রাত ০২:২৪ ; সোমবার ;  ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬  

উৎসের কাছে ফেরা || রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

প্রকাশিত:

[আমরা ২০১৫ সালে প্রকাশিত বই থেকে দশটি বই বেছে নিতে অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি তাদের প্রিয় বই নিয়ে লিখতে। এই প্রস্তাবে যারা সাড়া দিয়েছেন তাদের নিয়েই আমাদের এই আয়োজন। মোহাম্মদ রফিকের লেখা ‘আত্মরক্ষার প্রতিবেদন : লাতিন আমেরিকায় কবিতার উদ্ভব’ বইটি প্রকাশ করেছে রূপসী বাংলা। প্রচ্ছদ করেছেন ঢালী আল-মামুন। মূল্য তিনশত টাকা।–বি. স.]

 

 

আমাদের জন্য আধুনিকতা মানে আপন ঐতিহ্যের পুনরাবিষ্কার : কার্লোস ফুয়েন্তেস 

ব্যাকরণবেত্তা আন্তোনিয়ো দে নেব্রিহা এস্পানিয়োল বা কাস্তেইয়ানো ভাষা প্রসঙ্গে বলেছিলেন এটি হল ‘la compañera del imperio’ অর্থাৎ সাম্রাজ্যের দোসর। পোর্তুগিজ সম্পর্কেও একই কথা বলা যায়। এস্পানিয়া আর পোর্তুগাল পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষে অতলান্তিকের ওপারে রাজ্য বিস্তারের অভিপ্রায়ে যার যার ভাষাটিকে ব্যবহার করেছিল। লাতিন ভাষা-উৎসজাত মূলত এস্পানিয়োল আর পোর্তুগিজভাষী আমেরিকা মহাদেশের ২০টি দেশকে (গায়ানা, সুরিনাম আর ফরাসি গিনিকে বাদ দিয়ে কারণ এই দেশগুলিকে ঠিক যতটা না দক্ষিণ আমেরিকান হিসেবে গণ্য করা হয় তার চেয়ে বেশি ধরা হয় ক্যারিবিয়ো অঞ্চলে ইউরোপিয়ো উপনিবেশের বিস্তার হিসেবে) একত্রে সংস্কৃতিগতভাবে লাতিন আমেরিকা বলা হয়। সোয়া পাঁচশত বছর আগে ইউরোপ থেকে জাহাজে পাড়ি দিয়ে ক্রিস্তোবাল কোলোন ওরফে কলম্বাস সঙ্গী-সাথীসহ ভারত ভেবে যে-অঞ্চলে প্রথম পা রেখেছিল সেই নুয়েবো মুন্দো বা নতুন দুনিয়াকে সূচনায় খ্রিস্ট্রিয় ধর্মবিশ্বাসের নামে ধনসম্পদের খোঁজে আসা শ্বেতাঙ্গ ইউরোপিয়রা লুট করেছিল। পরবর্তীতে উনবিংশ শতাব্দীতে খ্রিস্ট্রিয় সুসমাচার সংক্রান্ত বাণিজ্যলিপ্সায় শোষিত-শাসিত হয় অঞ্চলটি। আর বিংশ শতাব্দীতে এসে অঞ্চলটি বাস্তবমুখী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধর্ম দ্বারা লাভ-ক্ষতি আর পাওয়া-না পাওয়ার অঙ্ক কষেছে। শুরু থেকেই একে নিয়ে খেলায় মেতেছে আইবেরিয়ো-ইঙ্গ-ফরাসি-ওলন্দাজ-জার্মান-মার্কিন পরাশক্তি আর তাদের স্বার্থসিদ্ধির স্থানীয় এজেন্ট ও ফৌজি স্বৈরাচারীগ। ঔপনিবেশিক শক্তির কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর দুশো বছর কেটে গেছে এ-দেশগুলির। এখনো কী সত্যিকারের মুক্তি মিলেছে, যে-মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন সিমোন বোলিবার, সান মার্তিন, হোসে মার্তি প্রভৃতি লিবেরাদোর বা স্বাধীনতার সংগ্রামী মহানায়কেরা? ১৯৯০ সালের মার্চ মাসে ইতিহাসে প্রথমবারের মত এ-অঞ্চল নির্বাচিত সরকার দ্বারা শাসিত হতে শুরু করে। উত্তরে উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ অংশের মেহিকোর তিহুয়ানা থেকে দক্ষিণে দক্ষিণ আমেরিকার কেপহর্ন পর্যন্ত বিস্তৃত লাতিন আমেরিকা বিশাল আর বৈচিত্র্যময়। অসংখ্য জাত আর জাতীয়তার মানুষ এসে এটিকে নিজেদের আবাস হিসেবে গড়ে তুলেছে। আর ভূমিপুত্র নানা সম্প্রদায়ের নানা ভাষী আদিবাসী ইন্দিয়োরা তো ছিলই আগে থেকে, কালের যাত্রায় যাদের সংখ্যা কেবলই কমেছে। এ-প্রসঙ্গে মেহিকোর কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক কার্লোস ফুয়েন্তেস-এর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য: “গত পাঁচ শতাব্দী ধরে আমাদের যে সংস্কৃতি নির্মিত হয়েছে তা আমরা সৃষ্টি করেছি একই সঙ্গে বা একই অঙ্গে ইন্দিয়োদের, কালোদের এবং নতুন দুনিয়ার ইউরোপিয়দের বংশধর হিসেবে।” এই যখন বাস্তবতা তখন সে-ভূখণ্ডের কবিতার স্বরূপটা কেমন? লাতিন আমেরিকার কবিতার উদ্ভব খুঁজতে গিয়ে এই অন্য-আমেরিকার আবিষ্কারের কাহিনি শুনিয়েছেন মোহাম্মদ রফিক, তাঁর ‘আত্মরক্ষার প্রতিবেদন’ নামক বইটিতে। লেখকের নিজের জবানবন্দি: “ইতিহাস ও সমাজের আকাঙ্ক্ষার ও ব্যর্থতার কবিতার পরতে পরতে প্রতিচিত্র খুঁজতে গিয়ে হাঁটতে হয়েছে অনেকটাই পিছনের দিকে।”(১) লেখক আরও লিখছেন: “এই ভূখণ্ডের কবিতা লতাপাতায় জড়িয়ে গেছে একটি বিপুল শঙ্কর জনপদের রক্তে ও ধমণীতে। তার শেকড়-বাকড়ের তত্ত্ব-তালাশ এই মানুষের কবিতা।”(২) 

সাহিত্যের মাধ্যম হিসেবে কবিতার উদ্ভব অন্বেষণ করতে গিয়ে তাই লেখক ফিরে গেছেন উৎসবিন্দুতে। লাতিন আমেরিকান কবিতার মত আকর্ষণীয় অথচ জটিল একটি বিষয়কে নিয়ে লেখা বইটির ভাষা ও উপস্থাপনাভঙ্গি সরল, অ্যাকাডেমিক আলোচনা হওয়া সত্ত্বেও তা গোপন রহস্যাবৃত জার্গনে ঠাসা নয়, বরং স্বচ্ছতাই এর প্রধান গুণ

দুই
লাতিন আমেরিকান মানুষের শরীর ও আত্মার; তার সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইতিহাসের তত্ত্ব-তালাশ ছাড়া এ-ভূখণ্ডের সাহিত্য অনুধাবন করা যাবে না পুরোপুরি—এ সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মোহাম্মদ রফিকের সুলিখিত গবেষণাঋদ্ধ এ-বইটিতে। ১৯৯০ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত মেহিকোর কবি ওক্তাবিয়ো পাস্ বলেছিলেন “যেখানে ইতিহাসের সমাপ্তি সেখান থেকেই কবিতার শুরু।”(৩) সাহিত্যের মাধ্যম হিসেবে কবিতার উদ্ভব অন্বেষণ করতে গিয়ে তাই লেখক ফিরে গেছেন উৎসবিন্দুতে। লাতিন আমেরিকান কবিতার মত আকর্ষণীয় অথচ জটিল একটি বিষয়কে নিয়ে লেখা বইটির ভাষা ও উপস্থাপনাভঙ্গি সরল, অ্যাকাডেমিক আলোচনা হওয়া সত্ত্বেও তা গোপন রহস্যাবৃত জার্গনে ঠাসা নয়, বরং স্বচ্ছতাই এর প্রধান গুণ। আর মোহাম্মদ রফিকের কবিসত্ত্বাটি বইটির দার্শনিক নির্মাণের ভিত্তিভূমিটা সাজাতে সাহায্য করেছে। ধারাবাহিকভাবে অনুচ্ছেদের পর অনুচ্ছেদ পড়ে গেলে পাঠকের মনে হবে সে সফর করছে, লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের পরতে পরতে। 
সমস্ত প্রাচীন সাহিত্যের মত লাতিন আমেরিকায়ও প্রাক-উপনিবেশ কালে কবিতা ছিল সংগীত, নৃত্য আর আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত। মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে কবিতা প্রথম ছাপা হয় স্প্যানিশ পুরোহিতদের হাতে ঔপনিবেশিক কালে। উপনিবেশ হওয়ার আগে নাহুয়াতল্, মাইয়া, কেচুয়া, তুপি, গুয়ারানি, আইমারা, মাপুচে, তাইনো, কিশে, সাপোতেক্  ইত্যাদি ভাষায় কবিতা রচিত হয়েছে, যে ঐতিহ্য ম্রিয়মান হলেও আজও অব্যাহত। ১৪৯২ সালের আগে প্রায় একশোটি আদিবাসী ভাষা ছিল, যার মধ্যে মাত্র ডজনখানেক এখনো টিকে আছে। এই তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা নেই বইটিতে, শুরুর দিকে কিছু প্রসঙ্গ ছাড়া; যদিও লেখক মেহিকোর চারবো বা  আর্হেন্তিনার গাউচো-র মত লোকজ সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে আর্হেন্তিনার হোসে হের্নান্দেস-এর লেখা ১৮৭২ সালে প্রকাশিত ক্ল্যাসিক মহাকাব্যিক কাব্যগ্রন্থ ‘এল গাউচো মার্তিন ফির্য়েরো’-র আলোচনা করতে ভুলেননি। সেই কথার সূত্র ধরে কৃষিভিত্তিক প্রান্তরজীবন আর নগরজীবনের দ্বন্দ্ব—আর্হেন্তিনার বুদ্ধিজীবী ও রাষ্টনায়ক দোমিঙ্গো ফাউস্তিনো সারমিয়েন্তো যে সভ্যতা ও বর্বরতার দ্বন্দ্বের কথা তুলে ধরেছিলেন তাঁর বিখ্যাত বই ‘ফাকুন্দো’-তে—কথাও এসেছে, লাতিন আমেরিকাকে বুঝতে গেলে যা একটি অপরিহার্য বিষয়। ইউরোপের আদলে ‘সভ্য’ হয়ে ওঠা আর আদিম বুনো ‘বর্বর’ দক্ষিণ আমেরিকান—এই দুই বৈপরীত্যের মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এ-ভূখণ্ডের মানুষ, তার সংস্কৃতি, তার কাব্য? এ-প্রশ্নটি অবিরাম তাড়া করেছে লাতিন আমেরিকান চিন্তক, বুদ্ধিজীবী, লেখক-কবিদের।
সিমোন বোলিবার, সান মার্তিন, হোসে মার্তি, দোমিঙ্গো ফাউস্তিনো সারমিয়েন্তো, লেয়েপোল্দো লুগোনেস, আন্দ্রেস বেইয়ো প্রভৃতি মুক্তিদাতা রাষ্ট্রনায়ক, চিন্তক, প্রাবন্ধিক, লেখক, কবিদের প্রসঙ্গ ও কীর্তির কথা উল্লেখ করে সবিস্তারে তিনশ বছরের অধিককালের উপনিবেশ-উত্তর উনবিংশ শতাব্দীর লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতি ও সমাজের বিবরণ-প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। আছে উত্তর আমেরিকার নিষ্পেষণের প্রসঙ্গ। এস্পানিয়োল সাহিত্যের স্বর্ণযুগের কবি ফ্রান্সিসকো দে কেবেদো, লোপে দে বেগা আর লুইস দে গোঙ্গোরার প্রভাবে বারোক্ শৈলীতে কবিতা লিখে যে খ্রিস্ট্রিয় নান তাক লাগিয়ে দেন তাঁর নাম সোর হুয়ানা ইনেস দে লা ক্রুস (১৬৪৮-১৬৯৫)। তিনি লাতিন আমেরিকার সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। ওক্তাবিয়ো পাস্ তাঁকে নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধের বই লিখেছেন। ওক্তাবিয়ো এই বারোক্ কবির মধ্যে এক কাব্যধারা পরিলক্ষিত করেন যা বারোক্ ছাপিয়ে আধুনিকতাকে সূচিত করে। যথার্থই সোর হুয়ানার জীবন ও কাব্যসাহিত্য নিয়ে প্রায় ত্রিশ পৃষ্ঠা ব্যাপ্ত করেছেন মোহাম্মদ রফিক।  সমসময়ের ব্রাজিলের কবি গ্রেগোরিয়ো জি মাতোস (১৬৩৬-১৬৯৬) বারোক্ রীতিতে স্যাটায়ারধর্মী কবিতা লিখেন এবং তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি-ব্যক্তিত্ব। বইটিতে তাঁর প্রসঙ্গ নেই, এর কারণ হয়তো এই যে লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের আলোচনায় প্রায়ই ব্রাজিলের সাহিত্যিকরা উপেক্ষিতই থেকে যান অথচ ব্রাজিলের রয়েছে এক অতি সমৃদ্ধ সাহিত্য। 

আর আগ্রহ তৈরী হল যা কিছু দেশজ বা লাতিন আমেরিকান তার প্রতি। ভূখণ্ডটির মানুষের মনে এই উপলব্ধি এল যে তারা এখন আধুনিক পৃথিবীর অংশ

তিন
১৮৮০-র দশকে এস্পানিয়োলভাষী হিস্পানি আমেরিকায় একটি কাব্য আন্দোলন দানা বাঁধে যে-আন্দোলনের ভরকেন্দ্রে ছিলেন নিকারাগুয়ার কবি রুবেন দারিয়ো (১৮৬৭-১৯১৬)। বিখ্যাত সাহিত্য সমালোচক রোবের্তো গোন্সালেস এচের্বেরিয়া-র মতে রুবেন দারিয়ো হলেন সপ্তদশ শদাব্দীর পর এস্পানিয়োল ভাষার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কবি। মোদের্নিসমো (ভার্জিনিয়া উলফ্, জেমস জয়েস আর এজরা পাউন্ডের হাতে ডালপালা মেলা ইংরেজ মডার্নিজম-এর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই) নামের এ-আন্দোলনটি আঙ্গিকগত উৎকর্ষতা ও উদ্ভাবনের অন্বেষণের মধ্য দিয়ে এস্পানিয়োল ভাষাটিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াস নিয়েছিল। এতদিন যে এস্পানিয়ার কাছ থেকে ধার করা হচ্ছিল শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপাদান, সে-নন্দনতাত্ত্বিক ঋণগ্রহণে ছেদ পড়ল, সত্যিকারভাবে। বরং র‌্যারো, ভের্লেন আর ভিক্তর উগো-র ফরাসি সংস্কৃতি হয়ে উঠল আরাধ্য; ফরাসি পার্নাসিয়ান আর সিম্বলিজম কাব্যধারার প্রভাবে রচিত হল আধুনিক চিন্তা-চেতনাস্নাত কবিতা । আর আগ্রহ তৈরী হল যা কিছু দেশজ বা লাতিন আমেরিকান তার প্রতি। ভূখণ্ডটির মানুষের মনে এই উপলব্ধি এল যে তারা এখন আধুনিক পৃথিবীর অংশ। উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে লাতিন আমেরিকায় আধুনিকতার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে যে সুতীব্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল তার সম্মুখে এই মোদের্নিসমো আন্দোলন এক জটিল জবাব হাজির করেছিল। 
জোজে ওস্ওয়ালদ জি আঁদ্রাজি আর মারিয়ো জি আঁদ্রাজি ১৯২০-র দশকে ব্রাজিলে জাতীয়তাবাদের ডাক দিয়েছিলেন শিল্পকলার মধ্য দিয়ে। এঁরাই শুরু করেন ব্রাজিলিয় আধুনিকতাবাদ। রুবেন দারিয়ো আর হোসে মার্তির মোদের্নিসমোর পথ পাড়ি দিয়ে লাতিন আমেরিকান কবিতাঙ্গনে উপস্থিত হয় আঁভাগার্দ বানগুয়ার্দিসমো আর ক্রেয়াসিয়োনিসমো—যে দুটি ধারায় কবিতা লিখে মহাদেশ মাতান লাতিন আমেরিকাই শুধু নয় উপরন্তু বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ দুই কবি—পেরুর সেসার বাইয়েহো আর চিলের বিসেন্তে উইদোব্রো। উত্তর-আধুনিতকতাবাদকালের শ্রেষ্ঠ কবিরা হলেন হোর্হে লুইস বোর্হেস, কার্লোস দ্রুমোঁদ জি আঁদ্রাজি, পাবলো নেরুদা এবং ওক্তাবিয়ো পাস।

বইটির ভেতরে ব্যবহার করা অঙ্কনচিত্রগুলির উৎস বা শিল্পী সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই; থাকা উচিত ছিল

চার
লাতিন আমেরিকান কাব্যিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ আর বহুরূপী। সে-কবিতার কাব্যিক ইতিবৃত্ত উত্তর ও সমাহিতি খুঁজতে প্রায় দশ বছরাধিককালে লেখা এই প্রতিবেদনটি রুবেন দারিয়োর কাব্যকলার মুখোমুখি এসে থেমেছে (বইয়ের শেষ চল্লিশটি পৃষ্ঠা নিবেদিত হয়েছে রুবেন দারিয়োর সৃষ্টিশীলতার অভিযাত্রিক কাহিনি বয়ানের মধ্য দিয়ে)। বইয়ের শুরুর দিকে লেখকের ভাষ্য: “লাতিন আমেরিকান কবি বা লেখক নাড়ির টানে বারবার ফিরে গেছে উৎসস্রোতে এবং অবগাহন তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে বিশিষ্টতা এবং চারিত্রিক মহিমা। ...তিনি ছন্দে ভাষায় লয়ে পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে বারবার খুঁজে ফেরেন আপন গহনহীন নদীর তৃতীয় তীর। এ যেন লাতিন আমেরিকান কবি বা লেখকের দুর্মর নিয়তি।”(৪) অতীতপানে চেয়ে সেই উৎসের কাছে ফেরার মধ্যেই নিহিত আছে ভবিষ্যতের কল্পবীজ। 
গত শতকের ছয়ের দশকে প্রকাশিত গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের দুনিয়া তোলপাড়-করা উপন্যাস ‘সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ’ আর আমাদের মুক্তির বছর ১৯৭১-এ পাবলো নেরুদার নোবেলজয় আমাদের মানসজগতে লাতিন আমেরিকার যে-ধারণাচিত্র তৈরি করে দিয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় গত চার দশকে লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের অনেকগুলি রচনা তিন হাত ঘুরে বা সরাসরি এস্পানিয়োল থেকে আমাদের বাংলায় তর্জমা হয়েছে। আমাদের লাতিন আমেরিকান বিদ্যচর্চায় ‘আত্মরক্ষার প্রতিবেদন : লাতিন আমেরিকায় কবিতার উদ্ভব’ একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এটি লাতিন আমেরিকান তথা বিশ্বসাহিত্যের পাঠক-শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলের জন্য উপযোগী। বইটির ভেতরে ব্যবহার করা অঙ্কনচিত্রগুলির উৎস বা শিল্পী সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই; থাকা উচিত ছিল। 

টীকা

১.আত্মরক্ষার প্রতিবেদন, পৃ.১৪ 
২.আত্মরক্ষার প্রতিবেদন, পৃ.১২৭
৩.আত্মরক্ষার প্রতিবেদন, পৃ.১৫
৪.আত্মরক্ষার প্রতিবেদন, পৃ.১৬

লেখক : অনুবাদক ও এস্পানিয়োল ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক

পাঠকের প্রিয় || ১ পড়তে ক্লিক করুন—

বাংলাদেশে ইতিহাসচর্চার বাঁক পরিবর্তন || দেওয়ান মিনহাজ গাজী

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।