দুপুর ০২:১৫ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৭ জুন, ২০১৯  

পিএসসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধের জন্য, বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আদলে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের মতামত দিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। একইসঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নম্বর ৪০ এর পরিবর্তে ৬০ নম্বর করা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়নেরও তাগিদ দিয়েছেন তারা।   

বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট-এর সেমিনার হলে বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬-এর সাম্প্রতিক সংশোধনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী কার্যক্রম বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন।  

সভায় অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাইদ বলেন, ‘একজন মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকের অনেক বড় ভূমিকা থাকে। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে। প্রতিটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি শতকরা ৪০ শতাংশ শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়, তাহলে ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে ন্যায়বান শিক্ষকরা কী করে বাঁচবে?’

দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘যেসব শিক্ষক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ করে শিক্ষক হচ্ছেন, তারা কী পড়াবেন? যোগ্য শিক্ষকরা বাদ পড়ে, ওই সব অযোগ্য শিক্ষকরা প্রবেশ করলে তারা জাতিকে কী দেবে?’

অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভাল শিক্ষার জন্য অবশ্যই ভাল শিক্ষক প্রয়োজন। তাই এ আইন সংশোধন ভাল শিক্ষক নিয়োগের পথ সুগম করবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এজন্য আমাদেরকে ভাল শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে হবে।’ 

একই মত বিনিময় সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগে ব্যাণিজ্য হচ্ছে তা সত্য। যারা সংসদ সদস্য আছেন তারা শিক্ষা নিয়ে আইন প্রণয়ন করবেন, এটাই জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু সাংসদরা যদি ৪টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বে থাকেন, তাহলে নিয়োগ ব্যাণিজ্যের দায় তারা সভাপতি হিসেবে এড়াতে পারে না।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘নিবন্ধন পরীক্ষার পাস নম্বর ৫০ করার প্রস্তাব ও শিক্ষা জীবনে যাদের তৃতীয় শ্রেণি আছে তারা যাতে নিবন্ধন পরীক্ষায় আবেদন করতে না পারে তাও যুক্ত করা উচিত। আর শিক্ষকের উচ্চ শিক্ষার যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদন্নোতি চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।’

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমানের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও ধারণা আমাদের ছিল না।তবে বিধিমালা করা হলে, অনেকগুলো সমস্যা বিশেষ করে দুর্নীতি মুক্ত হবে।’

শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় জাতীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন বলেন, ‘শিক্ষক নিযোগের বিষয়ে বার বার উঠে আসে দুর্নীতি। আমাদেরকে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর্নিদিষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন যেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতন হয়ে যায় উল্লেখ করে বলেন,  ‘যারা সদস্য নির্বাচিত হন তারা যদি একজন অষ্টম শ্রেণি বা মাধ্যমিক পাস করা ব্যক্তি থাকেন, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে কী করে? তাই ম্যানেজিং কমিটির পরিচালনার পরিবর্তন করা উচিত। তাই আমাদের মূল বক্তব্য হচ্ছে মেধাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।’

সালমা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. অলিউল্লাহ মন্ডল বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে শতকরা ৪০ শতাংশ দুর্নীতি হয়। এটা হয় শিক্ষা বিভাগের সদস্যদের মাধ্যমে। তাই কোনও অবস্থাতেই এ নিয়মের মাধ্যমে দুর্নীত বন্ধ করা যাবে না।’ 

মতবিনিময় সভার সভাপতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসনাম নাহিদ বলেন, ‘সরকারি অনুদান প্রাপ্ত এমপিওভুক্ত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএসসির অনুরূপে গড়ে তোলা হবে। আর এ বিষয়ে সকল শিক্ষাবিদরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আমরা এজন্য একটি নীতিমালা করেছি। এতে ভুল-ত্রুটি আছে কিনা তা দেখার জন্য শিক্ষাবিদ, প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে আজকের এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসেন, শিক্ষানীতি বাস্তাবায়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক কাজী ফারুক আহমেদ, অধ্যাপক এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খন্দকার সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ প্রমুখ।

 

/এসআইএস/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।