সকাল ১০:১৭ ; রবিবার ;  ২১ এপ্রিল, ২০১৯  

এখন থেকে রাজউকের সেবা অনলাইনে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

অবশেষে নগরবাসীকে অনলাইনে সেবাদান কার্যক্রম শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। আপাতত ধানমন্ডি ও লালবাগ নিয়ে গঠিত রাজউকের অঞ্চল-৫ এলাকায় ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র এবং নকশা অনুমোদন সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হবে অনলাইনে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজউক ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধানমন্ডির একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র প্রদানের মাধ্যমে ডিজিটাল এই সেবার উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

রাজউক জানিয়েছে, আজ থেকে ধানমন্ডি ও লালবাগ এলাকার জমি মালিকদের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের জন্য রাজউক ভবনে যেতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে এসব সেবার আবেদন করা যাবে। একইসঙ্গে আবেদনপত্রের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য অনলাইনে জানা যাবে। শর্ট মেসেজ সার্ভিস বা এসএমএস-এর মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে অনলাইনে তা জানানো হবে এবং আবেদন গৃহীত না হলে যথাযথ কারণসহ বিস্তারিত বিষয় অনলাইনে জানা যাবে। বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউকেএইডের সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আজ থেকে রাজউকের নতুন যুগের সূচনা হলো। অনলাইন সেবা ব্যবস্থা চালু করায় জনগণের হয়রানি ও দুর্নীতি কমবে এবং রাজউকের স্বচ্ছতা, জাবাবদিহিতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে। প্রাথমিকভাবে জোন-৫ কে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হলো। পর্যায়ক্রমে সেবার খাত ও পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরী গড়তে জনগণের মধ্যেও সচেতনতা থাকতে হবে। অনেকেই নকশা অনুমোদনের পর তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ করেন। আবার অনেকে অনুমোদনকালে ভবন ব্যবহারের যে তথ্য দিচ্ছেন, ভবন নির্মাণের পর অন্য কাজে ব্যবহার করছেন। সাধারণত সমাজের বিত্তশালীরা প্রায়শই রাজউকের নিয়ম ভঙ্গ করেন। আবার তারাই রাজউকের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। রাজউককে অপছন্দ করেন। এরা আবার পত্রিকারও মালিক!

অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে যেসব ভবন নির্মিত হয়েছে এবং শ্রেণি পরিবর্তন করে ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে রাজউককে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আইন না মানাই রাজধানীর যানজটের প্রধান কারণ।

পূর্ত সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, ১৯৫৬ সালে ঢাকা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট-ডিআইটি গঠন হয়। তখন এর জনসংখ্যা ছিল ২৫ লাখ। ১৯৮৭ সালে ডিআইটি নাম পরিবর্তন হয়ে হয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। বর্তমানে রাজউক এলাকায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের সেবার জন্যই ডিজিটাল এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, সেবার মানসিকতা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে রাজউক গঠিত হয়েছে সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতেই জনগণকে আন্তরিক সেবা দিতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নত দেশের অফিসগুলো অনেক আগেই পেপারলেস হয়েছে। এখন তারা ম্যানলেস। আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র যাতে এক দিনেই দেওয়া যায় সে ব্যবস্থা নিতে রাজউকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাজউকের চেয়ারম্যান জিএম জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন বিশ্বব্যাংকের ট্রেড অ্যান্ড কম্পিটেটিভনেস শাখার প্রতিনিধি মিয়া মো. রহমত আলী ও কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান টেকনোহ্যাভেনের রুহুল আমীন।

/ওএফ/এসএম/এফএস/এএইচ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।