সকাল ১১:২২ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

যুবরাজ প্রস্থানের দুই বছর

প্রকাশিত:

বিনোদন প্রতিবেদক।।

নাট্যাঙ্গনের ‘যুবরাজ’ খালেদ খান। যুবরাজ নামেই যিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। মঞ্চ ও টিভি নাটকের অনবদ্য এই অভিনেতা-নির্দেশকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ রবিবার (২০ ডিসেম্বর)। ২০১৩ সালের এই দিনে ৫৫ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তিনি স্ত্রী বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী মিতা হক ও একমাত্র মেয়ে ফারহিন খান জয়িতা এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুর আগে খালেদ খান দীর্ঘদিন ধরে মোটর নিউরন সমস্যায় ভুগছিলেন। এর ফলে তার শরীরের মাংসপেশি অকেজো হয়ে যায়।

১৯৫৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা। শিক্ষাজীবনে ১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম এবং ১৯৮৩ সালে ফিন্যান্স বিষয়ে এমকম সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ ২৮ বছর নিয়মিত থিয়েটার ও টিভি নাটকে অভিনয় করে শক্তিমান এক অভিনেতায় পরিণত হয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে নব্বই দশকে একাধিক টিভি নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। ১৯৭৮ সালে নাগরিক নাট্য সমপ্রদায়ের সদস্য হিসেবে মঞ্চ নাটকে তার যাত্রা শুরু হয়। মঞ্চে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘অচলায়তন’, ‘নুরালদীনের সারা জীবন’, ‘ঈর্ষা’, ‘দর্পণ’, ‘গ্যালিলিও’ ও ‘রক্তকরবী’।

‘ঈর্ষা’ নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি কলকাতা থেকেও ডাক পান। নাটকে সফলভাবে পথচলার পর নির্দেশনাও শুরু করেন খালেদ খান। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্তধারা’, ‘পুতুল খেলা’, ‘কালসন্ধ্যায়’, ‘মাস্টার বিল্ডার’, ‘ক্ষুদিত পাষাণ’সহ  বেশ কিছু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় আলী যাকের, সারা যাকের, আতাউর রহমান, ফেরদৌসী মজুমদারদের অভিনয় দেখে অনুপ্রাণিত হতেন খালেদ খান।

যুবরাজের মঞ্চ জীবনের কোলাজ

১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে টিভি নাটকে অভিষেক হয় তার। তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক হলো ‘সিঁড়িঘর’। এরপর অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করে দর্শক হৃদয় জয় করেছেন। একাধিক নাটকে তার বেশ কিছু সংলাপও জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে নব্বই দশকের নাটক ‘রূপনগর’ এ তার ‘ছিঃ ছিঃ, তুমি এত খারাপ’ শীর্ষক সংলাপটি চলে আসে মানুষের মুখে মুখে। তার অভিনীত জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  ‘এইসব দিনরাত্রী’, ‘কোন কাননের ফুল’, ‘রূপনগর’, ‘মফস্বল সংবাদ’, ‘অথেলো এবং অথেলো’, ‘দমন’, ‘লোহার চুড়ি’, ‘সকাল সন্ধ্যা’সহ বেশ কিছু।

মঞ্চ ও টিভি নাটকের ক্ষেত্রে খুব বেছে কাজ করার পক্ষপাতি ছিলেন খালেদ খান। সে কারণে তার করা বেশিরভাগ নাটকই ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। অভিনয়ের পাশাপাশি পেশাগতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় কর্মরত ছিলেন এ মানুষটি। এর মধ্যে ১৯৮৯ সালে ‘অক্সফাম’ নামক একটি এনজিওতে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পদে বেক্সিমকো ফার্মায় কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সালে একুশে টিভির জেনারেল ম্যানেজার, ২০০২ সালে ইউনিভার্সাল টেলিভিশনের হেড অব প্রোগ্রাম ও নিউজ, ২০০৫ সালে বেঙ্গল গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, ২০০৭ সাল থেকে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে ডেপুটি ডিরেক্টর (এডমিনিস্ট্রেশন) এবং ২০০৯ সাল থেকে সর্বশেষ তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মঞ্চ নাটকে অনবদ্য অবদানের জন্য ‘মোহাম্মদ জাকারিয়া পদক’, সেরা অভিনেতা হিসেবে ‘নুরুন্নাহার স্মৃতিপদক’, সেরা পরিচালক হিসেবে ‘সিজেএফবি’ পুরস্কার এবং সেরা টিভি অভিনেতা হিসেবে ‘ইমপ্রেস-অন্যদিন’ পুরস্কার অর্জন করেছিলেন তিনি।

শেষদিকে স্ত্রী মিতা হক ও ভাতিজি অমৃতা খানের সঙ্গে

/এস/এমএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।