দুপুর ০১:৩৭ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৯ জুলাই, ২০১৮  

একযোগে প্রচারণায় নামবে ২০ দলীয় জোট

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। জোটের মহাসচিব পর্যায়ে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দু-একদিনের মধ্যে একযোগে প্রচারণায় নামারও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জোটের বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানিয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গুলশান-২ এ খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০ দল পৌর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে ২০ দলের প্রার্থীদের সর্বাত্মক সমর্থন রয়েছে। ২০ দলের সবাই সম্মিলিতভাবে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবে এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে বৈঠকে।

জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোটের বৈঠকে পৌরসভা নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়। একসঙ্গে প্রচারণায় মাঠে নামবে ২০ দলীয় জোট। মূলত, জোটগতভাবে প্রচারণায় নেমে আমরা বোঝাতে চাই, আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ বা অনৈক্য নেই। বৈঠকেও এটি বলা হয়েছে, ছোটখাট ভুলত্রুটি থাকলেও এগুলো সব দূর হয়ে যাবে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীরা গ্রেফতার আতঙ্কে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারছে না। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থীদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে জেলখানা ভরে ফেলা হচ্ছে।’ তিনি গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনারের (ইসি) অধীনে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি- এমন মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সরকার দলীয় হয়ে কাজ করছে। ইসির এটি একটি পরীক্ষা। এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে ইসি কতটুকু নিরপেক্ষ ও দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে পারেন।’

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, সরকারি দল ও মন্ত্রীরা ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছে। অনেক স্থানে বিএনপি প্রার্থীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ইসি কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তাদের প্রতিহতও করতে পারছে না। তারা ব্যর্থ হয়েছে। সরকারকে আহ্বান জানাবো সরকার যেন নির্বাচনে কোনও হস্তক্ষেপ না করে।’

জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে একটু সমস্যা আছে। স্থানীয়ভাবে নেতারা সমাধান করবে।’

মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের, ডিএল এর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, বিজেপির মহাসচিব আব্দুল মতিন প্রকাশ, মুসলিম লীগের মহাসচিব শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন একরাম, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা।

তবে ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীর কোনও প্রতিনিধি বৈঠকে ছিলেন না। বৈঠকে এ নিয়ে মির্জা ফখরুল শরিক মহাসচিবদের জানান, জামায়াতের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তারা কোনও কারণে আসতে পারছে না। তবে বৈঠকে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ থাকতে না পারলেও তাদের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান তিনি।

/এসটিএস/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।