রাত ১২:২১ ; শুক্রবার ;  ২২ মার্চ, ২০১৯  

পানির নিচে ছবি তোলার ক্যামেরা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

সোহেল রানা ॥

বর্ষাকালে ঘুরতে গিয়ে অনেকে বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাওয়ার ভয়ে ক্যামেরা বের করতে ভয় পান। বর্ষার বৃষ্টি ভেজা পরিবেশে প্রকৃতির ছবি তুলতে ওয়াটার প্রুফ ক্যামেরা ব্যবহার করা যায়।

জল দেখলে নাকি মন শান্ত হয়। আর এজন্যই হয়তো জলের পরশ পেতে অনেকেই ছুটে যান সাগর, ঝরনা, নদী আর লেকের পাশে। এসব জায়গায় ভ্রমণের ছবি ক্যামেরায় ধরণ করতে হয় বেশ সাবধানে, যেন ক্যামেরা পানিতে ভিজে নষ্ট না হয়।

অনেকে সাগরের তীরে গিয়েও সঙ্গে ক্যামেরা থাকা পানিতে গা ভাসাতে পারেন না। কারণ একটাই, ক্যামেরা পানিতে ভেজার ভয়। আপনি ক্যামেরা ভেজানোর ভয়ে বসে থাকলেও প্রযুক্তিবিদরা বসে নেই। তারা বিভিন্ন অবস্থানে আপনার প্রিয় মুহূর্তগুলো সংরক্ষণ করতে এবং অতীতকে ভবিষ্যতের কাছে তুলে ধরতে তৈরি করেছেন পানিতে ব্যবহার উপযোগী ওয়াটার প্রুফ ডিজিটাল ক্যামেরা।

আমাদের দেশেও দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে পানির নিচে কিংবা সাগরের তলদেশে বিভিন্নভাবে ছবি তোলা। দেশের সুন্দরতম পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে প্রবালের ছবি তোলার লোভ অনেকেই সামলাতে পারেন না। কিন্তু পানিতে ছবি তুলতে গিয়ে ক্যামেরা ভিজে নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেকেই এসব থেকে বিরত থাকেন। ভ্রমণের এই সমস্যাগুলোর সমাধান দিচ্ছে ওয়াটার প্রুফ ক্যামেরা। যেসব এলাকায় তুষার পড়ে বা প্রচন্ড ঠাণ্ডা সেসব এলাকায় অনেক সময় ক্যামেরায় বরফ জমে নষ্ট হওয়ার অাশঙ্কা থাকে। কিন্তু ওয়াটার প্রুফ ক্যামেরা থাকলে সব সমস্যার সমাধান নিমিষেই। বিভিন্ন মডেলের কয়েকটি ওয়াটার প্রুফ ক্যামেরার বর্ণনা দেওয়া হলো।

ফুজি ফিল্ম ফাইন পিক্স জেড ৩৩ ডব্লিউপি: বেশ কয়েকটি কালারের ফুজি ফিল্মের এই ক্যামেরাটি অন্যান্য ওয়াটার প্রুফ ক্যামেরার চাইতে পাতলা আকৃতির। তিন মিটারের বেশি পানির নিচে এটি ব্যবহার করা যায় না। ১০.০ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৫-১০৫ মি.মি. (৩এক্স) অপটিক্যাল জুম, ২ দশমিক ৭ ইঞ্চি স্ক্রিন, ২৩০ কে রেজুলেশন, এসডি এবং এসডিএইচসি মেমোরি কার্ড সুবিধা, ৬৪০ বাই ৪৮০ রেজুলেশনে ভিডিও ধারণ সুবিধা।

অলিম্পাস স্টাইলাস টাফ-৮০০০: ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অলিম্পাসের এই অত্যাধুনিক ক্যামেরাটি ওয়াটার, শক, ফ্রিজ, শেক এবং ক্র্যাশ প্রুফ। ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাটি ৩৩ ফুট পানির নিচে ছবি তুলতে সক্ষম। প্রায় সাড়ে ছয় ফুট উঁচু থেকে পড়ে গেলেও এটি নষ্ট হবে না। ক্যামেরাটির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে- ২ দশমিক ৭ ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিন, ২৮-১০২ মি. মি. (.৬ এক্স) অপটিক্যাল জুম, মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধাসহ রয়েছে ফেস ডিটেকশন সুবিধা, শ্যাডো অ্যাডজাস্টমেন্ট টেকনোলজি, ৬৪০ বাই ৪৮০ রেজুলেশনে ভিডিও ধারণ ইত্যাদি।

প্যানটেক্স অপটিও ডব্লিউ৮০: প্যানটেক্স'র নতুন মডেলের এই ক্যামেরাটি চারকোণাকৃতির ফলে সহজে পকেটে রাখা যায়। ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাটি ওয়াটার, কোল্ড, ডাস্ট এবং শক প্রুফ। ৩ দশমিক ৩ ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেও ক্যামেরাটির কোন ক্ষতি হবে না। ১৬ ফুট পানির নিচেও ক্যামেরাটি ছবি এবং ভিডিও ধারণে সক্ষম। এটির রয়েছে ২ দশমিক ৫ ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিন, ৩০ এফপিএসও ১২৮০ বাই ৭২০ রেজুলেশনে ভিডিও ধারণ, ফেস ডিটেকশন এবং শেক রিডাকশন সুবিধা।

প্যানাসনিক লুমিক্স ডিএমসি-টিএস১: প্যানাসনিক এই ক্যামেরাটি ওয়াটার, শক এবং ডাস্ট প্রুফ। ৫ ফুট উপর থেকে পড়লেও এর কোন ক্ষতি হবে না। ১২ দশমিক ১ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরাটির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ২ দশমিক ৭ ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিন, ৪ দশমিক ৬ এক্স অপটিক্যাল জুম, ১০ ফুট পানির নিচে ছবি তোলা, ১২৮০ বাই ৭২০ রেজুলেশনে ভিডিও ধারণ, এসডি এবং এসডিএইচসি মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা ইত্যাদি।

ক্যানন পাওয়ার শট ডি১০: ক্যাননের ক্যামেরাগুলোর মধ্যে পাওয়ার শট ডি১০ হলো অন্যতম। পাওয়ার শট ডি১০ ক্যামেরাটি হচ্ছে ওয়াটার, ফ্রিজ এবং শক প্রুফ। ১২ দশমিক ০ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে- ৩৫-১০৫ মি. মি. (৩এক্স) জুম, ২ দশমিক ৭ ইঞ্চি স্ক্রিন, পানির ৩৩ ফুট নিচে ছবি তোলা, ৬৪০ বাই ৪৮০ রেজুলেশনে ভিডিও ধারণ এবং এসডি স্টোরেজ সুবিধা। ক্যামেরাটি উপর থেকে আছড়ে পড়লেও সহজে নষ্ট হবে না। ক্যামেরাটিকে কিছুটা গোলাকার আকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এইচএএইচ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।