সকাল ১০:৫৮ ; শুক্রবার ;  ২৭ এপ্রিল, ২০১৮  

যেভাবে এলো কম্পিউটার গেমস

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

রুশো রহমান ॥

১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডগলাস তার পিএইচডি’র গবেষণা পত্র লেখেন মানুষ এবং কম্পিউটারের মধ্যে আন্ত:সম্পর্কর বিষয় নিয়ে। তিনি তার পেপারে লেখেন, একমাত্র গেমের কারণে কম্পিউটার মানুষের বন্ধু হতে পারে।

পরে তিনি তৈরি করেন প্রথম গ্রাফিক্যাল কম্পিউটার গেম ‘টিক-ট্যাক-টো’। ১৯৫৮ সালে উইলিয়াম হিগিংবোথাম তৈরি করেন প্রথম ভিডিও গেম ‘টেনিস ফর টু’। ১৯৬৭ সালে নির্মিত ভিডিও গেম ‘চেজ’ টেলিভিশনে খেলা হয়।

ওই সময় ধরে নেয়া হয় এটি জনপ্রিয়তা পাবে, কারণ ছিল ঘরে ঘরে টেলিভিশনের ব্যবহার। ১৯৭১ সালে নির্মিত হয় আরেকটি কম্পিউটার গেম ‘কম্পিউটার স্পেস।’ এসবই ছিল গবেষণা পর্যায়ের গেমস। এর পরের বছর নির্মিত হয় ‘পং’ নামের একটি গেমস। ঠিক হয়েছিল এই গেমসটি প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়া হবে। এসব নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে করতে কেটে যায় আরও কয়েকটি বছর।

১৯৭৫ সালে ‘পং’ হোম ভিডিও গেমস হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়া হয়। শুরুতেই বাজারে গেমসটি হিট করে। এরপর থেকে গেমস দখল করতে থাকে মানুষের গড়া কম্পিউটার দুনিয়া।

কম্পিউটার আবিষ্কারের শুরুতে কিন্তু এই চিত্র ছিল না। সে সময়ে কম্পিউটার দিয়ে কেবল হিসাব নিকাশের কাজ চলত। বড় বড় কাজ সারা হতো। কিন্তু কাল পরিক্রমায় সেই চিত্র বদলেছে। এখন এটি পরিণত হয়েছে বিনোদনের প্রধান উপকরণ হিসেবে। এখন যদি ছোট-বড় কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় কম্পিউটারে কি কাজ কর? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর আসবে 'গেমস খেলি।' গেমারদের তালিকায় সবার আগে চলে আসবে শিশু-কিশোরদের নাম। তবে সব বয়সীদেরই গেমস খেলতে দেখা যায়।

গেমসের প্রকারভেদ : গেমস দুই প্রকার। কম্পিউটার এবং ভিডিও গেমস। কম্পিউটার গেমস কম্পিউটারেই খেলা হয়। আর ভিডিও গেমস খেলার জন্য আলাদা মেশিন লাগে। ঘরে বসে টেলিভিশন সেটেও খেলা যায়। গেমসের কয়েকটা ধরণ আছে; অ্যাকশন, রোল প্লেয়িং, সিমুলেশন এবং স্ট্র্যাটেজি গেমস। এসব গেমসেরও আবার ধরন আছে। এ ছাড়াও আছে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক গেমস। অন্যদিকে মাইক্রোসফটের রয়েছে বিখ্যাত গেমিং কনসোল এক্সবক্স-৩৬০ এবং সনির প্লে-স্টেশন-২ এবং ৩।

মস্তিষ্ক চর্চায় গেমস: কম্পিউটার বা ভিডিও গেমস খেললে ব্রেন বা মস্তিষ্কের চর্চা হয়। এটা গেম বিশেষজ্ঞদের কথা। তাদের বক্তব্য, বুদ্ধিবৃত্তিক গেমস খেললে গেমসটি শেষ করার জন্য গেমারের ভেতরে একটা তাগিদ তৈরি হয়। কোনও সমস্যার সমাধান করতে হলে বা কোনও বিপদাপন্ন অবস্থা থেকে গেমারকে বের হয়ে আসতে বললে গেমার যখন ওই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে পারে তখন তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। হ্যাঁ, আমি পারব বা আমাকে দিয়ে কঠিন কোনও সমস্যার সমাধান হবে। সুক্ষ্ণ বিষয়গুলো তারা সহজে ধরতে পারে।

জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান নিজে নিজে করে বলে ওই ধরনের একটা মানসিকতা তাদের মধ্য তৈরি হয় যা শিশু-কিশোরদের জন্য ভালো। শিশু বিশেজ্ঞদেরও এই একই অভিমত।

অনলাইনে গেমসের খবর : গেমস যে কেবল বাজার থেকে কিনে এনে বা বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে এনে খেলতে হবে এমন কোনও কথা নেই। এ দুটো উপায় ছাড়াও গেম সংগ্রহ করা যেতে পারে। আর তা হলো অনলাইন থেকে। গেমের নিত্য নতুন যদি কোনও খবর পেতে হলে ইন্টারনেটে ঢুকে যাওয়া যেতে পারে www.gamespot.com সাইটে। এখানে গেমসের খবর, র‌্যাংকিং, বাজারের নতুন গেমস, কবে কোন গেমস আসছে এসব খবর এখানে পাওয়া যাবে। গেম খেলতে হলে দরকার হবে চিটকোড। www.cheatplanet.com সাইটে গেলে মিলবে চিটকোড। অনলাইন গেমসের কয়েকটির সাইটের ঠিকানা দেওয়া হলো। www.searchimport.comwww.angelfire.com, www.angelfire.com/ego/smile1/1onlinegame.html

এইচএএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।