সন্ধ্যা ০৬:১৪ ; রবিবার ;  ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬  

যেভাবে প্রত্যাহার করা হলো পাকিস্তানি কূটনীতিককে

প্রকাশিত:

শেখ শাহরিয়ার জামান।।

পাকিস্তান দূতাবাসের কূটনীতিক ফারিনা আরশাদকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা ত্যাগ করতে বলার পরিপ্রেক্ষিতিই তাকে প্রত্যাহার করে নিল পাকিস্তান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা দুদিন আগে মৌখিকভাবে তাদেরকে (পাকিস্তান) বলেছি, তারা যেন আরশাদকে প্রত্যাহার করে। তারা সেটা মেনে নিয়েছে।

ফারিনা আরশাদ সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় তিন বছর কর্মরত ছিলেন এবং বুধবার ঢাকা ত্যাগ করেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়াতে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সংবাদ প্রকাশের পর তার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিন্তাভাবনা করে এবং পাকিস্তান দূতাবাসকে তাকে প্রত্যাহারের জন্য বলে।

তিনি বলেন এটি নতুন কোনও ঘটনা নয়, কারণ এর আগে জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মাজহার খানকে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মাজহার খানকে জাল নোটসহ পুলিশ বনানি থেকে গ্রেফতার করে এবং তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার (মাজহার) অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রমাণসহ জানতে পারার পর পাকিস্তান মিশনকে তাকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কোনও কূটনীতিকের কর্মকাণ্ড কোনও দেশ পছন্দ না করলে সেই দূতাবাসকে সতর্ক করে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যকলাপে লিপ্ত থাকলে তাকে অনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়।

এ মাসের গোড়ার দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আমরা অবশ্যই মূল্যায়ন করছি, কী করা দরকার, সেটাও ভাবছি। কিন্তু সম্পূর্ণ জিনিসটাই একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

মন্ত্রী দাবি করেন, পাকিস্তানের স্বৈরশাসক সাবেক রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশাররফ ১৯৭১ সালে তাদের অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন।

/এসএসজেড/এফএ/আপ-এনএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।