রাত ০২:১৭ ; সোমবার ;  ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬  

পুলিশের পোশাক পরে শিবিরের নাশকতার পরিকল্পনা!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

আমানুর রহমান রনি।।

জনবহুল এলাকায় পুলিশের পোশাক পরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার ছক এঁকেছিল শিবির। এমনই একটি গ্রুপের ছয় সদস্যকে রাজধানীর রামপুরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের কাছ থেকে জেলা পুলিশের দুই সেট পোশাকসহ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে রামপুরা থানা পুলিশ।

সোমবার রাতে রামপুরার উলনের একটি ছয়তলা ভবনের চারতলায় অভিযান চালিয়ে ছয় শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো, শফিক, রনি, আব্দুল কাদের, আতাউর রহমান, জাবির হোসাইন ও রুম্মান হোসাইন।

এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৬টি তাজা ককটেল, ১ কেজি গান পাউডার, ১ কেজি ইটের গুড়ার মতো বোমসাল পাউডার, ২৫০ গ্রাম তারকাটা, ১ কেজি পাথরের গুড়া, ২ সেট জেলা পুলিশের ইউনিফর্ম, ২টি বেল্ট, ১টি নেমপ্লেট, ১টি বাঁশি, ২টি পুলিশ লেখা কাঁধের নেমপ্লেট, ৫টি ভাউচার বই, ২০টি জামায়াত-শিবিরের সংগঠনের সদস্যদের ব্যক্তিগত রিপোর্ট বই, ১৫০টি জামাত-শিবিরের সদস্য বানানো ভর্তি ফরম, ১টি ডায়েরি ও কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।

রামপুরা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা বাসাটি গত নভেম্বরে ভাড়া নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা জামাত-শিবিরের সক্রিয় সদস্য। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা ছাড়াও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বোমা ও ককটেল বানাচ্ছিল তারা।

ওসি বলেন, ‘এরা নাশকতা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছদ্মবেশ নেয়। সিভিল পোশাকে থাকলে হামলার পর পুলিশ তাদের সহজেই গ্রেফতার করে ফেলবে। এ কারণেই পুলিশের পোশাক বানিয়েছে তারা।’

তিনি বলেন, ‘এরা মানুষের কাছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বলছে, বাংলাদেশে শান্তি নাই। তারা জিহাদ করে শান্তি নিয়ে আসবে।’

আগামী পৌরসভা নির্বাচনে শিবিরের নাশকতার পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এদের সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টাই হচ্ছে দেশে নাশকতা চালানোর। তারা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

রামপুরা থানার ওসি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হলে, আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডে তাদের কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হবে।’

এদিকে ওই বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুল হাসেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা চাকরিজীবী বলে গত নভেম্বরে বাসা ভাড়া নিয়েছে। আমরা জানতাম তারা চাকরি করে। তারা যে সন্ত্রাসী জানতাম না।’

অভিযানের পর ফ্ল্যাটটিতে পুলিশ তালা মেরে রেখেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালা খুলতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

/এআরআর/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।