রাত ১০:০৬ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

সুষমার সফরে ব্যান্ডউইথ রফতানি চুক্তি হচ্ছে না

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম ॥

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের প্রথম বাংলাদেশ সফরে ব্যান্ডউইথ রফতানি চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিনও বিএসসিসিএল-এর বোর্ড সদস্য। বুধবার দুপুরে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন, 'অামি নিশ্চিত, চুক্তি হচ্ছে না।'

এদিকে বুধবার দুপুরে বিএসসিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকটি বিষয়ের কারণে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজার সফররত বিএসসিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে টেলিফোনে বলেন, অামরা চুক্তির চিঠি ভারতকে পাঠিয়েছি। ওই পক্ষ থেকে এখনও জবাব পাইনি। চুক্তিতে কয়েকটি পরিবর্তন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো এখনও অামরা ভারতে পাঠাইনি।

তিনি আরও বলেন, অামরা ব্যান্ডউইথ রফতানির বিষয়ে ৫ বছরের জন্য চুক্তি এবং প্রতি বছর চুক্তি রিভিউ করার প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু ভারত তা মানতে চাইছে না। তারা বছরভিত্তিক (প্রতিবার এক বছরের জন্য) চুক্তি করতে অাগ্রহী। এটা চুক্তির একটি সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ব্যান্ডউইথ রফতানির জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া (অাখাউড়া) থেকে অামাদের লিংক তৈরি করতে হবে। কিন্তু অামাদের এনটিটিএন লাইসেন্স নেই। এ দায়িত্ব কোনও এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে।"

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অাগরতলা হয়ে ত্রিপুরা রাজ্য পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার লিংক তৈরি করতে অন্তত ২০ কোটি টাকা খরচ হবে। এই পরিমাণ বিনিয়োগ এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলতে কমপক্ষে ৩ বছর সময় লাগবে। এ কারণে অামরা সর্বশেষ ৩ বছরের চুক্তির জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করেছি।

ব্যান্ডউইথ রফতানির রেট উল্লেখ করে তিনি অারও বলেন, অামরা যে রেট ভারতকে অফার করেছি তা তা 'একসেপ্ট' করল কিনা তা অামরা এখনও জানি না। তবে দুই দেশের ব্যান্ডউইথের 'দাম' প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রফতানি বিষয়ক একটি চুক্তি হওয়ার কথা। এ চুক্তির মাধ্যমে ১০ গিগাবাইট ব্যন্ডউইথ রফতানি করে মাসে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় করবে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের মধ্যে সংযোগ (লিংক) স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া সংযোগ তৈরি করার দুই বছরের মধ্যে ভারতে ১০০ গিগাবাইট ব্যন্ডউইথ রফতানির আশা করছে বাংলাদেশ।

জানা ‌‌ গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য ৪০ গিগা ব্যান্ডউইথ রফতানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ গিগা দিয়ে শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে তা ৪০ গিগায় উন্নীত হবে। এ জন্য রুটও ঠিক হয়েছে। এ রুটটি হবে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কুমিল্লা পর্যন্ত দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন। এরপর কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আখাউড়া-বর্ডার এলাকা-আগরতলা হয়ে ত্রিপুরা পর্যন্ত রুটে আট মাসের মধ্যে ব্যান্ডউইথ রফতানির পরিমাণ ১০ থেকে ৪০ গিগায় পৌঁছাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যান্ডউইথ রফতানির আরও একটি রুট নির্দিষ্ট হয়েছে। ওই রুটটি কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সিলেট দিয়ে তামাবিল সীমান্ত হয়ে মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং পর্যন্ত যাবে। এরপরে শিলং থেকে বিএসএনএল তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আসামের রাজধানী গুয়াহাটি পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ নিয়ে যাবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (অাইসিটি) বিভাগের দুই সচিব দেশের বাইরে থাকায় চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ব্যান্ডউইথ রফতানির সঙ্গে সরাসরি জড়িত বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড চেয়ারম্যান ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব অাবুবকর সিদ্দিক। চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিতে তার স্বাক্ষর করার কথা। অন্যদিকে অাইসিটি বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম খানও এখন দেশের বাইরে রয়েছেন। ফলে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এফএ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।