দুপুর ১২:৫৫ ; মঙ্গলবার ;  ১৩ নভেম্বর, ২০১৮  

মানবতাবিরোধী অপরাধ: নেত্রকোনার তিন মামলার দ্রুত বিচার দাবি

প্রকাশিত:

হানিফ উল্লাহ আকাশ, নেত্রকোনা।।

বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা হবে, এমনটাই আশা করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন নেত্রকোনার তিনটি মানবতাবিরোধী মামলার বাদিরা।

নেত্রকোনা সদরের বদিউজ্জামান মুক্তা হত্যাকাণ্ডে ১২ জনকে আসামি করে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট মামলা দায়ের করেন আলী রেজা কাঞ্চন। তিনি শহীদ বদিউজ্জামানের ভাতিজা। নেত্রকোনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের পর আদালত মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলার অন্যতম দুই আসামি আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহেরকে গ্রেফতার করে। মামলার বাকি আসামিরা হচ্ছেন শহিদুল্লাহ পিন্টু, শহিদুর রহমান মাজু, ফজলুর রহমান, মো. ইউসুফ, মিস্টার মিয়া, হাফিজ উদ্দিন মীর, আব্দুল ওয়াহাব খান রুনু, ফরিদ আহমদ, আব্দুর রশিদ ও  মানিক মিয়া। এদের মধ্যে শহিদুর রহমান মাজু, হাফিজ উদ্দিন মীর, মো. ইউসুফ মারা গেছেন এবং আব্দুল ওয়াহাব খান রুনু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

আলী রেজা কাঞ্চন বলেন, আমার চাচাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ‘জয় বাংলা’ বলে মৃত্যুবরণ করেছেন, তবু শত্রুর কাছে নত হননি।

আটপাড়া উপজেলা থেকে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা বিধান কুমার সরকার। আটপাড়ায় দিনেশ সরকার, শৈলেষ সরকার, প্রফুল্ল বালা সরকারসহ সাত নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত রাজাকার এনায়েত উল্লাহ, জজ মিয়া, রতনসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুানাল আমলে নিয়ে এর তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

মামলা দুটির অন্যতম সাক্ষী নেত্রকোনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার নূরুল আমিন। তিনি বলেন, শুধু মুক্তাকেই নয়, জেল থেকেও মানুষদের বের করে হত্যা করেছে। নারীদের নির্যাতন করেছে। নৃশংসভাবে হত্যা করেছে শিশুদের। মানবতাবিরোধী এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

পূর্বধলা উপজেলার বাড়হা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির। তিনি একাত্তরে স্থানীয় খালেক হত্যা মামলার আসামি করে চার রাজাকারের (হাফেজ আ. গফুর, মৌলানা আব্দুল মজিদ, খালেক তালুকদার ও আহম্মদ আলী) বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তকালে রাজাকার আব্দুর রহমানের নাম উঠে আসে। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালে মামলা রুজু করা হয়।

পরে এই মামলার অভিযুক্ত পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের সুনাইকান্দা গ্রামের আহাম্মদ আলী (৭৮) ও জারিয়া ইউনিয়নের বাড়হা গণকপাড়ার (দক্ষিণপাড়া) আব্দুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। মামলাটি যখন বিচারাধীন, তখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী আহম্মদ মারা যান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান খান জানান, মুক্তা হত্যা মামলাটি এখন তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। জেলার পূর্বধলা, আটপাড়া-মদন, দুর্গাপুর-কলমাকান্দার অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে। কয়েক মাসের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে।

হান্নান খান আরও বলেন, তদন্ত কাজে বিশ্বমান বজায় রাখছি। আমি ইতোপূর্বে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যা মামলার তদন্তের প্রধান তদারকি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছি। সরকার আমাকে আস্থাভাজন ভেবে এই দায়িত্ব দিয়েছে। তদন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।

 

/এইচকে/এফএ/

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।