রাত ১১:৩৯ ; মঙ্গলবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৭  

শর্তের বেড়াজালে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হিটলার এ. হালিম।।

এক সিমেই সব মোবাইল অপারেটরের টেলি সুবিধা বা এমএনপি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেও নিলাম, দরদাম ও শর্তের বেড়াজালে আটকে আছে। প্রক্রিয়ার শুরুতে দীর্ঘ সময় পার হলেও আলোর মুখ না দেখায় সংশ্লিষ্টরা সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। যদিও এর বিপরীতে বলা হচ্ছে, শিগগিরই এমএনপির নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।  

ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, নেটওয়ার্ক সমস্যা, ভয়েস কলের নিম্নমান, গ্রাহক সেবার অসন্তুষ্টিই এমএনপি সেবা চালু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টুজি লাইসেন্স নবায়ন গাইডলাইনের মধ্যেই এমএনপির উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়েছে, এমএনপি চালু হলে লাইসেন্সধারী অপারেটর এই সেবা বাস্তবায়ন করবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন, এমএনপির নিলাম আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে যৌক্তিক সময়ে নিলামের ঘোষণা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, নিলামের মাধ্যমে একটি অপারেটরকে ১৫ বছর জন্য এমএনপি লাইসেন্স দেওয়া হবে। নিলামের ভিত্তিমূল্য হবে ১ কোটি টাকা। বার্ষিক লাইসেন্স ফি দিতে হবে ২০ লাখ টাকা। প্রথম বছরে নয়, তবে দ্বিতীয় বছর থেকে অপারেটরটি সরকারের সঙ্গে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে রাজস্ব ভাগাভাগি করবে।

একটি নিবন্ধিত বাংলাদেশি বা প্রবাসী বাংলাদেশি মালিকানার কোম্পানি নিলামে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তবে কোনও বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে ওই বিদেশি কোম্পানির শেয়ারের পরিমাণ হতে পারবে সর্বোচ্চ ৫১ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিকে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে হবে। ফলে দেশের বাজারে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না।

এমএনপির চূড়ান্ত হওয়ায় নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নিলামে অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এক বা একাধিক দেশে ন্যূনতম তিন বছর এই সেবা দিতে হবে এবং গ্রাহক হতে হবে ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৫টি দেশের ৫ অপারেটর দেশে এমএনপি সেবা দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে যোগাযোগ করে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে গেছে। তবে এই বিভাগের একটি সূত্র বলছে, এই কোম্পানিগুলো চূড়ান্ত বিচারে হয়তো টিকবে না। কারণ এর বাইরেও অনেক দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে যোগাযোগ করেছে বলে ওই সূত্র দাবি করেন।

বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এম রায়হান আখতার বলেন, আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরকে বলেছি, টেকনিক্যাল কমিটিকে এই বিষয়গুলো দেখতে। আমাদের যুক্তি, একাধিক দেশে এই সেবা দিলে এবং তার গ্রাহক এক কোটি হলে সে প্রকৃতপক্ষেই এমএনপি অপারেটর। আমাদের বিশ্বাস, পশ্চিমা দেশের কোনও অপারেটর হলে তার পক্ষে এক দেশে এক কোটি গ্রাহক পাওয়া সম্ভব হবে না এবং তাকে একাধিক দেশে সেবা দিতে হবে। ফলে তাকে অবশ্যই এমএনপি অপারেটর হতেই হবে।

জানা যায়, এমএনপির নীতিমালায় (সংশোধিত) তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিলামের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিলামে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান ৬ মোবাইলফোন অপারেটরকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে এমএনপি চালু করবে। এক্ষেত্রে প্রতিবার অপারেটর বদলের জন্য গ্রাহকের ব্যয় হবে ৩০ টাকা।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৩ জুন বিটিআরসির দেওয়া এক নির্দেশনায় মোবাইলফোন অপারেটরগুলোকে পরবর্তী ৭ মাসের এমএনপি চালু করতে বলা হয়। নির্দেশনায় এমএনপি চালুর জন্য ৩ মাসের মধ্যে সব অপারেটরকে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করতে বলা হয়। কনসোর্টিয়াম পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে এমএনপি সিস্টেম গড়ে তুলবে যা কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজ করবে। বেঁধে দেওয়া সময় গত বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে শেষ হলেও চালু হয়নি এমএনপি। পরে একই বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেয় বিটিআরসি। ওই কমিটিকে এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি কাজের জন্য কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে আগস্ট মাসে প্রতিবেদন দেয়। সেটি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে এমএনপি চালু করতে ৫ বছর সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

/এইচএএইচ/এফএ/আপ-এসএম

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।