ভোর ০৬:১৩ ; রবিবার ;  ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬  

কূটনীতিকদের বিএনপি: পৌর নির্বাচনে মাঠেই থাকার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

সালমান তারেক শাকিল ।।

পৌরসভা নির্বাচনে মাঠ ছাড়বে না বিএনপি। দলীয় এ সিদ্ধান্তের কথা বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছে দলটি। বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) কূটনীতিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে এ সিদ্ধান্ত জানান বিএনপি নেতারা। বৈঠকে বিএনপির পক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। কূটনীতিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির পররাষ্ট্র উইংয়ের সঙ্গে যুক্ত একজন নীতিনির্ধারণী নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের কূটনীতিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনাম আহমেদ চৌধুরী, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা খান প্রমুখ।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, উভয়পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতেই বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকদিন ধরেই বিচ্ছিন্নভাবে বিদেশি দূতাবাসগুলো থেকে পৌরনির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাওয়া হচ্ছিল। এরপরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শে একসঙ্গে বসেই বিদেশিদের নির্বাচন প্রসঙ্গে দলীয় অবস্থান জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

ওই নেতা জানান, আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন নেতাকে ফোন করে কূটনীতিকদের অনেকেই নির্বাচন নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনার কথা জানতে চেয়েছেন। কূটনীতিকরা বলেছেন, ‘আপনাদের স্টেটমেন্ট (বিবৃতি) তো প্রকাশিত হচ্ছে। এগুলোও চোখে পড়ছে।’

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, কূটনীতিকদের প্রশ্ন ছিল, বিএনপির অবস্থান সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো হবে কি না।

প্রসঙ্গত, বিগত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দল-সমর্থিত প্রার্থী দিয়ে ভোটের দিন দুপুরের দিকে পক্ষপাতিত্ব ও কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিল বিএনপি।

কূটনীতিতে অভিজ্ঞ এ নেতা আরও জানান, মূলত কূটনীতিকদের প্রশ্ন ছিল, বিএনপি নির্বাচনে থাকবে কি না। কারণ, তারা বলেছেন, বিএনপি ইতোমধ্যে নানা অভিযোগ তুলেছে। এ কারণেই তাদের জানতে চাওয়া। তো আমরা বলে দিয়েছি, এটা পরিষ্কার যে, আমরা নির্বাচনের শেষ দেখে ছাড়ব। তিনি এও জানান, সরকার নির্বাচন প্রভাবিত করবে, এটি তারাও জানে। আমরাও জানি। এটাই তাদের সরাসরি জানাতে চাই, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রকৃত হাল কী হয়, সেটি। বরং আমরা নির্বাচনে না গেলে, তারা তো সারাদেশে তাদের প্রার্থী ডিক্লেয়ার করে দেবে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মঈন খানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, মূলত চারটি বিষয়ে আমরা বিদেশিদের জানিয়েছি। এগুলো হচ্ছে, পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসির অসহায়ত্ব, অব্যাহত খুন ও ধরপাকড়, ইসির নির্বাচনি নিয়মকানুন প্রতিপালন এবং গণতান্ত্রিক চচার বর্তমান পরিস্থিতি। তিনি বলেন, বৈঠকেই সবাই কথা বলেছেন। বিদেশিরা খুব আন্তরিক ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের পলিটিক্যাল অফিসার, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সরদার সুজা আলম, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার, জার্মানি, ব্রিটেন, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, সুইডেন, নেপাল, কানাডা, জাপানসহ ১৪টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, জাতিসংঘের প্রতিনিধিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।