রাত ০৮:১৬ ; বুধবার ;  ২৫ এপ্রিল, ২০১৮  

ভারতে বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দার মৃত্যু, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বিদেশ ডেস্ক।।

ছিটমহল বিনিময়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ভারতের কোচবিহারে আশ্রয় নেওয়া ৭৪ বছর বয়সী ঈশ্বর নারায়ণের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ অসুস্থ শরীরে ঠাণ্ডার প্রকোপ সহ্য করতে না পেরেই তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃনমূলের কোচবিহার জেলার শীর্ষ নেতার দাবি ওই ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে। এক প্রতিবেদনে দুপক্ষের এ পাল্টাপাল্টি অভিযোগের খবরটি জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

ঠিক একমাস আগে ২৪ নভেম্বর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসে ঈশ্বর নারায়ণ রায়ের পরিবার। তাঁদের রাখা হয়েছে কোচবিহারের হলদিবাড়ি এলাকার একটি অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে। বুধবার (২৩ ডিসেম্বর)সকালে শিবিরেই মারা যান নারায়ণ।

প্রয়াত নারায়ণের ছোট ছেলে অক্ষয় কুমার বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘বাবা অসুস্থ ছিল, যার জন্য বর্ডার পেরুনোর পরেই সরাসরি হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হয়েছিল, রক্তও দিতে হয়েছিল। কিন্তু ভীষণ ঠাণ্ডা পড়েছে, তার ওপরে টিনের ঘর। দুটো মাত্র কম্বল পেয়েছি। খড় বিছাতে হয়েছিল মেঝেতে। শীতের পোশাকও ঠিকমতো নেই। ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারল না বাবা।’

নারায়ণের স্বজনরা জানান, নয়জনের পরিবারের জন্য সরকারের তরফে মাত্র দুটি কম্বল দেওয়া হয়েছিল। চারদিকে ঢেউ টিনের ঘরে ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে খড়ের গাদা পেতেছিল ওই পরিবারটি। সেই খড়ের ওপরেই সকালে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের।

এদিকে ক্ষমতাসীন তৃনমূলের কোচবিহার জেলার শীর্ষ নেতা ও বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দাবি করেন, ‘ওই ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছে। আর ত্রাণ সামগ্রীরও কোনও অভাব নেই। সরকার যা দিয়েছে, তার ওপরে বিধায়করাও তাদের কোটা থেকে বাড়তি কম্বল দিয়েছে। তাই ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পেরে উনি মারা গেছেন, এ কথা সঠিক নয়।’

কেবল ঈশ্বর নারায়ণের পরিবারই নয়, অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে ত্রাণের অপ্রতুলতা নিয়ে অভিযোগ করছেন আরও অনেকেই।

হলদিবাড়ি এলাকার ওই শিবিরেই আশ্রয় পেয়েছেন বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত ভারতীয় ছিটমহল নাজিরগঞ্জের  বাসিন্দা জয়প্রকাশ রায়।

তার অভিযোগ, ‘পরিবার পিছু দুটো করে ঘর দেওয়া হয়েছে। একটা তোষক, দুটো বালিশ, একটা মশারী আর মেঝেতে পাতার জন্য দুটো ত্রিপল দিয়েছে সরকার থেকে। মেঝেগুলো বাঁধানো আর আড়াই ফুট পাকা দেওয়াল, তার ওপরে পুরোটাই টিন। ছাদও টিনের। এগুলোতে শীতে যেমন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে, গরমকালেও সেরকম গরম হয়ে উঠবে।’

তবে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলছেন, ‘ত্রাণসামগ্রী কম নেই, কিন্তু অস্থায়ী শিবির বা পুরনো ছিটমহলগুলোতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটা বড়সড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে টাকা দেবে বলেছিল, তার প্রায় কিছুই দেয়নি। প্রায় সবটাই রাজ্য সরকারকে খরচ করতে হচ্ছে। এটা তাড়াতাড়ি সমাধান না করা গেলে খুবই অসুবিধায় পড়তে হবে সবাইকে।’

এদিকে কোচবিহারের জেলাপ্রশাসকের সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায় নি বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি বাংলা।

/এফইউ/বিএ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।