রাত ০৮:০৬ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৮ জুলাই, ২০১৯  

৩৫ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এমরান হোসাইন শেখ।।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের ৩৪ হাজার ৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ১৮৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। যা মোট কেন্দ্রের শতকরা ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা পাওয়ার বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে খুলনা বিভাগে আর কম ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগ হচ্ছে সিলেট।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে- ঢাকা বিভাগের ৯৯১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। যার শতকরা হার ৩৫ শতাংশ। রংপুর বিভাগের ৩০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ। যার শতকরা হার ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগের ৮০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২৪৬টি। শতকরা হার ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ। খুলনা বিভাগের ৪৭১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। যার শতকরা হার ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ। সিলেট বিভাগের ১৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। যার শতকরা হার ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর বরিশাল বিভাগের ৪৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬৯ টি ঝুঁকিপূর্ণ। যার শতকরা হার ৩৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে ২৩৩টি পৌরসভার নির্বাচনের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষিত ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে ফেনীর পরশুরাম পৌরসভার সবগুলো পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এখানে কোনও নির্বাচন হবে না বলে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত আদালতের রায়ে ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আরও দুটি পৌরসভা কমেছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর মোট ২৩১টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে চিহ্নিতকরণের কাজটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমরা কাজ করছি।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সম্ভাব্য গোলযোগের ৫টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ হচ্ছে- (১) বিএনপি ও জামায়াত/শিবির নেতা কর্মীরা তাদের প্রার্থীদের নির্বাচনে জয়লাভ করানোর উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে নাশকতা/গোলযোগ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে। (২)  এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও একচেটিয়া ভোট লাভের চেষ্টায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থীরা কতিপয় কেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। (৩) নির্বাচনকে বিতর্কিত কিংবা রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক গোলযোগ সৃষ্টি করা হতে পারে। (৪) ভোটগ্রহণ পরবর্তীতে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এলাকায় গোলযোগ ‍সৃষ্টি করতে পারে এবং (৫) স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় গোলযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

 

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।