ভোর ০৬:১৬ ; রবিবার ;  ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬  

১৪ ঘণ্টার অভিযান শেষ, সাত জঙ্গি আটক, গ্রেনেড উদ্ধার

উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দিয়ে ২০০টি গ্রেনেড বানানো যেত

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী থানা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি ভবনে টানা ১৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে তিনজন জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে জানা গেছে। এসময় ১৬টি গ্রেনেড, ট্রাংকভর্তি বিস্ফোরক ও প্রচুর জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ৭ জনের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- বিইউবিএটি এর চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ ও মামুন, নাহিদের ভাগ্নে রাজ এবং একটি অনলাইন মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা।

বিকেল ৪টায় অভিযান সমাপ্ত করে ঘোষণা করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ১৪ ঘণ্টা চালানো অভিযান কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখন আলামতগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো সিআইডি ক্রাইম টিমকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সানোয়ার হোসেন, ‘অভিযানে ১৭টি গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।  অভিযান শেষ হলে ভবনটি সিলগালা করা হবে।’

রাত ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

যুগ্ম কমিশনার জানান, যে পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। তা দিয়ে আরও ২০০টি গ্রেনেড তৈরি করা যেত।

পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বাড়িটিতে অভিযান চালাই। বাড়িতে যেসব ভাড়াটিয়া ছিলেন তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পর এই অভিযান চালানো হয়। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা হোমমেড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর আমরা আমাদের অভিযান চালাই। বোম ডিসপোজাল ও সোয়াট টিম ভবনটির ভেতরে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেন। যাদের মধ্যে তিনজন জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি চারজনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদেরকে ডিবি অফিসে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, হোসেনি দালান ও ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় যে গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল এখানেও একই ধরনের গ্রেনেড পাওয়া গেছে। তাদের কোনও নাশকতা পরিকল্পনা ছিল কিনা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মডিয়া) জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেছেন, মিরপুর ১ এর রোড-৯,ওয়ার্ড-৮, ব্লক-এ শিশু পার্কের পাশের ৩নং বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। বাড়ির মালিকের নাম আবুল হোসেন ভুইয়া। অভিযানের সময় ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছিল।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সানোয়ার হোসেন বলেন, জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্যকে বুধবার আটক করা হয়েছিল। তার দেওয়া তথ্যমতে এ বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালানো হয় রাত ৩টা থেকে। এসময় জঙ্গিরা ভেতরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট এখানে কাজ করে। তারাও প্রতিরোধে আর্ম গ্রেনেডসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে। জঙ্গিরা কী পরিমাণ বিস্ফোরক ঘটিয়েছে আমরা তা নিশ্চিত করে বলতে পারব না,কারণ আমরা নিচে ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ফ্ল্যাটের রান্নাঘর থেকে একটি ও পাশের ফ্ল্যাটের বিছানা থেকে আরেকটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি ট্রাংকের ভেতরে গ্রেনেড আছে বলে আমরা ধারণা করছি। গ্রেনেডগুলো দেশীয় তৈরি। তারা চার মাস আগে চাকরি ও শিক্ষার্থী বলে বাসা ভাড়া নিয়েছেন।

বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে জঙ্গিদের কোনও নাশকতা পরিকল্পনা ছিল কিনা এমন প্রশ্নে সানোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমরা অবগত। তাছাড়া সম্প্রতি কিছু ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডিবি এ ব্যাপারে তৎপর ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।

এদিকে পাশের বাসার ভাড়াটিয়ারা বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে তারা গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছে।

অভিযানের আগে আমাদের প্রধান বিষয় ছিল বাসার অন্যান্য বাসিন্দাদের নিরাপত্তা। আমরা তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছি এরপর অভিযান চালিয়েছি।

/এআরআর/এআর/এনএস/এএইচ/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।