রাত ১০:৪৪ ; মঙ্গলবার ;  ২৫ জুন, ২০১৯  

গুগলের ঢাকা অফিস সহসাই হচ্ছে না

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥

ঘোষণার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল এখনও তাদের ঢাকা অফিস চালু করতে পারেনি। অাদৌ চালু হবে কী-না তা নিয়ে অনিশ্চতায় রয়েছে গুগলের সিঙ্গাপুর অফিস।

জানা গেছে, সরকারের কিছু নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ডিজিটাল গণমাধ্যমকে অারো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় গুগল তার ঘোষিত সময় থেকে ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে।

গুগল ২০১২ সালে বাংলাদেশে অফিস খোলার ঘোষণা দিয়ে এদেশেরই একজনকে কান্ট্রি কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয়। তিনি ওই বছরের ৫ নভেম্বর গুগলের সিঙ্গাপুর অফিসে যোগদান করেন। তারপর থেকে তিনি ঢাকায় বসে অনলাইনে এবং সিঙ্গাপুর গিয়ে অফিস করছেন। সে সময় গুগলের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছিল, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস নাগাদ গুগলের ঢাকা অফিস চালু হয়ে যাবে। ঢাকা অফিসের জন্য সে সময় 'গ্রাউন্ড ওয়ার্ক'ও শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার পর অারও এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে গুগল অফিসের কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, গুগলের (সিঙ্গাপুর) ব্যবসায় উন্নয়ন বিভাগের প্রধান (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) সার্জিও সালভাদর জানান, বাংলাদেশে গুগলের অফিস খোলার বিষয়টি কিছু কৌশলগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। ওই কৌশলগুলো গুগলের অনুকূলে না এলে অফিসের বিষয়টিতে অারো দেরি হতে পারে। তিনি বলেন, গুগলের নীতি হলো স্থানীয় আইন মেনে চলা। স্থানীয় অাইন যদি অামাদের স্বাধীনতা ও ব্যবসায়িক পলিসির ওপর প্রভাব ফেলে তাহলে অামরা বিষয়টি অাবার শুরু থেকে ভেবে দেখি।

সরকার যে অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা করতে যাচ্ছে সে বিষয়ের খসড়া অাগেভাগে জানতে পেরে গুগল বাংলাদেশে অফিস খোলার বিষয়ে অাগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এ ছাড়াও দেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চালু না হওয়াকেও গুগল একটা দুর্বলতা হিসেবে ভাবছে।

জানা গেছে, সরকার যে অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা করতে যাচ্ছে সে বিষয়ের খসড়া অাগেভাগে জানতে পেরে গুগল বাংলাদেশে অফিস খোলার বিষয়ে অাগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এ ছাড়াও দেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চালু না হওয়াকেও গুগল একটা দুর্বলতা হিসেবে ভাবছে। এ বিষয়গুলোর সমাধান হয়ে গেলে গুগল নতুন করে ভাববে বলে ইঙ্গিত দিলেন সার্জিও সালভাদর।

এ ছাড়াও তিনি গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে ইউটিউব (ইউটিউবের মালিকানা গুগলের) বন্ধ রাখার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, কোনো কিছু বন্ধ করে দিয়ে সেখান থেকে ভালো কিছু অাশা করা যায় না। প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশ দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে সে সময়। ওই সময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্রটি (একটি বিতর্কিত চলচ্চিত্র যার কারণে দেশে ইউটিউব বন্ধ ছিল) যাতে না দেখা যায় সে কারণে ফিল্টার সফটওয়্যার বা ওই ধরনের কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারত। অাগামী দিনে অাবারও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে অাশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাই নানা কারণেই অামরা বাংলাদেশ এখনো অামাদের বিজনেস হাব বা পয়েন্ট বলে ভাবছি না।

তবে বাংলাদেশকে একটি উদীয়মান ও বিকাশমান দেশ হিসেবে স্বীকার করে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ পেলে অামরা বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখব।

বাংলাদেশে ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের মতো উল্লেখ করে সার্জিও বলেন, যেখানে প্রতি মাসে ১ বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী ইউটিউবে ভিডিও দেখেন, প্রতি মিনিটে যেখানে ১০০ ঘণ্টার বেশি ভিডিও অাপলোড হয় সেখানে এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের সংখ্যা খুবই নগণ্য। অার যে পরিমাণ ভিডিও বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে ইউটিউবে অাপলোড হয়েছে তাও সন্তোষজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুগল ঢাকায় অফিস চালু করলে দেশের প্রযুক্তিতে মেধাবীদের মূল্যায়ন হতো। প্রচুর কনটেন্ট তৈরি হতো এ দেশে। দেশের মানুষও প্রযুক্তিগত অনেক সেবা পেত।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।