সকাল ১১:২৩ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

জামায়াত-বিএনপির প্রার্থীরা কারাগারে, প্রচারণায় স্ত্রী-স্বজন

প্রকাশিত:

বগুড়া প্রতিনিধি।।

বগুড়ায় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপির বেশ কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী জেলে এবং আত্মগোপনে থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের পক্ষে স্ত্রী ও স্বজনরা প্রচারণায় রয়েছেন। এদের কেউ কেউ সরকার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা ও কর্মীদের মারপিটের অভিযোগ করেছেন। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, নাশকতা, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলায় বগুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমু, ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জামায়াত নেতা এরশাদুল বারী এরশাদ, জেলা যুবদল সভাপতি ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ার, শহর যুবদল সভাপতি ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুদ রানা মাসুদ, ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ও কাহালু পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী পৌর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জহরুল ইসলাম বাদশা কারাগারে আছেন।

অপরদিকে গ্রেফতার এড়িয়ে কৌশলে প্রচারণায় রয়েছেন, বগুড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা পরিমল চন্দ্র দাস, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, ১২নং ওয়ার্ডের জামায়াত নেতা জুলফিকার আলী বাবু, ১৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা হারুন-উর-রশিদ সাজু, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামায়াত নেতা রুহুল কুদ্দুস ডিলু প্রমুখ জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মী। তাদের পরিবর্তে স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের সদস্যারা মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারাই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কাহালু পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী পৌর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জহরুল ইসলাম বাদশা জেলে থাকায় তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও বোন মৌসুমী খাতুন প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাবা সাগাটিয়া গ্রামের আবদুর রশিদ ২-৩ জন কর্মী নিয়ে পোস্টারিং করছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কোনও অভিযোগ নেই। কারারুদ্ধ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমুর স্ত্রী জিনাত পারভিন স্নিগ্ধা জানান, ভোটারদের প্রচুর সহানুভূতি পাচ্ছেন। তার বিশ্বাস তার স্বামী হিমু তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। আর এ জয়লাভের মাধ্যমেই তাকে (স্বামী) মুক্ত করবেন। ১৫নং ওয়ার্ডের কারারুদ্ধ কাউন্সিলর প্রার্থী শহর যুবদল সভাপতি মাসুদ রানা মাসুদের স্ত্রী রেহেনা বেগম সরকার দলীয় প্রার্থী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণায় বাধা, মহিলা কর্মীদের মারপিট, ফোনে হুমকি, প্রচারণার রিকশা ভাঙচুর ও পোস্টারে আগুনে দেবার অভিযোগ করেন। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেন। রেহেনা বেগম সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এ ওয়ার্ডে সাত কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন। জেলা যুবদল সভাপতি সিপার আল বখতিয়ারের পক্ষে তার স্ত্রী আয়েশা জামান ও জামায়াত নেতা এরশাদুল বারী এরশাদের পক্ষে তার স্ত্রী শাহেদ আরা সুলতানা রোজী মাঠে নেমেছেন। তারা তাদের স্বামীদের পক্ষে ভোট ভিক্ষা করছেন। সকাল থেকে রাত অবধি তারা স্বজন ও সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের প্রতি শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়; সাধারণ ভোটাররাও সহানুভূতি দেখাচ্ছেন। শাহেদ আরা সুলতানা রোজী জানান, এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের কর্মীরা খারাপ আচরণ করেননি। এমন পরিবেশ থাকলে আর ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দেবার সুযোগ পেলে তারা অবশ্যই জয় লাভ করবেন। কারারুদ্ধ ও পলাতক প্রার্থীদের স্বজনরা নির্বাচনি প্রচারণার স্বার্থে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।

/এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।