সন্ধ্যা ০৬:১৬ ; রবিবার ;  ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬  

‘নাস্তাঘাট ঠিক করি দেবে!’

প্রকাশিত:

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

সাতক্ষীরায় প্রার্থীদের আদর-যত্নে ভোটারা এখন অতিষ্ঠ! ভোট যতই এগিয়ে আসছে প্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি ততই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের রতখোলা বিল এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, “ক্যান্ডিডেটগের জ্বালায় ঠ্যাং নাম্বা করি সুইত পাচ্ছি নি। আসিক পর খপ করি ঠ্যাং অ্যাটি ধর্তিছ । ভোটে জিততি পারলি ‘এ’ করবো ‘ও’ করবো।”

রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘গেল বার ভোটে মেম্বার এসি কলু পাড়ায় পাড়ায় আসি প্রত্যেক মাসে আমাগির সুখ দুঃখের কুতা শোনবে। নাস্তাঘাট ঠিক করি দেবে। ছেলি-পিলের লিখাপুড়ার ব্যবস্থা করবে। আমাগির ভ্যান-নিকশার নাইচেন্স করি দেবে। কই! ৫ বছরে তো কিচ্চু দেলে না। বর্ষা কালে আমাগির উঠুনি হাটুর উপরে পানি উঠিল। সাকো বানাইয়ি যাবা আসা করতি হয়িল। এক দিনির জন্যও মেম্বার কী আসতি পারতু না? তিন মাস এক রকম ডুবি ছিলা। পানি সুরানির কোন মুরোদ হয়নি।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘টাউনি বাস করি খাবার পানির পর্যন্ত দিত পারিনি। সাপলাইয়ের পানির মর্ধি কী কোনও দিন আল কাতরা থাকে? টাউনির মধ্যি নাস্তা (রাস্তা) ঘাটের যা অবস্থা তাতে ভ্যান-নিকশা ওয়ালারা আসতি চায় না। আসলিও মিলা ভাড়া চায়। এই দেখেন নাস্তায় উছুড় খায়ি আমার নোক উল্টি গেছে। এবার পতিক দেখি ভোট দোব না। যে ভালো তাকে ভোট দেব।’

শুধুমাত্র রতখোলা বিলের রাস্তা নয় পৌর এলাকার অধিকাংশ রাস্তা ঘাটে এই অবস্থা। পুরো পৌরসভায় কিছু রাস্তা ছাড়া সব রাস্তার বেহাল দশা। গত বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড পানিতে ডুবে ছিল। এই কারণে সড়কগুলো এখন এবড়ো থেবড়ো অবস্থায় আছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে,বাড়ির উঠানে জমে থাকা পানি,কিংবা পৌর এলাকার নিচু জায়গার পানি অপসারণের জন্য কোনও ব্যবস্থা নেই। ড্রেনের পাশে অপরিকল্পিতভাবে বিল্ডিং নির্মাণ করার জন্য এসব সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। গণশৌচারগুলোর অবস্থা করুণ। এদিকে শিশুদের জন্য একটি মাত্র পার্ক থাকলেও সেটি বেশিরভাগ সময় মেলা,সভা-সেমিনার এবং বয়স্কদের দখলে থাকে। সেখানে শিশুদের জন্য নেই পর্যাপ্ত রাইড। সাপ্লাই পানিরও সংকট রয়েছে। প্রতি বছর শীতে পানির সংকট দেখা দেয়। পানি শোধনাগারের সমস্যা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ডাস্টবিন কম থাকায় পৌর এলাকার অনেক জায়গায় রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় নাক ধরে হাঁটতে হয়।

সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে,জেলা সদরে অবস্থিত সাতক্ষীরা পৌরসভা ১৮৬৯ সালে ৩১.১০ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট খুলনা বিভাগের প্রথম পৌরসভা হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। ৯টি ওয়ার্ডে ৪০টি মহল্লা নিয়ে গঠিত পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ৭৯ হাজার জনসংখ্যা রয়েছে।

/জেবি/এমআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।