দুপুর ১২:০৬ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

জলঢাকায় মামা-ভাগ্নের লড়াই, সুবিধা পাচ্ছে বিএনপি

প্রকাশিত:

নীলফামারী প্রতিনিধি।।

‘মামা-ভাগ্নে যেখানে আপদ নেই সেখানে’ এই কথাকে ভুল প্রমাণ করে দিচ্ছেন তারা। নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে লড়ছেন হেভি ওয়েট প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর। প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন তার আপন ভাগ্নে বর্তমান মেয়র ও জলঢাকা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বাবলু।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে বাবলু গত ২৫ নভেম্বর দলের সঙ্গে যোগ দেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসাবে মামার নৌকার বিরুদ্ধে নারিকেল গাছ নিয়ে ভোটে লড়ছেন তিনি।

আর এদিকে মামা-ভাগ্নের দ্বন্দ্বে লাভবান হয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল কমেট। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর রেষারেষিতে ভোটের মাঠে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী ফয়সাল। ফলে শেষ পর্যন্ত জলঢাকা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

নির্বাচনি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,জলঢাকায় ভোটের মাঠে লড়াই হবে  শেষ পর্যন্ত ত্রিমুখী। নৌকা মার্কার প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর জানান, তার ভাগ্নে বিদোহী প্রার্থী বাবলু এলাকার কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। তাই এ কারণে নৌকা প্রতীকে  ভোট দিয়ে তাকে ভোটাররা জয়যুক্ত করবেন।

বিএনপি প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল বলেন, ‘পৌরবাসী আমার বাবাকে ভালোবেসে দুইবার মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন। আমি আশা করি, এবার আমাকে ভোটররা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।’

সরকার দলীয় প্রার্থীর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সরকার দলীয় প্রার্থী আমার কর্মী-সমর্থকদের হয়রানি করছে ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট হলে আমার বিজয় ঠেকানো অসম্ভব।’

এছাড়াও জাতীয় পার্টির আব্দুল কাদের চৌধুরি বুলু, জামায়াতের নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মকবুল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের শরিফুল ইসলাম নির্বাচন করছেন।

জলঢাকা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ হাজার ৫৭৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৪ হাজার ৫২৭ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৫ হাজার ৪৯ জন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, এখন পর্যন্ত এখানে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। কোনও আচরণবিধি লঙ্ঘনের আলামত বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে সব সময় প্রশাসনিক নজরদারি রয়েছে।

/এআর/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।