রাত ০১:৪২ ; বুধবার ;  ২৬ জুন, ২০১৯  

ধলেশ্বরী থেকে সাংবাদিক সজীবের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি।।

নিখোঁজের তিনদিন পর সাংবাদিক আওরঙ্গজেব সজীবের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর স্ত্রী মোরশেদা বেগম সজীবের লাশ শনাক্ত করেন।এর আগে, শনিবার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি।

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইউনুস আলী জানান, বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে তারা খবর পান, ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী প্রফেসর ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ রেসিডেন্সয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি লাশ ভাসছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সোয়া চারটার দিকে লাশ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে সজীবের স্ত্রী মোরশেদা বেগম নিশি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। তার পরনে রয়েছে শার্ট-প্যান্ট ও হাফহাতা সোয়েটার।
সজীবের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের খাসকান্দি এলাকায়। তিনি পুরান ঢাকার চকবাজারের কমলদহ এলাকার উর্দু রোডের ৯/১-এর নিজস্ব বাড়িতে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নুর মোহাম্মদ সোহান ও ইসমাত আরা সাবাকে নিয়ে থাকতেন। রবিবার তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে পরদিন সোমবার তার স্ত্রী মোরশেদা বেগম নিশি শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বলা হচ্ছিল, রাজীব  ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী এমভি তাকওয়া লঞ্চ থেকে মুন্সীগঞ্জে ধলেশ্বরীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।

সজীব ভোরের ডাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলাভিশন, সময়, ইনডিপেনডেন্টসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমআরএ) সাবেক সভাপতি। তার বাবার নাম মৃত নুর মোহাম্মদ। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সজীব তৃতীয়।     

মোরশেদা বলেন, রবিবার সকাল ৭ টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। পরে লোকমুখে শুনতে পান তার স্বামী মুন্সীগঞ্জের কাছে লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বামী হঠাৎ মুন্সীগঞ্জে যাবেন কেন? কেন তিনি ঝাঁপ দেবেন? এর পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে।
সজীবের সহকর্মীরা জানান, রবিবার সকাল ৯টা ২২ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যালে ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’ নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে একটি সরাসরি সম্প্রচার করা সংবাদ প্রচারিত হয়। ওই টেলিভিশনের মেডিক্যাল প্রতিনিধি হিসেবে সজীব ওই সংবাদ প্রচারে সহযোগিতা করেন। পরে সজীব সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। এরপর সাড়ে ১০টার দিকে আরেক সহকর্মী সংবাদ সম্পর্কে জানতে ফোন করলে সাথী নামের এক মেয়ে সজীবের ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘আপনি যাকে ফোন করেছেন, তিনি ১০ মিনিট আগে মোবাইল ও কাগজপত্র রেখে ঢাকার সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী তাকওয়া লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।’

বাংলা ট্রিবিউনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু জানান, চাঁদপুরগামী তাকওয়া লঞ্চটি রবিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার সদরঘাট থেকে ছাড়ে। কিন্তু ৯টা ২২ মিনিট পর্যন্ত সজীব ঢাকা মেডিক্যালে ছিলেন। তাহলে সজীব কিভাবে ওই লঞ্চে গেলেন কিংবা তার মোবাইল ও কাগজপত্র কিভাবে ওখানে গেল?

তাকওয়া লঞ্চটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, টঙ্গীতে বসবাসরত শাকিল নামের এক যুবকও তাকওয়া লঞ্চযোগে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন। সজীব তার সিটের পাশেই বসে দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় শাকিল লঞ্চের ছাদে ঘুরতে যান। পরে নিচে এসে শোনেন, ওই লোকটি (সজীব) কাগজপত্র রেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ সময় শাকিল লঞ্চের সুপার ভাইজার ফরহাদকে বিষয়টি জানান এবং সজীবের মোবাইল ও সাংবাদিকতার আইডি কার্ড দেন। পরে লঞ্চটি চাঁদপুর থামলে সুপার ভাইজার ফরহাদ যাত্রী শাকিলকে নিয়ে সজীবের মোবাইল ও কাগজপত্র লিখিতভাবে চাঁদপুর নৌ পুলিশের কাছে জমা দেন। 
নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোখলেসুর রহমান জানান, সজীবের দুইটি মোবাইল ফোনের কল-লিস্টের জন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। ওই কল-লিস্ট হাতে পেলে যাচাই করে জানা যাবে যে সাংবাদিক সজীব ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সদরঘাট পর্যন্ত কখন কিভাবে গিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সজীবের মোটরসাইকেলটি ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়িতে ছিল। প্রতিদিন মোটরসাইকেলের চাবি সজীবের কাছে থাকে। কিন্তু রবিবার চাবিটি মোটরসাইকেলের বক্সে পাওয়া যায়। মোটরসাইকেলের সঙ্গে চাবি রেখে যাওয়ার বিষয়ে সবার মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিখোঁজের বিষয়টি সজীবের বাসায় গিয়ে ঘটনার বিষয় রেকর্ড করেছেন শাহবাগ থানার এসআই হারুন।

/ এমআরআর/জেইউ/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।