রাত ০৮:৪৯ ; মঙ্গলবার ;  ১৬ জুলাই, ২০১৯  

আশ্রয় শিবিরে এখনও বহু বাংলাদেশি

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক।।

বিদেশে গেছেন স্বপ্নে বিভর সুন্দর জীবন গড়ার প্রত্যাশায়। কিন্তু বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে নিখোঁজ বা মারা গেছেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। শুক্রবার আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে স্মরণ করা হয়েছে নাম না জানা এমন অসংখ্য ব্যক্তিকে।

বিদেশে যেয়ে সুন্দর জীবন গড়ার স্বপ্ন থাকলেও নিখোঁজ বা প্রাণ হারানো এসব মানুষের পরিবার পার করছে এক একটি অনিশ্চিত দিন।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলো বলছে, এখনও বিশ্বের কয়েকটি দেশের আশ্রয় শিবিরে আটকে রয়েছেন অনেক বাংলাদেশি যাদের খবর হয়তো তাদের পরিবারগুলো জানে না।

যশোরের শারশার বর্গাচাষি বাবুল আখতার দুই বছর আগে সমুদ্রপথে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কম খরচে মালয়েশিয়ার যাওয়ার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে অবৈধপথে যাত্রা শুরু করলেও দু’বছরের ব্যবধানেও তার কোনও খোঁজ পায়নি পরিবার।

বাবুল আখতারের স্ত্রী রিপা বলছিলেন, ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে তার স্বামী বাড়ি থেকে বের হন। দুই বছরে তার কোনও খোঁজ পাননি তিনি।

তার কোনও খোঁজ না পেয়ে রিপা দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রিপা বলেন, ‘সরকারি একটা কার্ড দিয়ে চাল আনি দু’বছর, চোখে না দেখলে আমার কষ্ট বোঝা যাবে না। দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে কিভাবে আছি তা শুধু আমি জানি।’

এ বছরের মার্চ মাসে নরসিংদী জেলার আব্দুর রশিদ একইভাবে সমুদ্রপথে বিদেশে যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন।

প্রথমে তার পরিবারের মানুষ জানতেন না ঠিক কোন দেশে তিনি যাচ্ছেন। একমাস পরে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফোন আসে আব্দুর রশিদের পরিবারের কাছে।

তার ছেলে স্বপন বলছিলেন, এরপরের চারমাস আর কোনও খোঁজ পাননি তার বাবার। চলতি বছরের অক্টোবরে তার বাবার মরদেহ তারা পান মালয়েশিয়া থেকে।

‘আমরা তিন ভাই, আমি বড় এবার ডিগ্রি পরীক্ষা দিতাম। আব্বুর এই ঘটনায় আমি পরীক্ষা দেইনি, আমার দুই ভাইয়ের পড়াশোনা এখন বন্ধ। আমি একটা কাজ খুঁজছি,’ বলছিলেন স্বপন।

নরসিংদীর আব্দুর রশিদ এবং যশোরের বাবুল আখতারের মতো নিখোঁজ রয়েছেন বা মারা যাওয়ার খবর রয়েছে আরও পরিবারে।

সিলেটের নারীশ্রমিক রিপন বেগম দুবাই যেয়ে দুই বছর ধরে নিখোঁজ বলছিলেন তার স্বামী। একইভাবে যশোরের তানভীর হোসেনের কোনও হদিস পাচ্ছেন না তিন বছর ধরে তার ভাই মহিউদ্দিন।

জাতিসংঘের এক হিসাবে দেখা গেছে, বর্তমানে নৌকায় করে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা মোট সংখ্যার ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি।

এই বিপদজনক পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে হচ্ছেন নিখোঁজ আবার অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। তবে এদের কেউ কেউ বিভিন্ন দেশের আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন। যাদের খোঁজ তাদের পরিবারের কাছে আসছে না।

এশীয় অঞ্চলে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে ক্যারাম এশিয়ার কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেছেন- মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের আশ্রয়ক্যাম্পে এখনও অনেক বাংলাদেশি আটক রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার একটা ক্যাম্পে আছে দুইশর মতো বাংলাদেশি, সম্প্রতি আরেকটি ক্যাম্পে ১২ জনের খবর পেয়েছি। থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার ক্যাম্পগুলোতে ছড়ানো ছিটানো রয়েছে আরও অনেকে।’

এই ব্যক্তিরা কোনও আশ্রয় শিবিরে আছেন কিনা সেটার যেমন কোনও তথ্য পরিবারের কাছে নেই আবার আশ্রয় শিবিরে আটকে থাকাদেরও উপায় নেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার।বিবিসি বাংলা।

/এআই /এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।