রাত ০২:১৮ ; সোমবার ;  ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬  

সিপিডির বক্তব্য ঠিক নয়, এমসি-১০ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি অনেক : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের ১০ দেশের সম্মেলনের অর্জন সম্পর্কে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সংবাদ সম্মেলনে যে সকল তথ্য পরিবেশন করেছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। যে উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ সম্মেলনে যোগদান করেছিল, তা সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর সমন্বয়কারী এবং মুখপাত্র। বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত সকল দেশের পক্ষে কাজ করেছে, বিভিন্ন ইস্যুতে দরকষাকষি করেছে এবং তা সফল হয়েছে। মিনিস্টারিয়াল ডিক্লারেশনে তার প্রতিফলন ঘটেছে। সেখানে এমন কিছু নেই, যাতে বলা যায় বাংলাদেশ হতাশ বা ব্যর্থ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব মন্তব্য করেন তোফায়েল আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রাপ্তি অনেক। এরমধ্যে রয়েছে, ওষুধ শিল্পের মেধাস্বত্ত্ব সংক্রান্ত অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা। প্রিফারেন্সিয়াল মার্কেট অ্যাকসেস বিশেষ করে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে রুলস অফ অরিজিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রুলস অফ অরিজিন প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। ফলে শতকরা ৭৫ ভাগ আউটসোর্সিং করে প্রদত্ত সুবিধার আওতায় পণ্য রফতানি করা সম্ভব হবে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৭০ ভাগ। সেবা খাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ওয়েভার-এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের জন্য কৃষিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পরিবহনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডব্লিউটিওর সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ ছাড়া বেশিরভাগ উন্নত দেশের কাছ থেকে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছে। এ অবস্থায় নাইরোবি এমসি-১০ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনও প্রাপ্তি নেই এটা সঠিক নয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর সমন্বয়কারী এবং মুখপাত্র হিসেবে সম্মেলনের সংশ্লিষ্ট সকল মিটিং ও নেগোসিয়েশনে বাংলাদেশ অংশ নিয়ে মতামত দিয়েছে এবং সুফল বয়ে এনেছে। এমসি-১০ এর অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন। ওই সম্মেলনে সিপিডির কোনও প্রতিনিধি ছিল না। ফলে অনেক কিছুই সংস্থাটির অজানা থাকতে পারে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী, জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের মিনিস্টার ড. মোস্তফা আবিদ খান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মতলুব আহমাদ, আন্তর্জাতিক চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ওষুধ সমিতির মহাসচিব আব্দুল মুক্তাদির বক্তব্য রাখেন।

 

/এসআই/এফএ/আপ-এনএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।