রাত ০৯:৪১ ; মঙ্গলবার ;  ২৫ জুন, ২০১৯  

পুরস্কার সংবাদ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

জন বানভিলের আস্তুরিয়াস পুরস্কার লাভ স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রিন্স অব আস্তুরিয়াস সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন ২০০৫ সালের বুকার পুরস্কারজয়ী ঔপন্যাসিক জন বানভিল। মোট তেইশজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে বানভিল এই পুরস্কার জিতেছেন। আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন প্রতি বছর আটটি ক্ষেত্রে পুরস্কার দিয়ে থাকে। সাহিত্য পুরস্কার সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। শিল্প, খেলাধূলা, বিজ্ঞান, জনসংশ্লিষ্ট কাজসহ অন্যান্য বিষয়ে বিশেষ অবদানের জন্য সারা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। আখ্যান বুননে মুন্সিয়ানা, সত্য প্রকাশের লক্ষণীয় দ্যোতনা এবং সর্বোপরি মানব হৃদয়ের গভীর গোপন চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার কথা উল্লেখ করেন বিচারকগণ। বানভিল চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার এবং সাহিত্য সমালোচক হিসেবে পাঠক মহলে সুপরিচিত। ২০০৫ সালের বুকার পুরস্কার পাওয়া তাঁর উপন্যাস 'দ্য সি' রচিত হয়েছে একজন অবসরপ্রাপ্ত শিল্প-ইতিহাসবিদের স্মৃতিচারণের ভিত্তিতে। বুকার পুরস্কার পাওয়ার পরে বানভিল বেনজামিন ব্ল্যাক ছদ্মনামে থ্রিলার লেখাও শুরু করেন। আস্তুরিয়াস পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ পুরস্কার তাঁর জন্য বিরাট আনন্দের এবং সম্মানের বিষয়। বেইলিস প্রাইজ- ২০১৪ পেলেন এইমিয়ার ম্যাকব্রিড image002এইমিয়ার ম্যাকব্রিডের নিরীক্ষাধর্মী উপন্যাসের নাম 'আ গার্ল ইজ আ হাফ-ফর্মড থিং'। ম্যাকব্রিড যখন তাঁর প্রথম উপন্যাস লেখেন তাঁর ডেস্কের ওপরে জেমস জয়েসের একটা লেখা ছিল। লেখাটা জয়েসের কোনো বন্ধুকে তিনি লিখেছিলেন : প্রত্যেক মানব অস্তিত্বের একটা বিরাট অংশ এমন একটা অবস্থায় কাটানো হয়ে থাকে যেটাকে ব্যাপক সচেতন ভাষা, কাঠখোট্টা ব্যাকরণ এবং চলমান আখ্যানের দ্বারা অর্থদান করা যায় না। উপন্যাসটি তৈরি হওয়ার পর প্রায় এক দশক অপেক্ষা করেছেন লেখক : অতিমাত্রায় নিরীক্ষাধর্মী মনে করার কারণে কেউ প্রকাশ করবেন কিনা সন্দেহ ছিল তাঁর। শেষে প্রকাশের পরই জিতে নিয়েছে বেইলিস উইমিনস প্রাইজ ফর ফিকশন। ম্যাকব্রিড এই পুরস্কার লাভ করেছেন সব নামকরা কথাসহিত্যিকের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায়। ডোনা টার্ট, চিমামন্দা নগোজি আদিচি এবং ঝুম্পা লাহিড়ির মতো সুপরিচিত লেখকদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন ম্যাকব্রিড। সমালোচকদের মতে তাঁর এই উপন্যাসটি ‘আপোসহীন এবং মেধাবী এবং নিষ্ঠুররকমের তৃপ্তিকর’। মূলধারার কথাসাহিত্যের পুরস্কার পেলেও তাঁর এই উপন্যাস প্রচলিত আঙ্গিকের একদম প্রান্তে অবস্থান করে। তাছাড়া তাঁর উপন্যাস পড়তে গেলে তাঁর নিজস্ব শৈলী এবং বিষয়বস্তুর নতুনত্বের জন্য মার্কিন কবি এমিলি ডিকিনসনের কথা মনে পড়বেই। এক সপ্তাহে দুটো পুরস্কার পেলেন অ্যালান জনসন image003অ্যালান জনসনের স্মৃতিকথা ''দিস বয় রয়েল সোসাইটি অব লিট্রেচার’স'' ওনদাৎজে পুরস্কার পাওয়ার পর ওরঅয়েল পুরস্কার লাভ করে। ওরঅয়েল পুরস্কার দেয়া হয়ে থাকে বিশেষ করে যে সব লেখা ওরঅয়েলের ইপ্সিত লক্ষের কাছাকাছি এসেছে বলে মনে করা হয় সেগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করা লেখাকে। যাঁরা রাজনৈতিক লেখাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন তাঁদের লেখাকেই মূলত এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। জনসনের লেখাকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয় সংক্ষিপ্ত তালিকার মোট ছয়টি গ্রন্থ থেকে। সে তালিকায় ছিল টেলিগ্রাফের সাবেক সম্পাদক চালর্স মুর রচিত মার্গারেট থ্যাচারের জীবনীও। জনসনের স্মৃতিকথা দিস বয় রচিত হয়েছে পঞ্চাশ এবং ষাটের দশকের লন্ডনে তাঁর ছেলেবেলার নানা ঘটনার সমাহারে। ওরঅয়েল পুরস্কারের বিচারকদের অন্যতম সিউ ম্যাকগ্রেগর বলেন, জনসনের স্মৃতিকথা বয়ান করা হয়েছে আত্ম-অনুকম্পা ছাড়াই। তবে রুচিশীলতা আর রসের অভাব নেই। যুদ্ধপরবর্তী ব্রিটেনে দারিদ্র পীড়িত একক পিতা/মাতার অভিভাবকত্বে বেড়ে ওঠার প্রাণবন্ত চিত্র দিস বয়। গ্রন্থনা : দুলাল আল মনসুর   

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।