রাত ০২:২১ ; সোমবার ;  ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬  

জিকা ভাইরাস: ব্রাজিলে ৬টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বিদেশ ডেস্ক।।

৭০ বছরেরও বেশি সময় আগেকার কথা। আফ্রিকার জঙ্গলে বানরের মধ্যে জিকা নামে এক ধরনের ভাইরাসের অস্তিত্ব খুঁজে পান গবেষকরা। আর এ ভাইরাসটি নিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর দেখা যায়, জিকা ভাইরাসে আক্রান্তরা মারাত্মক স্নায়ু জটিলতায় ভুগতে পারেন, এমনকি তাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

যে ভাইরাসটি ৭০ বছর আগে আফ্রিকায় উদ্বেগ তৈরি করেছিল, সে ভাইরাসটি নিয়ে নতুন করে তোলপাড় চলছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। দেশটিতে বিকৃত মস্তিষ্ক নিয়ে ২ হাজারেরও বেশি শিশুর জন্মের জন্য মশা-সৃষ্ট একটি ভাইরাসকে দায়ী করছে ব্রাজিলের স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, মশা-সৃষ্ট দ্য প্যাথাগন কিংবা জিকা নামের ভাইরাসের উপস্থিতির কারণেই চিকন খুলি নিয়ে জন্মাচ্ছে ব্রাজিলের হাজার হাজার শিশু। ব্রাজিলের পরিস্থিতি এতোটা ভয়াবহ যে এরইমধ্যে দেশটির ছয়টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি চিকিৎসা অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

গত ২৮ নভেম্বর ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়, মাইক্রোসেফালি বা চিকন খুলি নিয়ে জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের মাঝে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ওই নবজাতকের মৃত্যুর পর অটোপসি রিপোর্টে সে তথ্য পাওয়া যায় বলে জানানো হয়। এছাড়া দুই অন্ত:সত্ত্বা মায়ের অ্যামনিওটিক ফ্লুইডেও (মায়ের গর্ভে যে জলীয় পদার্থের মধ্যে শিশুর বাস) জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ধরনের ঘটনাকে বিশ্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৫ সালে ব্রাজিলে ২ হাজার ৪শ’রও বেশি মাইক্রোসেফালি আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৯ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির পরিস্থিতি এতো ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছছে যে সেখানকার নারীরা এখন গর্ভধারণেও ভয় পাচ্ছেন উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কয়েক বছর আগেও মানুষের শরীরে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্বের কথা শোনা যেতো না। ২০০৭ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ ইয়াপের ১১ হাজার বাসিন্দার প্রায় তিন চতুর্থাংশ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৩ সালে তাহিতিসহ ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জের আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় ২৮ হাজার মানুষ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসা নেন তারা।

মে মাসে ব্রাজিলে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হলে হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চলতি মাসে ব্রাজিলে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া এবং সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে একটি সতর্কতা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একইসঙ্গে ভাইরাসটি পানামা এবং হন্ডুরাসে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও সতর্কতা জারি করা হয়।   

এমনকি বিদেশ থেকে আসা এমন কয়েকজনের মাঝে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। তবে দেশের ভেতরে মশার কামড়ে কেউ আক্রান্ত হয়নি বলেও দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এনডিটিভি/ওয়াশিংটন পোস্ট

/এফইউ/বিএ/



 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।