সন্ধ্যা ০৬:১১ ; রবিবার ;  ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬  

৪ বিষয়ে কূটনীতিকদের কাছে বিএনপির অভিযোগ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিএনপি। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিএনপি সুনির্দিষ্ট চারটি বিষয় তাদের সামনে তুলে ধরে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, কূটনীতিকদের কাছে তারা পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনের কমিশনের অসহায়ত্ব আর অপারগতার কথা তুলে ধরেছেন। এছাড়াও সারাদেশে অব্যাহত খুন ও ধরপাকড়ের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ইসির নির্বাচনি নিয়মকানুন প্রতিপালন প্রসঙ্গে একমুখী অবস্থান এবং গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে অবাধে দলীয় কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া খালেদা জিয়ার একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। কূটনীতিকরা এসব বিষয় মনোযোগের সঙ্গে শুনেছেন। এসব কথা শুনে তাদের চোখে-মুখে এক ধরনের বিরক্তিও প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি করেন এই নেতা। তিনি বলেন, আমাদের কথা শুনে তাদের হ্যাপি মনে হয়নি। আমাদের কাছে তারা জানতে চেয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে। কীভাবে ঘটছে। বিএনপি কী মনে করে।

এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা তাদের জানিয়েছি, এই পরিস্থিতিতে বিএনপি গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

উপদেষ্টা মনে করেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের আচরণ অনেকটাই উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। তবে বৈঠকে কূটনীতিকদের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন এই উপদেষ্টা।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, সুইডেন, নেপাল, কানাডা, জাপানসহ প্রায় ১৪টি দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিনিধিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনাম আহমেদ চৌধুরী, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা খান প্রমুখ।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি জানান, ‘দেশে গণতান্ত্রিক কোনও স্বাধীনতা নেই, বিরোধী দল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে না। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে পৌর নির্বাচন। সাতজন মেয়র ও দেড় শতাধিক কাউন্সিলর এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব? এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, সেখানে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতেই দেওয়া হয়নি। অনেকে বলছেন, দেশে যদি অনির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকে তাহলে অনির্বাচিত মেয়র থাকতে সমস্যা কোথায়?’

বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে বাধা দেওয়া, নির্বাচনের আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার-হয়রানি, সরকারের প্রভাব বিস্তার, নির্বাচন কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, সরকারের দায়িত্বশীলদের আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকটিতে।

সরকারের প্রভাব বিস্তারের কাছে নির্বাচন কমিশন ‘অসহায়’ হয়ে পড়েছে দাবি করে মঈন খান বলেন, ‘লক্ষ্য করেছি হেলিকপ্টার দিয়ে সংসদ সদস্যরা দলের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের একদলীয় গণতন্ত্রের ফলশ্রুতি। আমেরিকায় কি একজন সিনেটর সেখানকার স্থানীয় নির্বাচনে হেলিকপ্টার দিয়ে তাদের প্রার্থীদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন?’

দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই এবং বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনি কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মঈন খান।

‘এখানে বিরোধী দল নির্বাচন করতে পারছে না। শুধু তাই নয়, বিগত দুই সপ্তাহে এক হাজারের ওপরে নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা যদি মাঠে থাকতে না পারে, তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কীভাবে তৈরি হবে? নির্বাচন দিলাম, কিন্তু বিরোধী দলকে নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নিতে দিলাম না, তাহলে কেমন হলো? যৌথবাহিনী এখন যে কাজগুলো করছে, সেগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন,‘সরকারের উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী-এমপিরা নির্বাচনি কোড অব কন্ডাক্ট ভায়োলেট (নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন) করছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনওকিছুই করতে পারছে না। বরং প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছে সহায়তা কামনা করছে, যাতে কোড অব কন্ডাক্ট মানা হয়। এটা তো হতে পারে না। এতে প্রমাণ হয় ইসি (নির্বাচন কমিশন) কতটা অসহায়।’

/এসটিএস/টিএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।