সকাল ১১:০৬ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণীকে হত্যা: পরিবারের ৬ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বিদেশ ডেস্ক।।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী শাহিনা উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তার পরিবারের ৬ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আদালত। সোমবার হার্টফোর্ডশায়ারের সেন্ট আলবান্স ক্রাউন আদালত এ রায় ঘোষণা করে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য মিরর এ খবর জানিয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে লন্ডনের ওয়াটফোর্ডে ১৯ বছরের শাহিনাকে ‘নির্দয়ভাবে’ পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হার্টফোর্ডশায়ারের সেন্ট আলবান্স ক্রাউন আদালতে সেসময় একটি মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার শাহিনার বড় ভাইয়ের স্ত্রী সালমা বেগমকে (৩২) দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ওই আদালত। আদালতের বিচারপতি স্পেনসার এ রায় ঘোষণা করেন ।

আসামি সালমাকে কমপক্ষে ১৮ বছর কারাভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। আর এ হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার দায়ে শাহিনার বড় ভাই সুহাইল উদ্দিনকে (৩৫) ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহিনার অন্য তিন ভাই-বোন জুয়েল উদ্দিনকে (২৭) আট বছর, তোহেল উদ্দিনকে (২৪) সাড়ে ছয় বছর এবং বোন রাহিনা উদ্দিনকে (২২) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনের অদূরে হার্টফোর্ডশায়ারের ওয়াটফোর্ডের লিভেসডেন রোডের একটি বাসায় থাকতেন শাহিনা। গত বছরের ১০ অক্টোবর সকালে টয়লেটে পড়ে থাকা অবস্থায় শাহিনাকে পাওয়া যায় বলে দাবি করে তার পরিবার। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শাহিনা টয়লেটে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়। তবে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে লেখা হয়েছে, শাহিনার শরীর ও মাথায় আঘাতের চিহ্ণ পাওয়া গেছে এবং তাকে নিয়মিত টয়লেটের পানি এবং নিজের বমি খাওয়ানো হত।

নির্যাতনের সময় ভাবির কাছে শাহিনার লেখা একটি চিঠিও খুঁজে পান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। ওই চিঠিতে বলা হয়,‘আমি হাতজোড় করে তোমার সহায়তা চাইছি। আমার মনে হচ্ছে আমার কেউ নেই। তুমি যখন আমাকে গরু কিংবা কুকুর বলে গালি দাও….তখন আমার খুব কষ্ট হয়। সেই যন্ত্রণার কথা বলার জন্যও কেউ নেই আমার। আমাকে সহায়তা করো। আমাকে ক্ষমা করার জন্য প্রয়োজনে আমি টয়লেটে আমার মাথা ঠুকব।’

তবে পরিবারের সদস্যরা কেন শাহিনাকে নির্যাতন করতেন সে ব্যাপারে ওই প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফ্রেজার উইলি এ ঘটনাকে তার দেখা সবচেয়ে নিকৃষ্ট পারিবারিক নির্যাতন বলে উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের ঘটনার বিচার না হলে বার বার এমন ঘটনা ঘটতে পারে পারে বিচার কাজ চলার সময় উদ্বেগ জানিয়েছিলেন তিনি। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য মিরর

/এফইউ/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।