বিকাল ০৫:৪২ ; শুক্রবার ;  ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮  

১৯ ডিসেম্বর কাশিয়ানী মুক্ত দিবস

প্রকাশিত:

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।।

আজ ১৯ ডিসেম্বর কাশিয়ানী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা হানাদারমুক্ত হয়। মিত্র ও মুক্তি বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনীর দখলে থাকা কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া ওয়্যারলেস স্টেশন ক্যান্টনমেন্টের পতন ঘটে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হলেও কশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ওড়ে ১৯ ডিসেম্বর সকালে।

গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর-নড়াইল জেলার সীমান্তে অবস্থিত এবং ভৌগোলিক ও যুদ্ধের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন ও নদী বন্দর ভাটিয়াপাড়া দখল নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই হয় কয়েক দফা। পাকিস্তানি বাহিনীর ভাটিয়াপাড়া মিনি ক্যান্টনমেন্টটি গোপালগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। তবে ফরিদপুর-নড়াইল-গোপালগঞ্জ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল ভাটিয়াপাড়ার ওই মিনি ক্যান্টনমেন্ট।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ৭১ সালের মে মাসে এখানে ওই ওয়্যারলেস স্টেশনে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ সাত মাসব্যাপী ৬৫ পাকিস্তানি সেনার শক্তিশালী একটি গ্রুপ এখানে অবস্থান করে এলাকার নিরীহ মুক্তিকামী মানুষের ওপর নির্যতন, নিপীড়ন ও গনহত্যা চালায়। অনেক মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী সেসব লাশ ভাটিয়াড়ার দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীতে ভাসিয়ে দিত।

পাকিস্তানি মিলিটারির একটি দল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সংলগ্ন জয়বাংলা পুকুরপাড়ের মিনি ক্যান্টনমেন্ট থেকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ৬ ডিসেম্বর রাতে পালিয়ে গিয়ে ভাটিয়াপাড়ার ওই ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। ভাটিয়াপাড়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর মিনি ক্যন্টনমেন্টটির দখল নিয়ে এর আগে ৬ নভেম্বর দুটি মারাত্মক যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে টানা ১৫ ঘণ্টা পাকিস্তানি বাহিনীর যুদ্ধ হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘায়েল করতে পাকিস্তানির হানাদাররা বিমান থেকে গুলি ও বোমা বর্ষণ করতে থাকে। কিন্তু সেদিন অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটেননি। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী যথেষ্ট ঘায়েল হয়। ওই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা মীর মহিউল হক মিন্টু , সাধুহাটির এ কিউএম জয়নুল অবেদীন শহীদ হন।

ওই অয়্যারলেস ক্যাম্প দখল নিয়ে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধ হয় ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিনে। ৩ দিন যুদ্ধের পর ১৯ ডিসেম্বর খুব ভোরে নড়াইল  গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের দিক থেকে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডাররা সম্মিলিতভাবে ভাটিয়াপাড়া ক্যান্টনমেন্টে আক্রমন চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক এ হামলা ও বীরোচিত সাহসী যুদ্ধে অবশেষে ১৯ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার দিকে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে ৬৫ জন পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করে। এ যুদ্ধে  ছায় পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। অপর দিকে মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান সিকদার, অনিল কুমার বিশ্বাস, মজিবর রহমান, মোহাম্মদ হান্নান শেখ  শহীদ হন।     

১৯ ডিসেম্বর ভাটিয়াপাড়ার ওয়্যারলেস স্টেশনের মিনি ক্যান্টনমেন্টে ওড়ানো হয় বাংলাদেশের মানচিত্র  ও লাল সূর্য খচিত গাঢ় সবুজ জমিনের বিজয় পতাকা। হানাদারমুক্ত হয় কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া সহ সমগ্র গোপালগঞ্জ অঞ্চল।

/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।