ্যা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস হয়ে যাবার পরও যে পর্বত মাথা উঁচু করে আছে তাকে বড়ও বলা যাবে না,  ছোটও না। বড় ও ছোট তো তুলনামূলক শ্রেণিবিভাগ, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ধ্বংস হয়ে যাবার পরও যে পর্বত মাথা উঁচু করে থাকে- তার সাথে কী কারও তুলনা চলে? চিন্তা-চেতনা ও অনুভূতি পর্যবেক্ষণ করে এবং শান্ত হয়। আত্মা নুড়ি বেয়ে বেয়ে উপরে ওঠে। আর আত্মা, ঋণাত্মক ১-এর বর্গমূলের মতো একটি অসম্ভব সংখ্যা যার আছে নিজস্ব ব্যবহারযোগ্যতা। তামার উজ্জল কেটলিগুলো মৃত সুহৃদরা জীবনে এসেছে ফিরে, মৃত স্বজনরা, কথামালারা জীবিত ও মৃত, ফিরেছে তাদের স্মৃতিরা, তাদের পঞ্চইন্দ্রিয় অক্ষুণ্ন, তাদের পদচিহ্ন প্রজাপতির মতো, ক্ষমা দীপ্তিময় উপলব্ধি তাদের চেহারায়- আমার প্রিয় ব্যাপারগুলোর মধ্যে এটি একটি। ব্যাপারটা আমার এতই পছন্দ যে সারাক্ষণ কাটে নিদ্রায় নিদ্রায়। দিনে চাঁদ ও রাতে সূর্য আমাকে খুঁজে পায় স্বপ্নের গভীরে যেখানে আসে তারা ফিরে ফিরে। সোনালি বুনোফুলের মাঠে, পঞ্চ-পিরামিডের শহরে, সম্রাজ্ঞীর আবেগী চেহারার সামনে, উঁচু চিনার গাছের তলায়, তারা শুধু দর্শনে আসে। ‘সবকিছু ঠিক আছে’, -যেন তারা বলতে চায়। সে তো সবসময় ঠিক ছিল। তারা অন্যরকম ও বিনয়ী। (কে জানত মৃতরা এত বিনয়ী হয়?) আমাকে তারা ভয় পাইয়ে দিতে চায়নি; তাদের মাথা হাওয়া-নিশানের মতো বনবন করে ঘোরে না। তারা চায় না আমার দেহ চুরি করতে, তারা চায় না হতে পৃথিবীর অধিকারী, চায় না প্রতিহিংসার প্রতিশোধ। তারা মৃত, বুঝতে পেরেছ তারা অস্তিত্বহীন। এবং তাছাড়া, তারা কেনো পরোয়া করবে? তারা তো অতিপারমাণবিক, অনুভূমিক। চিন্তা করে দেখো। তাদের মধ্যে একজন লজ্জিতভাবে আমাকে একটি পেনসিল নিবেদন করলো। চোখের পাতার নিচে চোখ ছোটাছুটি করতে থাকলো দ্রুত থেকে দ্রুততর। যেখানে দীর্ঘদিন বাজেনি কোনো গান ঘরের ইন্টারকমে রিভারিন্ড আল গ্রীন গাইছে: ‘আমি দেখিনি কখনো আগামী বিষাদের কথা জানিনি কখনো আমি।’ শোকগাথা আমাকে বলা হয়েছে তোমাকে পথ দেখাতে, সম্প্রতি যে শহরে তুমি গিয়েছো, যেখানে আমি কখনো যাইনি। গির্জাটি দেখতে ভালোই, কিন্তু রাস্তাঘাট সংঙ্কীর্ণ, অমসৃণ এবং কিছুটা ভয়ানকও। গ্রীষ্মে নদীটা মন্থর, বসন্তে ঘোলাটে কুটির শিল্পের অবস্থা বড্ড শেকেলে। জনসংখ্যার সংখ্যাও এক। এই সংখ্যা ক্ষণস্থায়ী যে ছায়াদের মাড়িয়ে যায় এবং প্রায়ই উদয় হয় গির্জার ঘণ্টাঘরে। শূন্য ক্যাফে টেবিলে শীতল হয় তার আধ-খাওয়া খাবার। তার অসমাপ্ত সমীকরণের পৃষ্ঠা উড়িয়ে নিয়ে যায় খোয়াগুলোর দিকে। তার মৃত্যু এতোটাই অন্যায্য ছিলো- সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারে না। সারা জীবন প্রতীক্ষাই থেকেছে, জীবনকে নাগালে পাবার। সে হলো তুমি ও তুমি এবং তুমি। তুমি তার উপর নির্ভর করবে তোমার অবসানের জন্য, মুখোমুখি হবে রিভলবিং দরজায়, পাশাপাশি বসবে খোলা চত্ত্বরে, এবং প্রশমিত করবে তার ভয়কে, সমব্যথি হবে তার গল্প শুনে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত করবে প্রখর সূর্যের নিচে যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয় তোমার মৃত্যুতে। তুমি ফিরিয়ে দেবে তার বাজেয়াপ্ত মুহূর্তগুলোকে, একে একে ।  

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।