রাত ১১:৪২ ; সোমবার ;  ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

দেশের মাটিতে ‌'ডিজিটাল বিশ্ব'

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম॥

দেশের মাটিতে বসেছে ডিজিটাল ‌'বিশ্ব' মেলা। অর্থাৎ বিশ্বকে ভাচুর্য়ালি বা ডিজিটালি দেখানোর এক চমৎকার অায়োজন শুরু হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে গেলে অন্তত এটুকু মনে হবে তথ্যপ্রযুক্তিতে অামরা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বুকে অামাদের অবস্থান কোথায়। নিজেদের খুঁজেফেরার একটা চেষ্টা থাকে বটে এ অায়োজনে। তবে অন্যের সঙ্গে নিজেকে মেলানোরও একটা মোক্ষধামও এই প্রদর্শনী। অাইডিয়া ভাগাভাগি, নিজের জ্ঞান উপস্থাপনের সুযোগ, অাগামীদিনে কী অাসছে বা কীসে অামাদের উন্নতি নিহীত সবই জানা-বোঝা যাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪ এর প্রদশর্নীতে। 

কমিউনিক এশিয়া, জাইটেক্স, কম্পিউটেক্স সিবিট- এই নামগুলো একেকটি দেশের সিগনেচার মার্ক। এসব মেলার নাম বললে অার দেশের নাম বলতে হয় না। প্রযুক্তিপ্রেমীরা ঠিকই বুঝে নেন, কমিউনিক এশিয়া মানে সিঙ্গাপুরে এশিয়ার সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি মেলা। অার সিবিট জার্মানির হ্যানেভারে অনুষ্ঠিত ইউরোপের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি মেলা। মাঝের দুটি মেলার কথা বললেও এ খাত সংশ্লিষ্টরা ঠিকই বুঝে নেন জাইটেক্স মেলা হয় দুবাইয়ে অার কম্পিউটেক্স এক্সপো হয় তাইওয়ানে। ব্যাস! মেলা দিয়ে দেশ বা শহর চেনা হয়ে গেল।

এমন একটা মেলা কবে হবে অামাদের দেশে?

এর জবাব হয়তো অার খব বেশি দূরে নয়। হয়তো দুই এক বছরের মধ্যেই মিলবে। সেই অালামত স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডই তার প্রমাণ। এই শুরু দিয়েই অাগামী বছর কয়েকের মধ্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিংটা হয়ে যাবে। দেশে প্রতি বছরই প্রযুক্তি বিষয়ক একাধিক মেলা হয়। কম্পিউটার মেলা, সফটওয়্যার মেলা, ল্যাপটপ মেলা, -এশিয়া, বা হালের ট্যাব ও স্মার্টফোন বা ই-বাণিজ্য মেলা। এর মধ্যে অন্তত একটা বা দুটো মেলা সফল হয়। অার বাকিগুলো নিয়মিত বার্ষিক অায়োজনে রূপ নেয়। এসব মেলায় অান্তর্জাতিকতার অাবহ অানা এক প্রকার জোর করেই। এ দেশে কয়েকটি বিশ্বখ্যাত হার্ডওয়্যার পণ্যর অফিস রয়েছে। সেই ব্র্যান্ডগুলো মেলায় সরাসরি অংশ না নিয়ে স্থানীয় অফিসের মাধ্যমে অংশ নেয়। অার অামরা বলি অান্তর্জাতিক মেলা। মেলাগুলো পুরোপুরি অান্তর্জাতিক হয় কীনা তা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ওঠে।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪ নিয়ে কারো কারো মনে দ্বিধা, প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু অায়োজকরা অন্তত অান্তর্জাতিক একটা লুক দিতে পেরেছে। দেশ-বিদেশের অনেক প্রযুক্তিবিষয়ক মেলা দেখার সুযোগ হয়েছে। এবারের মেলায় এসে মনে হচ্ছে বিদেশের মাটিতে কোনও মেলা দেখছি। কারণ বিদেশের মেলাগুলোয় একটা ছাতার নিচে অনেক অায়োজন (বিশেষায়িত) থাকে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে এবার রয়েছে সফটএক্সপো, ডিজিটাল গভর্নেন্স এক্সপো এবং মোবাইল ইনোভেশন এক্সপো। সে অর্থে অান্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কথা বলাই যায়। তবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ না বাড়ালে অাগামী দিনে এ ধরনের মেলা কৌলীন্য হারাবে। অার কৌলীন্য ধরে রাখতে না পারলে বাংলাদেশ কখনওই দক্ষিণ এশিয়ার বিজনেস হাব হতে পারবে না।

প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি বিষয়ক প্রদর্শনী বাংলাদেশের পক্ষেই অায়োজন করা সম্ভব। বাংলাদেশ একদিন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিজনেস-হাবে পরিণত হবে। যেমন সিঙ্গাপুর। এই সিঙ্গাপুর এখন এশিয়ার অন্যতম বিজনেস হাবে পরিণত হয়েছে। এতে অবশ্য কমিউনিক এশিয়ার অনেক অবদানও রয়েছে। ফি বছর ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড অায়োজন করে কী বাংলাদেশকে ওরকম একটা লুক এনে দেওয়া যায় না। অামাদের দেশের মানুষ চাইলেই তা পারেন। পারেন কী দেখিয়েই তো দিচ্ছেন।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে বাংলাদেশের তৈরি সফ্টওয়্যার ও আইটি সেবা রফতানি করে ২০২১ সালের মধ্যে বর্তমানের ১০০ মিলিয়ন থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের অায়োজন নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি শামীম অাহসান বললেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে সরকারি খাতে অনেক কাজ হয়েছে। বিদেশিরা সেসব কাজ সম্পর্কে অামাদের কাছে জানতে চায়। এ ধরনের এক্সপোর মাধ্যমে খুব সহজেই জানানো যায়। প্রদর্শনীতে তাদের সামনে সব কিছু তুলে ধরা সম্ভব। খুব বেশি কিছু তাদেরকে বুঝিয়ে বলতে হয় না বলে তিনি জানান।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪ এর প্রধান প্রকল্প কর্মকর্তা ও বেসিসের মহাসচিব রাসেল টি. অাহমেদ বলেন, অামাদের দেশে সিগনেচার ইভেন্ট নেই। সিঙ্গাপুরের কমিউনিক এশিয়া, জার্মানির সিবিট হলো সে দেশের বিশেষ করে বিশ্বের চোখে সিগনেচার ইভেন্ট। বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য অামাদের এ ধরনের ইভেন্ট প্রয়োজন।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান (যার করপোরেট অফিস সিঙ্গাপুরে) রিভ সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী রেজাউল হাসান বললেন, কমিউনিক এশিয়া প্রতি বছর জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়। চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবলের মৌসুমের সঙ্গে মেলার একটা অলিখিত সংঘর্ষ হয়। কিন্তু কমিউনিক এশিয়ার অায়োজকরা তাদের নির্ধারিত সময়েই মেলা অায়োজন করে। মেলা সফলও হয়। তিনি জানালেন, কমিউনিক এশিয়ার জন্য প্রযুক্তিপ্রেমীরা মুখিয়ে থাকেন।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।