রাত ১১:১৩ ; শনিবার ;  ২০ এপ্রিল, ২০১৯  

‘যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যবহার হবে’

প্রকাশিত:

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‌‌‘অচিরেই যুদ্ধাপরাধীদের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের কোনও আইন নেই। এ জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে। বাংলাদেশের আর কোনও মুক্তিযোদ্ধা অবেহেলিত থাকবে না। আগামী জুলাই থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের বছরে ২টি উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।’

শনিবার কাশিয়ানী মুক্ত দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সহ-সভাপতি ইসমত কাদীর গামা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মুজিবর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মুজিবর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন (অব.) নুর মোহাম্মদ বাবুল, গোপালগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বদরুদ্দোজা বদর।

কাশিয়ানী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ মো. এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মো. মোক্তার হোসেন, এস এম মহসীন আলী, খান ওলিউর রহমান, শরীফ মো. মনিরুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ প্রজম্মের মো. মশিউর রহমান খান, খালিদ হোসেন লেবুসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবেন না। জামায়াতে ইসলামী ৭১ এর ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করতে চাননি। তিনি ওয়ার কাউন্সিল গঠন করতে চেয়েছিলেন। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিদেশে যেতে সহায়তা করেছেন। রাজাকার, আলবদরদের পুনর্বাসিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করেছেন। এসব কাজের জন্য জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করা হবে।

তিনি বিএনপি জামায়াতকে কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে বলেন, পাক বাহিনী যেমন ৭১ এ  মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধের সাহস পায়নি। তেমনি তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াতও চোরাগোপ্তা হামলা করে মানুষ হত্যা করছে। এখন তারা বিদেশিদের হত্যা করে এ দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। মানুষ হত্যা করে কোনও দিন রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করতে হয় রাজপথে।

এর আগে সকালে মন্ত্রী কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া সম্মুখ সমরে শহীদদের স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকার পর মন্ত্রী ফাতেহাপাঠ ও শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

/জেবি/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।